বুধবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ১১:৪২ am
হারিয়ে যাচ্ছে হাওয়াই মিঠাই
শনিবার ৩০ এপ্রিল ২০১৬ , ৪:০৭ pm
3

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা
গাইবান্ধা : হাওয়াই মিঠাই। হাওয়াই মিঠাই। মুখে দিলেই হাওয়ার মতো মিলিয়ে যায়। বলে গ্রাম্যে গ্রাম্যে হাক ঢাকিয়ে বিক্রী করতো হাওয়াই মিঠাই ফেরিওয়ালারা। শিশুদের পছন্দের খাবার মন ভোলানো হাওয়াই মিঠাই। তবে বড়দের পছন্দের খাবারের তালিকায়ও কম যায় না। চিনি দিয়ে তৈরি এ খাবারটি গ্রামে ঘুরে ঘুরে বিক্রি হলেও এখন কালের পরিক্রমায় তা প্রায় বিলুপ্তির পথে। 

বংশ পরাম্পরায় শখের বসে অনেকে এতদিন হাওয়ায় মিঠাই ব্যবসা চালিয়ে আসলেও দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে হাওয়াই মিঠাইয়ের ফেরিওয়ালারা। কারণ ডিজিটাল যুগে এখন হাতের ছোঁয়া ছাড়া তৈরি হচ্ছে অনেক নামি-দামি সব খাবার। তবে যাই হোক না কেন হাওয়াই মিঠাই এর মধ্যে যে স্বাদ আর মজা আছে, তা অন্য কোনো খাবারে পাওয়া যায় না।

বিশেষ প্রক্রিয়ায় চিনিকে তাপ দিয়ে বিশেষ মেশিনে হাত দিয়ে ঘুরিয়ে হাওয়ায় মিঠাই তৈরি করা হয়। সাদা ও গোলাপি দু’ধরনের হাওয়ায় মিঠাই হয়ে থাকে। গ্রামে ভ্যানের উপর হাওয়ায় মিঠাই তৈরির সরঞ্জাম নিয়ে হাওয়ায় মিঠাই তৈরি করতে দেখা যায়। কাঁচ দিয়ে ঘেরা বাক্সে ছোট ছোট গোলাকার এবং বড় আকারে হাওয়াই মিঠাই পলিথিনে মুড়িয়ে বাঁশের সাথে বেঁধে ফেরিওয়ালারা বিক্রি করেন।

পলাশবাড়ী উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে হাওয়াই মিঠাই কেনার সময় কয়েকজন শিশু বলেন, হাওয়াই মিঠায়ের মজাই আলাদা যা অন্য কোনো খাবারের মধ্যে পাওয়া যায় না। এটি মুখে দেওয়া মাত্র হাওয়ার মতো মিলিয়ে যায়। আমাদের খুব ভাল লাগে। এটি আমাদের খুব প্রিয়।
এছাড়াও গ্রামে একসময় ঘুরে ঘুরে হাতে পিতলের একটি ঘন্টা টুং টাং করে বাজিয়ে আওয়াজ হলেই বুঝা যেত হাওয়াই মিঠাই আসছে। ঘন্টা আওয়াজ শুনে বাচ্চারা ছুটে যায়; টাকা অথবা পুরনো লোহা জাতীয় পদার্থ, প্লাস্টিক, ব্যাটারি, জুতা, হাঁস-মুরগির ফোঁড়ের বিনিময়ে হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করতে দেখা যায়।
পলাশবাড়ী উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের খোরশেদ প্রায় ২০/২৫ বছর থেকে হাওয়াই মিঠাই তৈরি করছেন। হাওয়াই মিঠাই তৈরি করেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। 

তিনি জানান, হাওয়াই মিঠাই এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবে বংশ পরাম্পরায় ধরে রাখতে এ ব্যবসা চালিয়ে আসছি। আমার সন্তানরা হয়তো এ ব্যবসার সাথে যুক্ত হবে না। আমার আমলেই হয়তো শেষ হয়ে যাবে। তাই যতদিন পারব ব্যবসা চালিয়ে যাব। ব্যবসায় পরিশ্রম কম হলেও লাভ মোটামুটি ভাল। আমাদের গ্রামেও ৫/৬ জন এ ব্যবসা করেন।

তিনি জানান, হাওয়াই মিঠাই মূলত দু’ধরনের তৈরি করা হয়। সাদা এবং গোলাপি রঙের। সাদা হাওয়াই মিঠাই তৈরি করতে ২৫ গ্রাম চিনি খরচ হয়। চিনিসহ অন্যান্য খরচ বাবদ প্রায় পাঁচ টাকার মতো হয়। আর প্রতিটি হাওয়াই মিঠাই বিক্রি হয় দশ টাকা।
তবে গোলাপিটা তৈরিতে একটু বেশি খরচ হয়। এতে খাবারের গোলাপি রং মেশানো হয়। তবে সাদাটা বিক্রি করে পুষিয়ে নেয়া যায়। 

 

প্রহরনিউজ/সাহিত্য শিল্প ও সংস্কৃতি/তামান্না/৩০ এপ্রিল ২০১৬