বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ৯:৪৪ pm
মরে বেঁচে গেলেন তনু
শনিবার ২ এপ্রিল ২০১৬ , ২:৩৯ pm
সোহাগী জাহান তনু

কাজী রুনা, অলবোর্গ (ডেনমার্ক) থেকে
অলবোর্গ : গত ২০শে মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় সোহাগী জাহান তনুর লাশ উদ্ধারের পর দুই সপ্তাহ পার হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এ ঘটনায় অপরাধীকে শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কি হয়েছিল তনুর সঙ্গে তা আমরা জানি, কেননা তনুর মৃতদেহে ছিল নির্মম নির্যাতনের চিহ্ন। তার সঙ্গে যে একটা ভয়ানক ও জঘন্য অপরাধ হয়েছে সেটা আমরা সবাই বুঝতে পেরেছি, শুধু যারা ভয়ানক অপরাধটা করেছে তারা এখনও পর্দার আড়ালে। অন্যদিকে হয়রানি, ভোগান্তি আর মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে তনুর পরিবারকে। তনুর পিতা ইয়ার হোসেন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট তনু কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। আর্থিক অসচ্ছলতার কারনে টিউশনি করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে হতো তাকে। গত ২০শে মার্চ টিউশনি করতেই বের হয়েছিলেন তনু। রাত আটটায় বাসায় ফেরার কথা থাকলেও ১০টা নাগাদও যখন ফেরেনি তখন পিতা ইয়ার হোসেন অফিস থেকে ফেরার পর মেয়েকে খুঁজতে বের হন। বাড়ি থেকে কিছু দূরে যেতেই পেয়ে যান মেয়ের এক পাটি জুতো, এক গোছা চুল, মোবাইল ফোন ও সবশেষে কালভার্টের নিচে মেয়ের মৃতদেহ। পরদিন তিনি কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল  থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর  এতদিন কোন আসামিকে ধরতে না পারলেও পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে চলছে হয়রানি। গত ২৫ ও ২৬শে মার্চ তনুর মা-বাবা ও চাচতো বোনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তনুর মা অভিযোগ করেন, তার মেয়ের সঙ্গে ভিক্টোরিয়া কলেজের কোন শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল- এমন স্বীকারোক্তি আদায়ে চাপ দেয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের নামে তনুর চরিত্র হরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রাত ১২টার সময় এ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়ে চলে ফজরের নামাজ পর্যন্ত। তনুর মা আক্ষেপ করে বলেন কেন মেয়েকে বিয়ে দেননি এমন অবান্তর প্রশ্নও করা হয়েছে।
বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনা নতুন কোন বিষয় নয়। বরাবরই এ চিত্রটি ভয়াবহ। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র বলছে  ২০১৫ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮৪৬ জন নারী ও শিশু। এর মধ্যে ধর্ষণ-পরবর্তী সময়ে ৬০ জনকে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫ সালে সারা দেশে ১০৯২ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। মহিলা পরিষদের হিসাব অনুযায়ী ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে শতকরা ৩৫ ভাগ ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে।  তবে এ পরিসংখ্যানও যথেষ্ট হয়। কেননা, বাংলাদেশে ধর্ষণ এখনও এক নীরব অধ্যায়। অনেক ক্ষেত্রেই লোকলজ্জা আর হয়রানির ভয়ে ধর্ষণের মামলা করে না ভুক্তভোগী। আর এসব কারণেই অনেক ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। আশার কথা হচ্ছে তনুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। সাইবার দুনিয়া থেকে প্রতিবাদের মঞ্চ সব জায়গাতেই বিচারের দাবি জোরালো হচ্ছে। বিচার চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তনুর পরিবারকে হয়রানি বন্ধ করতে আন্দোলন চালাতে হবে।

 


** [প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে facebook.com/prohornewscom/ ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে Like দিন, অ্যাক্টিভ থাকুন সারাক্ষণ। পোস্টটি ফেসবুকে শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ দিন]
 

 
প্রহরনিউজর/পাঠকের মতামত/আলী/২ এপ্রিল ২০১৬