সোমবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ৬:৩৬ am
শেখ হাসিনা বিশ্বের ১৮ নারী নেতার মধ্যে অন্যতম
শনিবার ১ জুলাই ২০১৭ , ১২:০৬ am
Richard+O

নিউজ ডেস্ক
ঢাকা :
যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বর্তমান ১৮ জন নারী নেতাকে নিয়ে লেখা একটি বইয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংগ্রাম ও অর্জনকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে ওই ১৮ জনের মধ্যে শেখ হাসিনা অন্যতম হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন।

‘উইমেন প্রেসিডেন্টস অ্যান্ড প্রাইম মিনিস্টারস’ অর্থাৎ ‘নারী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী’ শিরোনামের ওই বইয়ের প্রচ্ছদে সাতজন নারী নেতার ছবি স্থান পেয়েছে, যাঁদের একজন শেখ হাসিনা। বইটির লেখক যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মানবাধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদ রিচার্ড ও’ব্রিয়েন।

গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসির উইমেন্স ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ক্লাবে এ বইয়ের প্রকাশনা উৎসব হয়, যাতে সুধীসমাজের প্রতিনিধি, কূটনীতিক ও নারী ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন বলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

গ্রন্থটিতে শেখ হাসিনার গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একনিষ্ঠতা ও কঠোর পরিশ্রম, তাঁর জীবননাশের চেষ্টা এবং বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ঐতিহাসিক অর্জন লিপিবদ্ধে তিন পৃষ্ঠা উৎসর্গ করেন লেখক।

রিচার্ড ও’ব্রিয়েন বাংলাদেশকে অধিকতর স্থিতিশীল ও অধিকতর গণতান্ত্রিক এবং অপেক্ষাকৃত কম হিংসাত্মক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রয়াসের প্রশংসা করেন। এ প্রসঙ্গে লেখক বইটিতে শেখ হাসিনার একটি উক্তি উদ্ধৃত করেন, তা হলো—‘বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত ও ক্ষুধামুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই আমি গর্বিত হব। ’

বইটিতে প্রধানমন্ত্রীর পারিবারিক পটভূমির উল্লেখ করে বলা হয়, তাঁর পিতা শেখ মুজিবুর রহমান আধুনিক বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি দেশটির প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন। লেখক ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে উল্লেখ করেন, ওই সময় শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান।

ও’ব্রিয়েন ১৯৮১ সালে নির্বাসন থেকে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগকে পরিচালনার নেতৃত্বের পদে নির্বাচিত হয়ে তিনি নির্বাচনী কারচুপি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। সে সময় তাঁকে দমন ও নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং আশির দশকে তিনি গৃহবন্দি হন।

লেখক এরশাদের শাসনামলের উল্লেখ করে বলেন, সরকারের নির্যাতন সত্ত্বেও শেখ হাসিনা এতই প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় ছিলেন যে তাঁর চাপে ১৯৯০ সালে একজন সামরিক জান্তাকে পদত্যাগ করতে হয়। বইটিতে লেখক বলেন, অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার ১৯৯৭ সালে যুগান্তকারী পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, স্থলমাইনের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ এবং ক্ষুদ্রঋণ সম্মেলনে সভাপতিকে সহায়তা ও নারী কল্যাণ, গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাসহ অনেক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছেন।

রিচার্ড ও’ব্রিয়েন তাঁর গ্রন্থে শান্তি ও গণতন্ত্রের বিকাশে শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির উল্লেখ করে বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) মাদার তেরেসা পদক ও গান্ধী পদক অর্জন করেছেন।

 

 

প্রহরনিউজ/সুখবর/আশরাফ/৩০ জুন, ২০১৭