বুধবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ২:৪৫ am
হজ ফ্লাইট শুরু সোমবার
রবিবার ২৩ জুলাই ২০১৭ , ১০:৫৮ pm
হজ ফ্লাইট

ঢাকা: সোমবার থেকে চলতি মৌসুমের হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে। সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ বিজি-১০১১-এর একটি ফ্লাইটে ৪১৯ জন হজযাত্রী হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যাবেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজযাত্রীদের বিদায় জানাবেন। চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকেও এ বছর যথারীতি প্রয়োজনীয়-সংখ্যক হজ ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান। হজ ফ্লাইট প্রসঙ্গে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ জানান, এ বছর হজ ফ্লাইট ও শিডিউল ফ্লাইটে মোট ৬৩ হাজার ৫৯৯ (ব্যালটি ও নন-ব্যালটি) জন হজযাত্রী বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে জেদ্দা যাবেন।

হজযাত্রীদের ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে পারাপারের জন্য ইতোমধ্যেই নিজস্ব বোয়িং ট্রিপল সেভেন উড়োজাহাজ প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া ৪০৬ আসনের লিজে বোয়িং ৭৭৭-২০০ উড়োজাহাজ হজযাত্রীদের পারাপার করবে। ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত শিডিউল ফ্লাইটেও কিছু হজযাত্রী যাবেন।
বিমান জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে এ বছর প্রায় এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন।
এ বছর ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকারুটে হজযাত্রীদের ইকনোমি ক্লাসে বিমান ভাড়া এক হাজার ৪৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা থেকে জেদ্দা প্রতি ফ্লাইটের উড্ডয়নকাল হবে আনুমানিক সাত ঘণ্টা।
দুই মাসব্যাপী হজ ফ্লাইট পরিচালনায় শিডিউল ফ্লাইটসহ মোট ৩৪৬টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে।
এর মধ্যে ২৮৩ ‘ডেডিকেটেড’ এবং ৬৩টি শিডিউল ফ্লাইট।
২৪ জুলাই থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১৭৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে (ডেডিকেটেড-১৪৪ এবং শিডিউল-৩৩)।
হজযাত্রীদের দেশে ফিরতে ১৬৯টি ফ্লাইট চলবে ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত (ডেডিকেটেড-১৩৯ এবং শিডিউল-৩০)।
প্রত্যেক হজযাত্রী বিনামূল্যে সর্বাধিক দুটি ব্যাগ ও একটি হাত ব্যাগ বহন করতে পারবেন। বিজনেস ক্লাসের হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে দুটি ব্যাগের ওজন ৫৬ কেজির বেশি হতে পারবে না। তবে একটি ব্যাগ ২৮ কেজির বেশি হতে পারবে না। বিজনেস ক্লাস ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে দু’টি ব্যাগ মিলিয়ে ওজন ৪৬ কেজির বেশি হতে পারবে না। প্রত্যেক হজযাত্রী কেবিন ব্যাগেজে সাত কেজির বেশি সাথে নিতে পারবেন না।
প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য পাঁচ লিটার জমজমের পানি ঢাকায় নিয়ে আসা হবে। হাজিরা ঢাকা ফিরে আসার পর তাদের হাতে ওই পানি দেয়া হবে। হাজিরা কোনো বিমানে পানি বহন করতে পারবেন না।
হজযাত্রীরা যেকোনো ধারালো বস্তু, ছুরি, কাঁচি, নেইল কাটার, ধাতব নির্মিত দাঁত খিলন, কান পরিষ্কারক, তাবিজ ও গ্যাস জাতীয় বস্তু, অ্যারোসল এবং ১০০ এমএল এর বেশি তরল পদার্থ হ্যান্ডব্যাগে বহন করতে পারবেন না। এছাড়া কোনো খাদ্য সামগ্রীও সাথে নিতে পারবে না।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী হাজিরা ফিরতি ফ্লাইটের (জেদ্দা থেকে বাংলাদেশ) ব্যাগেজ জেদ্দা এয়ারপোর্টে চেক ইনের জন্য গ্রহণ করা হবে না। এর পরিবর্তে এ ব্যাগ আগেই মক্কা ও মদিনায় বিমান নির্ধারিত স্থানে ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে যা বিমানের ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট হাজিদের বহনকারী ফ্লাইটেই পরিবহন করা হবে।
বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইটগুলোর চেক-ইন, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা প্রতিবারের মতো এবারও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন হজ ক্যাম্পেই সম্পন্ন করা হবে। তবে শিডিউল ফ্লাইটের হজযাত্রীদের যাত্রা-পূর্ব আনুষ্ঠানিকতা যথানিয়মে বিমানবন্দরে সম্পন্ন করা হবে। ঢাকা থেকে যাত্রার আগে হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইটের বোর্ডিং কার্ড দিয়ে দেয়া হবে, যা পাসপোর্টের সাথে সংরক্ষণ করতে হবে।