বুধবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ১১:৩৩ am
পবিত্র জুমাতুল বিদা আজ
শুক্রবার ২৩ জুন ২০১৭ , ২:২২ am
জুমাতুল বিদা

ঢাকা: আল বিদা মাহে রহমজান। আজ পবিত্র মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার। যাকে বলা হয়ে থাকে পবিত্র জুমাতুল বিদা দিনটি মুসলিম বিশ্বের কাছে জুমাতুল বিদা নামে পরিচিত। এ দিনটি আল-কুদস দিবস হিসেবেও পালিত হয়। মূলত জুমাতুল বিদার মধ্য দিয়ে মাহে রমজানকে বিদায় সম্ভাষণ জানানো হয়।

এই দিনে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য ব্যাকুল থাকেন মুমিনগণ। দয়াময় প্রভুর দরবারে হাজিরা দিয়ে বিগলিত চিত্তে মাগফিরাত কামনা করেন। ইসলামের সূচনাকালে মদিনায় যখন রমজান মাসে রোজার বিধান নাজিল হয়, তখন থেকেই প্রতিবছর রমজানের শেষ জুমাকে বিশেষ গুরুত্বসহকারে আদায় করে আসছে মুসলিম উম্মাহ। তাই এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়, আজ জুমাতুল বিদায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হবে। এ ছাড়া দেশের প্রতিটি মসজিদে থাকবে ধর্মপ্রাণ মুসল্লির ভিড়। রমজানের বিদায়ি শুক্রবার মুসলমানদের জন্য অতি মূল্যবান। এ দিন সিয়াম শেষ হয়ে যাওয়ার সতর্কতামূলক দিবস।

পাশাপাশি এই একই দিন বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক আল-কুদস দিবস। প্রতি বছর রমজান মাসের শেষ শুক্রবার পালিত হয়ে থাকে, যা ১৯৭৯ সালে ইরানে শুরু হয়েছিল। এই দিবস পালনের উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা, জায়নবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ এবং ইসরাইল কর্তৃক জেরুযালেম দখলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা। জেরুজালেম শহর 'কুদস' বা 'আল-কুদম’ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় দিনটি এই নামে পরিচিত।

আল কুদস বা বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়তম স্থানগুলোর একটি, যেখানে রয়েছে মুসলমানদের প্রথম কেবলা মসজিদুল আকসা। বায়তুল মুকাদ্দাস বা জেরুজালেম মুসলমান ছাড়াও বিশ্বের ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কাছেও প্রিয় ও পবিত্র স্থান। খাতামুল আম্বিয়া হজরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র মেরাজ গমনকালে মসজিদুল আকসায় নামাজ আদায় করেন। তিনি ছিলেন নামাজে অংশগ্রহণকারী সব নবী-রাসুলের ইমাম। এ ছাড়া বনি ইসরাইলের নবী-রাসুলগণ যেমন হজরত মুসা, দাউদ, সুলায়মান এবং ঈসা (আ)-এর দ্বীন প্রচারের কেন্দ্র ছিল এই ফিলিস্তিন ভূমি। হজরত ইব্রাহিমের (আ) মাজার এখনো ফিলিস্তিনের আল-খলিল শহরে রয়েছে। হাজারো নবী-রাসুলের স্মৃতিচিহ্ন বুকে নিয়ে অবস্থান করছে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে আল-কুদস, মসজিদুল আকসা এবং আশপাশের এলাকাগুলো। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, আল কুদসের গুরুত্ব ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে কত বেশি।

বিগত শতাব্দীতে বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী ও উপনিবেশবাদী চক্র সাম্প্রদায়িক ইহুদি জায়নিস্টদের ইন্ধন জুগিয়ে ফিলিস্তিনের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তারা গণহত্যা চালিয়েছে এবং মুসলমান জনগণকে বর্বরোচিতভাবে শহর ও গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করেছে। ফিলিস্তিন জবরদখলদার সাম্প্রদায়িক ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিরা সংগ্রাম ও যুদ্ধ করে চলেছে। প্রতিবাদ করে আসছে বিশ্ববাসী।

ইরানে ইসলামি বিপ্লব বিজয়ী হওয়ার পর ইমাম খোমেনি ফিলিস্তিন ইস্যুকে ইসলামিকরণ করেন এবং পবিত্র জুমাতুল বিদায় আন্তর্জাতিক আল-কুদস দিবস পালনের আহ্বান জানান। ফলে ফিলিস্তিন ও আল-কুদস নতুন প্রাণ পেয়ে দখলমুক্ত হওয়ার আশায় বুক বেঁধেছে। আজ বিশ্বের নানা দেশে দিবসটি পালিত হবে। বিশ্ব থেকে জালিম দখলদাররা উচ্ছেদ হোক। শান্তিকামী জনগণ নাজাত পাক আর বায়তুল মুকাদ্দাস মুক্ত হোক; আমরাও এ কামনা করি মাবুদ মাওলার দরবারে।

 

 

প্রহরনিউজ/ধর্ম/এমএস/২৩ জুন, ২০১৭