বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭ || সময়- ৫:৫৩ pm
বিনিয়োগকারীদের আড়াই লাখ বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ
মঙ্গলবার ১১ জুলাই ২০১৭ , ১১:৩৬ am
BO-Account.png

অর্থনীতি ডেস্ক
ঢাকা:
শেয়ার লেনদেনে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্ট কমছে। গত এক বছরে অর্থাৎ ২০১৬ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বিও হিসাব কমেছে দুই লাখ ৪০ হাজার ৯৭৪টি। অর্থাৎ নবায়ন না করা ও শেয়ারে বিনিয়োগে ভালো করতে না পারায় বিনিয়োগকারীদের প্রায় আড়াই লাখ বিও হিসাব বন্ধ হয়ে গেছে। ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৪ জুলাই পর্যন্ত সময় ধরে বিও হিসাব কমার এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সিডিবিএল সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব নবায়ন না করায় ২০১৬ সালের জুন মাস শেষেও অনেক বিও হিসাব বন্ধ করা হয়েছে। ২০১৭ সালের জুন মাস শেষেও প্রায় ৩৫ হাজার বিও হিসাব বন্ধ করা হয়েছে। ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) হিসাব অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরের হিসাবে ২০১২ ও ২০১৩ সালে বিনিয়োগকারীর অ্যাকাউন্ট কমে। ২০১৪ সালে ১২ শতাংশ ও ২০১৫ সালে ৮ শতাংশ বিও হিসাব বৃদ্ধি পায়। আর ২০১৬ সালে বিও হিসাব কমেছে ১.৩ শতাংশ বা ৪০ হাজারের বেশি। ২০১৭ সালে বিও হিসাব বন্ধ বা কমার অঙ্কটি বেশি। নবায়নে নিয়মিত ফি না দেওয়া ও অনেকে বিনিয়োগকারী স্বেচ্ছায়ও হিসাব বন্ধ করেছে। ২০১৬ সালের জুন শেষে সিডিবিএলে বিনিয়োগকারীর অ্যাকাউন্ট ছিল ৩১ লাখ ৫৫ হাজার ৫৮৫টি। আর গত মঙ্গলবার বিও হিসাব দাঁড়িয়েছে ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬১১টি। সেই হিসাবে বিও হিসাব কমেছে দুই লাখ ৪০ হাজার ৯৭৪টি। বিদ্যমান বিও হিসাবের ১৮ লাখ ২৬ হাজার ৭৭১টি ব্যক্তিগত, ১০ লাখ ৭৬ হাজার ৩৪৭টি যৌথ হিসাব আর ১১ হাজার ৪৯৩টি কম্পানির বিও। এর মধ্যে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের হিসাব ২৭ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৯টি আর প্রবাসী বাংলাদেশিদের হিসাব এক লাখ ৫৬ হাজার ৬১৯টি।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ডিপোজিটরি (ব্যবহারিক) প্রবিধানমালা ২০০৩ অনুযায়ী বিও হিসাব পরিচালনায় ডিপোজিটরি অংশগ্রহণকারী বা বিনিয়োগকারীকে নির্ধারিত হারে বার্ষিক হিসাবরক্ষণ ফি প্রদান করতে হয়। ২০১০ সালের জুন মাসে বিএসইসি বিও হিসাব নবায়নে বার্ষিক ফি প্রদানে জুন মাস নির্ধারণ করে। একই সঙ্গে বিও নবায়ন ফি ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়। ২০১১ সালে বিএসইসি ৩০ জুনের মধ্যে বিও হিসাব নবায়নে বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। এই সময়ে নবায়ন না করলে বিও বাতিল করা হবে বলে জানানো হয়।

২০১০ সালে ধসের পর পুঁজি হারানো বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘ সময় পুঁজিবাজারের দিকে ফিরেও তাকায়নি। বিও অ্যাকাউন্টে শেয়ারের বিপরীতে মার্জিন ঋণ বেশি হওয়ায় অনেকে খোঁজ-খবরও রাখেনি। যার দরুন বিও হিসাব নবায়ন হয়নি। এতে অনেক বিও বাতিল করা হয়। নতুন নতুন বিনিয়োগকারীও বিও হিসাব খুলেছেন আর পুঁজিবাজারে ধরা খাওয়া অনেকে অন্য নামে হিসাব খুলে বাজারে সক্রিয় হয়েছেন।

সিডিবিএল সূত্র বলছে, নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে ফি না দেওয়ায় বিও হিসাব বন্ধ করা হয়েছে। কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে বছর বছর অনেক বিও হিসাবে কোনো শেয়ার নেই। আবার কোনো হিসাব শেয়ার লেনদেন ব্যবহৃত হয় না। যার জন্য হিসাব বন্ধ করা হচ্ছে। সাধারণত কোনো ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে একজন বিনিয়োগকারী বিও হিসাব খোলেন। আর সেই হিসাবের তথ্য সংরক্ষণ করে সিডিবিএল। বিও হিসাব খুলতে ৫০০ টাকা ফির সংশ্লিষ্ট ডিপজিটরি প্রতিষ্ঠান পায় ১০০ টাকা, সিডিবিএল পায় ১৫০ টাকা, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পায় ৫০ টাকা আর বাকি ২০০ টাকা যায় সরকারের কোষাগারে।

সিডিবিএলের হিসাব অনুযায়ী ২০১৫ সালের চেয়ে ২০১৬ সালে বিও হিসাব কমেছে ১.৩ শতাংশ। এক বছরে বিও হিসাব কমে ৪০ হাজার ২৬৭টি। ২০১৫ সালে বিও হিসাব ছিল ৩১ লাখ ৯৫ হাজার ৮৫২টি। ২০১৬ সালে তা এসে দাঁড়ায় ৩১ লাখ ৫৫ হাজার ৫৮৫টি। এই হিসাবের ১৫ লাখ ৩১ হাজার ৪৯২টি বিও হিসাবে বিনিয়োগকারীর শেয়ার ছিল। ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬০ হিসাবে কোনো শেয়ার ছিল না বা শূন্য শেয়ার। আর ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৭৩৩টি অ্যাকাউন্ট কখনো ব্যবহৃত হয়নি। এতে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট বা বিনিয়োগ ছিল ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৪০৬ জনের, যা গত বছর (২০১৫) ছিল ১৯ লাখ ৮৯ হাজার ৪৪৩ জন। আর যৌথ বা জয়েন্ট হিসাব ১২ লাখ ৬ হাজার ৬৯৬টি, যা ২০১৫ সালে ছিল ১১ লাখ ৯৬ হাজার ১৭৩টি। সেই হিসাবে যৌথ অ্যাকাউন্ট বেড়েছে। কম্পানি অ্যাকাউন্ট ছিল ৯ হাজার ৫৬টি, ২০১৫ সালে ছিল ৮ হাজার ৭৪৩টি।

সূত্র জানায়, গত ৩০ জুন শেষে প্রায় ৩৫ হাজার বিও বন্ধ হয়েছে। যদিও চলতি বছরের শুরুর দিকে পুঁজিবাজারে গতি ফিরতে নতুন বিও হিসাব বৃদ্ধি পায়। ২০১৬ সালে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ঊর্ধ্বমুখী হয় বাজার। এই সময় নতুন হিসাব বৃদ্ধি পায় বা বিনিয়োগকারী বাজারে প্রবেশ করে। চলতি বছরের শুরুতে গত ২৫ জানুয়ারিতে বিও হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল সাড়ে ২৯ লাখ। তবে গত ছয় মাসে দুই-একটির বেশি কম্পানির বাজারে না আসায়, প্রাইমারি মার্কেটে আইপিওতে ভালো ব্যবসা না হওয়ায় হিসাব বন্ধ করছে অনেক বিনিয়োগকারী।

পুঁজিবাজারে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি মার্কেটে শেয়ার লেনদেন হয়। প্রাইমারি মার্কেটে সাধারণত নতুন কম্পানির আইপিওতে শেয়ার বরাদ্দ পায় বিনিয়োগকারী। নির্ধারিত মূল্যে শেয়ার বরাদ্দ পাওয়ার পর সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেন শুরু হলে আইপিওতে ভালো মুনাফা আসে। আর সেকেন্ডারি মার্কেটেও শেয়ার লেনদেন করতে পারে বিনিয়োগকারী। তবে বিও হিসাবধারীর একটি বৃহৎ অংশই শুধু প্রাইমারি মার্কেটে বা আইপিওতে শেয়ার লেনদেন করে। সম্প্রতি পুঁজিবাজারে নতুন নতুন কম্পানির তালিকাভুক্তি কম হওয়ায় ভালো করতে পারছে না তারা। যার জন্য অনেকেই নবায়নের বিপরীতে হিসাব বন্ধ করছেন।

ইলেকট্রনিক শেয়ার সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসাইন বলেন, ‘বিও হিসাব নবায়নে বছর বছর কোনো ফি না দেওয়ায় হিসাব বন্ধ করা হয়েছে। কোনো কোনো হিসাবে দীর্ঘদিন শেয়ার ছিল না। আর শেয়ার ব্যবসায় ভালো করতে না পারায় অনেকেই হিসাব বন্ধ করছে।

সূত্র: কালেরকণ্ঠ

 

প্রহরনিউজ/অর্থনীতি/এমএস/১১ জুলাই, ২০১৭