শনিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ১২:৫৮ am
হারিয়ে যাচ্ছে কবি জীবনানন্দ দাসের ধানসিঁড়ি নদী
শুক্রবার ২২ এপ্রিল ২০১৬ , ১১:৩৪ pm
Jhalokathi dansere node pic

মোঃ সাকিবুজ্জামান সবুর, ঝালকাঠি
ঢাকা : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার রূপসী বাংলার কবি জীবননানন্দ দাসের ঐতিহ্যবাহি ধানসিঁড়ি, পোনা ও জাঙ্গালিয়াসহ এক সময়ের খড়স্রোতা নদীগুলো বেপরোয়া দখল-দূষণে নব্য সঙ্কটে জৌলস হারিয়ে দিন দিন মরে যাচ্ছে। এখন নদীগুলো শুকিয়ে অস্তিত্ব সঙ্কটে পরে মরা খালে পরিনত হয়েছে, অনেকগুলো আবার নালায় পরিনত হয়েছে। ফলে নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পরেছে। এ উপজেলার প্রধান প্রধান নদী ধানসিঁড়ি, বিষখালি, পোনা, জাঙ্গালিয়াসহ অসংখ্য শাখা নদী শুকিয়ে গেছে। সামান্য অংশজুড়ে অস্তিত্ব নিয়ে কোনোমতে টিকে আছে ঐতিহ্যবাহি এসব নদী। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে উপজেলার প্রধান নদীগুলোয় নাব্য না থাকায় অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয় এ জনপদের মানুষ। উপজেলা বিভিন্ন গ্রামে দেখা দেয় তীব্র পানি সংকট। ধানসিঁড়ি নদী রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ ধানসিঁড়ি নদী নিয়ে তার কবিতায় লিখেছিলেন, আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে- এই বাংলায় হয়তো মানুষ নয়- হয়তো বা শংখচিল শালিখের বেশে....। নেই ধানসিঁড়ি আজ অস্তিত্ব সংকটে কবি বেঁচে থাকলে হয়তো ধানসিঁড়ির এ দুর্দশা নিয়েও কবিতা লিখতেন।

 ২০১০-১১ অর্থবছরে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ধানসিড়ি নদীর উৎসমুখ থেকে সাড়ে সাত কিলোমিটার পশ্চিমে খননের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ওই সময় সাড়ে চার কিলোমিটার খনন করা হয়েছিল। নিয়মিত বরাদ্দ না দেওয়ায় পরের সাড়ে তিন কিলোমিটার আর খনন করা হয়নি। প্রায় আট কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে ধানসিঁড়ি নদীর রাজাপুর অংশের অবস্থা বড়ই করুন। ধানসিঁড়ি নদীর রাজাপুর অংশে খননের অভাবে ও বাগড়ি বাজার গরুর হাট এলাকায় দখল হওয়ার কারণে নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডে মাধ্যমে ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজাপুর অংশের প্রিংড়ি-বাগড়ি-বাঁশতলার মোহনা পর্যন্ত খনন করা হয়েছিল। কিন্তু উৎসমুখ ভরাট হওয়ায় নদীর ওই অংশ আবারও ভরাট হয়ে গেছে। পুরো খনন না হওয়া আরও খননকৃত অংশ সঠিকভাবে গভীর না হওয়ায় খননকৃত অংশও দ্রæত ভরে গেছে। তা ছাড়া যত্রতত্র মাছ ধরার ঝাউ দেওয়ার কারণেও বাঁশতলা মোহনার বিভিন্ন পয়েন্টে পলি জমে নাব্যতা হারিয়েছে ধানসিঁড়ি। জাঙ্গালিয়া নদী উপজেলা সদরের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে ধানসিঁড়ি ও বিষখালি শাখা নদী জাঙ্গালিয়া। জাঙ্গালিয়া নদীটি বাগড়ি, মেডিকেল মোড় ও বাজার এলাকায় ব্যাপক দখল হওয়ায় এখন মরা খালে পরিনত হয়েছে। নদীর উভয় তীরে নদী দখল করে বসতাবাড়ির পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে ভূমিদস্যুরা। তাই নদীর অনেকাংশ ছোট হয়ে মরা খাল হয়ে গেছে। পোনা নদী রাজাপুর উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুরের আংগারিয়া গ্রামের সত্যনগর এলাকার জাঙ্গালিয়া নদী থেকে শুরু করে আংগারিয়া, আলগী, জীবনদাসকাঠি, কৈবর্তখালী, গালুয়া, চাড়াখালি গ্রাম হয়ে ভান্ডারিয়ার কচানদী পর্যন্ত বাঁকে বাঁকে প্রায় ১৫-২০ কিলোমিটার দীর্ঘ পোনা নদী। এক সময় নদী থেকে আসা পলি মাটির কারনে নদীর দু’পাশের কৃষকরা অধিক ফসল ফলাতো। মাছও জন্মাতো প্রচুর। কিন্তু বর্তমানে এ নদীটি মরা খালে পরিনত হওয়ায় তীরবর্তী অনেক গ্রামে পানি সঙ্কট দেখা দেওয়ায় কৃষকরা চাষাবাদ করতে পারছে না। ১৯৫০ সালের পরবর্তী সময়ে মাত্র ১০ ফুট গভীরতায় এ নদীটি খনন করা হয়েছিল। দেশ স্বাধীণ হওয়ার পরে নাম মাত্র কয়েকবার খনন করা হলেও পূর্বের যৌবন ফিরিয়ে আনতে না পাড়ায় নদীটি বর্তমানে মরা খালে পরিণত হয়েছে। রাজাপুর শহরের খালগুলো দিন দিন ভূমি দস্যুরা বিভিন্ন কৌশনে দখল করলেও সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনসহ কারই মাথা ব্যাথা নেই।

 

** [প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে facebook.com/prohornewscom/ ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে Like দিন, অ্যাক্টিভ থাকুন সারাক্ষণ। পোস্টটি ফেসবুকে শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ দিন]
 

 

প্রহরনিউজ/শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতি/এমএস/২২ এপ্রিল ২০১৬