শনিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ১২:৫৮ am
৮ বছরে নতুন কোটিপতি ৪৭ হাজার : বাংলাদেশ ব্যাংক
শনিবার ১ জুলাই ২০১৭ , ২:৩০ pm
বাংলাদেশ ব্যাংক

অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা :
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে দেশে কোটিপতির সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার। কিন্তু ২০০৯ সাল থেকে ২০১৬ সালের শেষ পর্যন্ত এই অাট বছরে কোটিপতির সংখ্যা আড়াইশ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজারে। গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান এটি। 

শুধু কোটিপতির সংখ্যাই বাড়েনি, তাদের একাউন্টে জমাকৃত অর্থের পরিমাণও বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত আট বছরে কোটিপতিদের অ্যাকাউন্টে টাকার পরিমাণ বেড়ে হয়েছে মোট আমানতের ৪১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অথচ আট বছর আগে কোটিপতিদের অ্যাকাউন্টে মজুদের হার ছিল মোট আমানতের ৩০ শতাংশ।

তবে কোটিপতির সংখ্যা বাড়লেও কমেনি ঋণখেলাপির সংখ্যা। ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সংখ্যাও বাড়েনি। ২০০৮ সালে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের আমানত ছিল মোট আমানতের ৩৬ শতাংশ, গত বছর শেষে তা নেমেছে ৮ শতাংশে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সংখ্যা না বাড়ার অর্থই হলো দেশে অর্থনৈতিক বৈষম্য বেড়ে গেছে। ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে। অপর দিকে গরিবরা আরও গরিব হচ্ছে। এ বৈষম্য দূরীকরণের জন্য দারিদ্র্য বিমোচনমুখীনীতি বেশি করে গ্রহণ করতে হবে। 

বর্তমানে দেশে ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দুই লাখ দুই হাজার ৬২৩ বলে জাতীয় সংসদে তথ্য দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সম্প্রতি সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডেটাবেজের এই তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে ঋণখেলাপির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় খেলাপি ঋণের পরিমাণও বেড়ে গেছে। গত মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অবলোপনসহ বেড়ে হয়েছে এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের গত ডিসেম্বরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ব্যাংকিং খাতে এক কোটি এক টাকা থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত জমা রয়েছে এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজার। এসব অ্যাকাউন্টের বিপরীতে অর্থ মজুদ রয়েছে প্রায় তিন লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। আর ৭৫ লাখ টাকা থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত অ্যাকাউন্ট আছে ২৮ হাজার ৬৮৮টি। এর বিপরীতে অর্থমজুদ রয়েছে ২৫ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা। আর ৫০ কোটি টাকার ওপরে ব্যাংকে জমা রেখেছেন এমন ব্যক্তির সংখ্যা ৭৬৯। তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা মজুদ রয়েছে এক লাখ ছয় হাজার ৪২৭ কোটি টাকা।-অনলাইন।

 

প্রহরনিউজ/অর্থনীতি/আরমান/১ জুলাই, ২০১৭