শনিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ১২:৫৮ am
পাহাড়ে বৈসাবি উৎসব শুরু
বুধবার ১২ এপ্রিল ২০১৭ , ২:৩১ pm
বৈসাবি উৎসব.jpeg

রাঙামাটি : পুরনো বছরের সব ময়লা, পাপ, আপদ, বিপদ, গ্লানি, ব্যার্থতা ধুয়েমুছে নতুন বছরের অপূর্ণতা পূরণসহ শুভ-মঙ্গলের প্রার্থনায় বুধবার সকালে নদীতে ফুল ভাসিয়েছে পাহাড়িরা। আর এর মাধ্যমেই পাহাড়ে শুরু হয়েছে তিনদিনের বৈসাবি বা বিজু উৎসব। বৃহস্পতিবার পালিত হবে উৎসবের মূলদিবস।

বুধবার সকাল সাড়ে ৬টায় রাঙামাটি রাজবন বিহারের পূর্বঘাটে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুল ভাসানো হয়। এসময় রাঙামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার, চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৃতি রঞ্জন চাকমাসহ সামাজিক, সুশীল সমাজ, প্রথাগত ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ পাহাড়ি নারী-পুরুষ এতে অংশ নেন।

এরপর সকাল ৯টায় শহরের গর্জনতলীতে ফুল ভাসায় ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী। ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ফুল ভাসানোর পর অনুষ্ঠিত হয় নৌকাবাইচ, বয়োজৈষ্ঠদের স্নান করানো, বস্ত্রদান, আলোচনা সভা, ঐতিহ্যবাহী গড়াইয়া নৃত্য ও পিঠা আপ্যায়ন।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। এছাড়া রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, জেলা পরিষদ সদস্য মো. মুছা মাতব্বর, পৌরসভা মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী ও মারমা সংস্কৃতি সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মংউচিং মারমা।

এদিকে উৎসবমুখর পরিবেশে রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড়িদের ঘরে ঘরে উদযাপিত হচ্ছে বৈসাবি। উৎসবের প্রথমদিন চাকমারা ফুলবিজু, মারমারা পাইংছোয়াই, ত্রিপুরারা হারিবৈসুক পালন করে।

Rangamati

বৃহস্পতিবার উদযাপিত হবে মূল দিবসটি। এদিন চাকমারা মুলবিজু, মারমারা সাংগ্রাইং আক্যা, ত্রিপুরারা বৈসুকমা নামে পালন করবে উৎসবটি। পরে শুক্রবার বাংলা নববর্ষের প্রথমদিন বা উৎসবের তৃতীয় দিন চাকমারা গোজ্যেপোজ্যে, মারমারা সাংগ্রাইং আপ্যাইং ও ত্রিপুরারা বিসিকাতাল নামে পালন করবে। এছাড়া ১৫-১৬ এপ্রিল রাঙামাটিসহ বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হবে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাইং জলোৎসব।

বৈসাবির সঙ্গে একাট্টা হয়ে আবহমান বাংলার বৈশাখী উৎসব উপলক্ষে রাঙামাটিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে বৈশাখী উৎসবের। নববর্ষের পহেলা বৈশাখ সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ গৃহীত হয়েছে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা।