মঙ্গলবার ২১ নভেম্বর ২০১৭ || সময়- ১২:৫৮ pm
ভ্যাট প্রত্যাহারের আহবান দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের
শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ , ৩:৩৪ pm
Emajuddimn

প্রহরনিউজ ডেস্ক
ঢাকা:
সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট আরোপের বিরোধিতা করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মানেই আমরা ধরে নেই এখানে বিত্তবানদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করে। কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এখন মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসছে। ফলে তাদের জন্য উচ্চশিক্ষায় ভ্যাট দেয়া সম্ভব হবে না।

উন্নয়নশীল কোনো দেশেই শিক্ষায় ভ্যাট নেই। শিক্ষাকে সরকার অধিকার বললেও সে সরকারই আবার একে পণ্যে পরিণত করছে। প্রতি বছর সরকার নতুন নতুন পণ্যের ওপর ভ্যাট আরোপ করে। এবার তারা শিক্ষাকেও পণ্যের কাতারে নামিয়ে একইভাবে ভ্যাট আরোপ করেছে। এতে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে অকার্যকর করতেই  বেসরকারি শিক্ষার্থীদের ওপর ভ্যাট আরোপ করেছে বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ। তারা বলেন শিক্ষা পণ্য নয় অধিকার। ভ্যাট প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমদ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ পরামর্শ দেন। অর্থমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়ে এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়ে কিছু লেখাপড়া করুন। অন্যথায় কথা না বলে চুপচাপ বসে থাকুন। অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য তিনি আরো বলেন, একদিকে শিক্ষকদের নিয়ে বাজে কথা বলার পর নিজের ভুল স্বীকার করেছেন, অপরদিকে আবার শিক্ষার্থীদের ওপর ভ্যাট আরোপ করেছেন। এটা আপনার সবচেয়ে বড় অপরাধ। তাই নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চান। শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি, শিক্ষকদের ক্ষেত্রে  বৈষম্য ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, আমি আশা করি, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। শিক্ষার্থীদের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার করে নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইবেন তিনি। অন্যথায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে বলেও সতর্ক করেন বিশিষ্ট এ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। : এমাজউদ্দীন আহমদ অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষায় সরকার শিক্ষার্থীদের ওপর ভ্যাট আরোপ করেছে। যাতে তারা আরো কিছু দিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেন। তিনি সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অবহেলা করবেন না। বরং এদের সাহায্য ও সহযোগিতা করুন। অন্যথায় আজ যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গড়ে উঠেছে তার ফল আপনাদের জন্য ভালো হবে না। সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করছে। এই  ছাত্রছাত্রীদের জন্য আপনারা কোন অর্থ খরচ করেন না। অথচ কোন যুক্তিতে আপনারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের উপর ভ্যাট আরোপ করলেন? বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে অকার্যকর করতেই বেসরকারি শিক্ষার্থীদের ওপর ভ্যাট আরোপ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তিনি এইচএসসি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষাব্যবস্থা চালু করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শ্যামা ওবায়েদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।   : এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শিক্ষার ওপর ভ্যাট একেবারেই অপ্রত্যাশিত। এখানে ভ্যাট কেমন করে আসে আমার বোধগম্য নয়। আর ভ্যাট দিতে হবে শিক্ষার্থীদেরই। বিশ্ববিদ্যালয়কে ভ্যাট দিতে হবে-এনবিআরের এমন বক্তব্যের ব্যাপারে বলেন, এ ক্ষেত্রেও তারা শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেবে। যদি ট্যাক্স বসাতে হয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের ওপর ট্যাক্স বসাক। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে যে এখন বড়লোকের ছেলেমেয়েরা পড়ে এটা ঠিক নয়। অনেক মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরাও পড়ে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান সংকুলান না হওয়ায় তারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। যদিও খরচ অনেক। আর এ ভ্যাটটাও আলটিমেটলি তাদের ওপরই পড়বে। তিনি বলেন, সাড়ে ৭%-এর কথা বলে ১০% নিয়ে নেবে। তার কারণ এরা তো অসহায়। বিশ্ববিদ্যালয় যা চাইবে তাই দিতে হবে। শিক্ষার ওপর ভ্যাট আরোপ উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আনু মুহাম্মদ তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ব্যক্তি বা গোষ্ঠী মালিকানাধীন বাণিজ্যিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বেতন ফি অনেক বেশি। তার মানে এটা নয়, এখানে যে শিক্ষার্থীরা পড়ে তারা সবাই সচ্ছল বা বিত্তবান পরিবারের সন্তান। বরং অধিকাংশই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা। সর্বজন বা পাবলিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থান সংকুলানের অভাবে এসব প্রতিষ্ঠানেই ভর্তি হচ্ছে তারা, বাজার বুঝে এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও অনেক বেড়েছে। ধারদেনা করে, জমিজমা বেচে, বাড়তি কাজ করে অভিভাবকরা সন্তানকে পড়াচ্ছেন যাতে সন্তানের অবস্থা বদলায়, তাদের মতো না থাকে। এদের ওপর ভ্যাট আরোপ করা ছাড়া সরকারের আয় বাড়ানোর আর কোনো জায়গা নেই? জায়গা তো অনেক। দুর্নীতি আর লুটপাট শতকরা ১ ভাগ কমালেই এর থেকে বেশি অর্থসংস্থান হতো। সরকারের বরং উচিত ছিল এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিশ্চিত করা, সার্টিফিকেট বিক্রির দোকানগুলো বন্ধ করা এবং শিক্ষা বণিকদের যথেচ্ছাচার বেতন ফি নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে সর্বস্ব দেয়া মানুষরা ভয়ঙ্কর প্রতারণা থেকে বাঁচতে পারে। না, এর কোনোদিকেই সরকার বা অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি নেই। শিক্ষাবাণিজ্য সম্প্রসারণ, সকল পর্যায়ের শিক্ষকদের অপমান এবং শিক্ষার্থীদের ওপর আরও বোঝা চাপানোতেই যেন তাদের আগ্রহ।

 

প্রহরনিউজ/পাঠকের মতামত/তামান্না/১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫