শনিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ১২:৫২ am
নানা অজুহাতে বন্ধ হচ্ছে পোশাক কারখানা
বৃহস্পতিবার ৬ জুলাই ২০১৭ , ১:৩১ pm
Bondu_288x188.png

নিউজ ডেস্ক
ঢাকা:
চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি রোডে সানম্যান গ্রুপের পোশাক কারখানা গোল্ডেন হরাইজন লিমিটেড। ক্রয়াদেশের সংকট দেখিয়ে ২ জুলাই কারখানাটির একটি ইউনিট এক মাসের জন্য লে-অফ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এতে হঠাত্ করে কর্মহীন হয়ে পড়েন ঈদের ছুটি শেষে কাজে যোগ দিতে আসা ২ হাজার ৯০০ শ্রমিক।

একই দিনে বন্ধের নোটিস ঝোলানো হয় রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত আলিফ গ্রুপের পোশাক কারখানা হেক্সা গার্মেন্টস লিমিটেডে। কারখানাটিতে প্রায় ৭০০ শ্রমিক কাজ করতেন। নয়দিনের ঈদের ছুটি শেষে শ্রমিকরা কারখানায় গিয়ে মূল ফটকে বন্ধের নোটিস দেখতে পান।

নোটিসে কারখানা বন্ধের কারণ হিসেবে বলা হয়, ‘কারখানার ভবন অনেক পুরনো এবং অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ভাড়া করা ভবন হওয়ার কারণে ভবনটির সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করাও সম্ভব হচ্ছে না। এটি শেয়ার্ড বিল্ডিং। সরাসরি ক্রয়াদেশ না থাকা, কমপ্লায়েন্স অডিট করা ও অব্যাহত লোকসানসহ মালিকের নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে কারখানা পরিচালনা করা কর্তৃপক্ষের পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই কারখানা কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে ৪ জুলাই থেকে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করল। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রমিকদের যাবতীয় পাওনাদি পরিশোধ করা হবে। শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধের তারিখ আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে নোটিসের মাধ্যমে জানানো হবে।’

এদিকে ঈদের ছুটির পরই আকস্মিক কারখানা বন্ধের নোটিসে শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে উদ্বেগ। পূর্বঘোষণা ছাড়া কারখানার ফটকে বন্ধের নোটিস দেখে বকেয়া মজুরি ও কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে শ্রমিকদের মধ্যে। বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন তারা। ঢাকার কারখানার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বকেয়া আদায়ে জড়ো হচ্ছেন পোশাক শিল্পের মালিক প্রতিনিধিদের সংগঠন বিজিএমইএর সামনে।

৪ জুলাই বিজিএমইএর সামনে এসে জড়ো হন হেক্সা গার্মেন্টসের শ্রমিকরা। এ সময় বিজিএমইএর সামনে জড়ো হওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, নয়দিনের ছুটি পেয়েছিলেন তারা। ছুটির পর কাজে যোগ দিতে গিয়ে কারখানা বন্ধের নোটিস দেখতে পান। নোটিসে বকেয়া ও আইনি সুবিধার বিষয়ে উল্লেখ থাকলেও জুনের অর্ধেক মজুরি ও আইনি সুবিধাপ্রাপ্তি নিয়ে সংশয় থেকেই বিজিএমইএর সামনে জড়ো হয়েছেন তারা।

২৯ বছর ধরে হেক্সা গার্মেন্টস লিমিটেডে কাজ করছেন আবদুর রহমান। বর্তমানে তিনি কারখানাটির উত্পাদন ব্যবস্থাপক। হঠাত্ কারখানা বন্ধের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, শ্রমিকদের বকেয়া ও আইনি সুবিধা দিতে ১৪ জুলাই সময় দেয়া হয়েছে। কিন্তু কর্মচারীরা এখনো পাওনা বুঝে পাওয়ার কোনো তারিখ পাননি।

কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) সূত্র জানিয়েছে, গোল্ডেন হরাইজন ও হেক্সা গার্মেন্টসের বিষয়ে কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে রাজধানীর মালিবাগ ও খিলগাঁওয়ে দুটি কারখানা বন্ধের বিষয়ে সংস্থাটির কাছে তথ্য রয়েছে। কারখানা দুটি হলো মালিবাগের লিরিক অ্যাপারেল ও খিলগাঁওয়ের এসএইচবি। এ কারখানা দুটিও পূর্বঘোষণা ছাড়াই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ডিআইএফই ঢাকা কার্যালয়ের উপমহাপরিদর্শক জাকির হোসেন বলেন, এ ধরনের দুটি ঘটনা আমরা জানতে পেরেছি। শ্রমিকদের বকেয়া ও আইনি সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি নজরদারিতে রয়েছে।

শ্রমিক প্রতিনিধিরা বলছেন, প্রতি বছর ঈদের সময়টায় কারখানা বন্ধের প্রবণতা দেখা যায়। গত বছরও দুই ঈদের পর বেশকিছু কারখানায় পূর্বঘোষণা ছাড়াই বন্ধের নোটিস টানিয়ে দেয়া হয়েছিল। এবারো এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। শ্রমিক প্রতিনিধিদের দাবি, এরই মধ্যে পাঁচটি কারখানা বন্ধ হয়েছে, আরো ১০-১৫টি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূলত ক্রয়াদেশের সংকট দেখিয়ে কারখানা মালিকরা এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। আর সংগঠিত শ্রমিক বিক্ষোভ এড়াতেই পূর্ব আলোচনা ছাড়া কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে।

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, সংগঠিত শ্রমিকদের বিক্ষোভের আশঙ্কায় মালিকরা ঈদের ছুটিকে কারখানা বন্ধের জন্য উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নেন। এবার ঈদের পরেও এমনটি ঘটছে। মিরপুরের নিশাত গার্মেন্টস, লিবার্টিসহ ঢাকায় মোট পাঁচটি কারখানা বন্ধ হয়েছে। আরো ১০-১৫টি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


সূত্র : বণিক বার্তা

 

প্রহরনিউজ/অর্থনীতি/তাজ/৬ জুলাই, ২০১৭