সোমবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ৬:৩৭ am
সূর্যদীঘল বাড়ি থেকে আতিয়া মহল
শনিবার ২৫ মার্চ ২০১৭ , ৩:৫৮ am
আতিয়া মহল

নিউজ ডেস্ক
ঢাকা :
আরও একটি শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের মুখে সিলেটবাসী। ২০০৬ থেকে ২০১৭ সাল। দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলা হলেও এই ১১ বছরে সিলেটে তেমন জঙ্গি তৎপরতা চোখে পড়েনি। জেএমবির প্রধান শায়খ আবদুর রহমানকে টিলাগড়ের শাপলাবাগের সূর্যদীঘল বাড়ি থেকে গ্রেফতারের পর সিলেটে এটি দ্বিতীয় অভিযান।

২৫ মার্চ শনিবার দৈনিক সমকালে প্রকাশিত ‘‘সূর্যদীঘল বাড়ি’ থেকে ‘আতিয়া মহল’’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ সব তথ্য উঠে এসেছে।

এবার জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে অভিযান চালানো হয় দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ি পাঠানপাড়ায় ‘আতিয়া মহল’ নামক একটি বাড়িতে। সূর্যদীঘল বাড়ি অপারেশনের সময় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নেওয়া হয়েছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আতঙ্কে ছিলেন পুরো এলাকার লোকজন। এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন একটি ভবনের ২৭টি পরিবারের সদস্যরা।

শিববাড়ির পাঠানপাড়ায় পাঁচতলা ভবন আতিয়া মহলের নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে ‘জঙ্গিরা’ অবস্থান করছে এমন সন্দেহে বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ। ওই ভবনের বিদ্যুৎ ও গ্যাসলাইন সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ফলে আটকা পড়া বাসিন্দারা আছেন চরম আতঙ্কে। পরে পরিবারগুলোর কথা চিন্তা করে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। শিশু-নারীসহ আটকা পড়া বাসিন্দারা মোবাইল ফোনে তাদের উৎকণ্ঠিত স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

ইতোমধ্যে সোয়াট সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযানের অপেক্ষায় রয়েছেন। সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের আরামবাগের এক আস্তানা থেকে গ্রেফতার দুই জঙ্গির তথ্যের ভিত্তিতেই সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ির জঙ্গি আস্তানার খবর পান গোয়েন্দারা। পরে প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সাহায্যে বাড়িটি চিহ্নিত করা হয়। ঢাকার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা (সিটিটিসি) এই জঙ্গি আস্তানার বিষয়টি সিলেটের পুলিশকে অবহিত করে।

সকাল ৮টার দিকে আতিয়া মহল নামে পাঁচতলা ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে গুলি ছোড়া হয়। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। বার বার আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হলেও কোনো সাড়া দেয়নি জঙ্গিরা।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, একইভাবে ২০০৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি গোয়েন্দারা খবর পান নগরীর টিলাগড় সূর্যদীঘল বাড়ি নামে একটি ভবনে শায়খ আবদুর রহমান ও তার সঙ্গীরা লুকিয়ে আছে। জঙ্গিনেতা শায়খ আবদুর রহমানকে জীবিত গ্রেফতার করে অভিযান সফল করতে প্রায় দু’দিন লেগে যায়। রীতিমতো শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এই সময় কাটে। র‌্যাবের কমান্ডো দল দফায় দফায় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টায় সূর্যদীঘল বাড়ি ঘিরে অভিযান শুরু হয়। শায়খের সঙ্গে ওই বাড়িটিতে মোট ১২ জন ছিল। পরের দিন সকালে গ্যাস প্রয়োগ করার পর বাড়ির ভেতরে শিশুদের কান্নার শব্দ শোনা যায়। প্রাণহানি রুখতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাড়ির গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর নারী ও শিশুরা বেরিয়ে আসে।

শায়খ রহমানের কাছে বোমা ছিল। যাতে সে আত্মঘাতী কিছু না করতে পারে, সেজন্য তার ওপর বল প্রয়োগ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযান চলার সময় যাতে শায়খকে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে না হয়, সেজন্য বারবার তাকে বাইরে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ২ মার্চ সকাল সোয়া ৭টায় দেশের মোস্ট ওয়ানটেড শীর্ষ জঙ্গিনেতা শায়খ আবদুর রহমান সূর্যদীঘল বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। এভাবেই অবসান ঘটে দু’দিনের শ্বাসরুদ্ধকর রক্তপাতহীন অভিযানের।-সমকাল।