বুধবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ২:৪৯ am
লন্ডন বার্তার অপেক্ষায় ছাত্রদল
মঙ্গলবার ২৫ জুলাই ২০১৭ , ১১:০৫ pm
অপেক্ষায় ছাত্রদল

নিউজ ডেস্ক
ঢাকা:
বিএনপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। মেয়াদোত্তীর্ণ এই সংগঠনের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দাবি উত্থাপন হলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি।যে কারণে পুরো সংগঠনেরই চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারাসহ সর্ব পর্যায়ে কেউ কারো নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু এবার দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর ঘিরে আশাবাদী হয়ে উঠছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। সেখানে দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন। ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মনে করছেন, বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার পাশাপাশি সাংগঠনিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন তারেক রহমানের সাথে শলাপরামর্শ করে। এর মধ্যে ছাত্রদলের কমিটি অন্যতম।

ফলে খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর ঘিরে উজ্জিবীত হয়ে উঠছেন পদ প্রত্যাশীরা। ইতিমধ্যে দৌড়ঝাপও শুরু করেছেন তারা। লবিং-তদবিরে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন নেতারা। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছে ধরনা দিতেও শুরু করেছেন অনেকে। আবার অনেকে বিগত দিনের আন্দোলনে ভূমিকার জন্যও আশাবাদী হয়ে উঠছেন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে কোট-টাই পড়া কিছু ছাত্রনেতারা দাপিয়ে বেড়ানোর ঘটনায় সংশয় সৃষ্টি হয়েছে ত্যাগী আর পরীক্ষিত ছাত্রনেতাদের মাঝে। আর এ আশঙ্কা থেকে খালেদা জিয়া লন্ডন যাওয়ার আগেও পদ প্রত্যাশীরা অনুসারী কর্মীদের নিয়ে কয়েকদফা শোডাউন করেন গুলশান কার্যালয়ের সামনে। এ সময় নতুন কমিটির দাবিতে গুলশানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বেগম জিয়ার কার্যালয়ের আশপাশের সড়কগুলোয় অবস্থান নেন। নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশী ও বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতা আলমগীর হাসান সোহান, নাজমুল হাসান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, আসাদুজ্জামান আসাদ, বায়েজিদ আরেফিন, ইসহাক সরকার সহ অনেকের অনুসারীরা বিক্ষোভ করেন। তারা কমিটির দাবিতে স্লোগান দেন এবং রাজিব আহসান ও আকরামুল হাসানের বিরুদ্ধে কমিটি না দেওয়ার অভিযোগ করা হয়। খালেদা জিয়া কার্যালয়ে প্রবেশের আগ পর্যন্ত তারা বিক্ষোভ করতে থাকেন। বিক্ষোভকালে বিএনপি চেয়ারপার্সন গাড়ি থেকে নেতাকর্মীদের দিকে তাকালেও কোনো কথা বলেননি।

এদিকে ছাত্রদলের নতুন কমিটির ধরন সিনিয়র না-কি জুনিয়র হবে তা নিয়েও চলছে নানা বিশ্লেষন। দলের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ জানান, সারাদেশে বিভিন্ন জেলা কমিটি গঠনে অপেক্ষাকৃত জুনিয়রদের এবং কোনো ক্ষেত্রে ২০০০ সালের এসএসসি ব্যাচের ছাত্রদের কাছে নেতৃত্বভার তুলে দিয়ে একটি এসিড টেস্ট করা হয়েছে। বিএনপির হাইকমান্ডের এই পরিকল্পনা অনেক ক্ষেত্রে সফল হলেও বেশিরভাগ জায়গায় ব্যর্থ হয়েছে। নতুন নেতৃত্ব রাজনৈতিক বিচক্ষণতা কিংবা সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারেনি। এর মধ্যে ছাত্র রাজনীতির প্রাণ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ফ্লপ করেছে। তারা ক্যাম্পাসে নিজেদের অস্তিত্ব তৈরি করতে পারেনি। এসকল কারণে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিকে জুনিয়র নেতৃত্ব দিয়ে সাজানো হবে মানতে নারাজ সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। তারা এবারও মনে করেন, বিগত দিনের পারফরম্যান্সের উপর নির্ভর করে যোগ্য নেতৃত্বে কাছেই সংগঠনের দায়িত্ব তুলে দেয়া হবে। অপরদিকে সাধারণ কর্মীদের মনোভাব- মেয়াদোত্তীর্ণ এই সংগঠনকে গতিশীল করার জন্য যে কোনো ফরম্যাটেই দ্রুত নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান।

এ বিষয়ে ছাত্রদলের সহসভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নেতাকর্মীরা অনেকবার বিভিন্নভাবে কমিটি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান সভাপতি ও সেক্রেটারি কোনো গুরুত্ব দেননি। এখন সবার দাবি হচ্ছে দল বাঁচাতে অবিলম্বে নতুন কমিটি গঠন করা।

ছাত্রদল নেতাকর্মীরা জানান, দুই বছর মেয়াদি ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ১৪ অক্টোবর। ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজীব আহসানকে সভাপতি ও মো. আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ৭৩৪ জন সদস্যকে নিয়ে ওই কমিটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। কিন্তু ২০১৫ সালের সরকার বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ১৫৩ সদস্যের মধ্যে মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন ছাত্রনেতা সক্রিয় ছিলেন। এর বাইরে পদ-পদবী বিহীন অনেক ছাত্রনেতার ভূমিকাও ছিলো উলে¬খযোগ্য।

ছাত্রদল নেতাকর্মীরা জানান, বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই দীর্ঘ তিন মাসের আন্দোলনের মূল নেতৃত্বে চলে আসে এই সংগঠন। বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাই আন্দোলনকে টেনে নিয়ে গেছেন। এজন্য চরম মূল্যও দিতে হয়েছে এই সংগঠনের নেতাকর্মীদের। সারাদেশে অসংখ্য নেতাকর্মী নিহত, আহত কিংবা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। সেই সাথে গুমের শিকার হয়েছেন অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী। আন্দোলনের ওই ধাক্কার কারণে সংগঠন গোছানোর সময়ও তেমন পাননি। তবে এই সময়ের মধ্যে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি, হল কমিটি, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটি, মহানগর কমিটি ঘোষণা করেন। এছাড়া সারাদেশের শতভাগ মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও মহানগর কমিটির মধ্যে অনেকগুলোর কমিটি পূনর্গঠন করা হয়েছে আর প্রায় ১২টি জেলা কমিটি বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে সূত্র জানায়। আর ব্যর্থতার তালিকায় কেন্দ্রীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দের কোন সমন্বয় বৈঠক করা হয়নি বিগত দিনে। কমিটি গঠনে সভাপতি আর সাধারণ সম্পাদকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ছিলো। জেলা কমিটি গঠনে বিগত দিনের মতো কেন্দ্রীয় কমিটি দিয়ে কোনো টিম গঠন করা হয়নি। ফলে এই সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অলঙ্কার হিসেবেই অনেকটা শোভা বর্ধন করেছে বিগত দিনে। আবার কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে নেতৃত্বের কমান্ড একেবারে বিলুপ্তের পথে ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনের।

ছাত্রদল নেতাকর্মীরা জানান, বর্তমান কমিটির সভাপতি রাজিব আহসান মার্জিত এবং বিচক্ষণ নেতা হিসেবে ইতোমধ্যে নেতাকর্মীদের মাঝে আস্থার স্থান করে নিয়েছেন। অনেকের মতো আর্থিক কেলেঙ্কারিসহ অন্যান্য অনৈতিক কাজের সাথে তার নাম উঠে আসেনি। সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু বিগত আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তার যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। একইভাবে সিনিয়র সহ সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুনের ক্ষেত্রেও। সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার আন্দোলনের মাঠেই সময় ব্যায় করেছেন। এছাড়া সংগঠনের শীর্ষ পদ পেতে আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন সহ সভাপতি আলমগীর হাসান সোহান। ২৭তম বিসিএস ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়েও রাজনীতির কারণে যোগদান করেননি তিনি। বরং রাজনীতির মাঠ দাবড়িয়ে বেড়িয়েছেন এই ক্যারিশমাটিক নেতা। আন্দোলনের দৃশ্যমান-অদৃশ্যমান সকল ক্ষেত্রেই ছিলো তার সমান বিচরণ। সারাদেশের নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত মুখ সহ সভাপতি নাজমুল হাসান। শক্তিশালী সাংগঠনিক দক্ষতা দিয়ে বিগত দিনের আন্দোলনে কাজ করেছেন। আন্দোলন ছাড়াও তিনি দলের জন্য বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজে জড়িয়ে নিজের নাম আলোচনায় রেখেছেন। রাজধানীর প্রায় সকল আন্দোলনেই জড়িয়ে রয়েছেন সহ সভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির। নিজের জীবন বাজি রেখে আন্দোলনের দৃশ্যমান-অদৃশ্যমান কাজে দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। স্পষ্টবাদী এই নেতাও রয়েছেন দলের হাইকমান্ডের সুদৃষ্টিতে।

ভদ্র-মার্জিত একজন ছাত্রনেতা সহ সভাপতি আবু আতিক আল হাসান মিন্টু বিগত আন্দোলনে ফেসবুক নির্ভর রাজনীতি কিংবা তল্পিবাহকের রাজনীতির বাইরে থেকে এককভাবে কাজ করেছেন তিনি। নীরবে কাজ করে গেছেন যুগ্ম সম্পাদক কাজী মোকতার। যে কোনো মিছিল-মিটিং-এ সবার আগে অবস্থান নেয়া এই ছাত্রদল নেতা তার সবটুকুই উজাড় করে দিয়েছেন দলের প্রয়োজনে। একইভাবে রয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ন সম্পাদক ওমর ফারুক মুন্নাও। তিনিও কাজ করেছেন নিরলসভাবে। আবার মফিজুর রহমান আশিকও গুমের শিকার হয়ে নির্যাতিত হয়েছিলেন।

অপরদিকে যুগ্ম সম্পাদকদের মধ্যে নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন, প্রথম যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। এর বাইরে যুগ্ম সম্পাদক বায়েজিদ আরেফিন, মিজানুর রহমান সোহাগ, সামছুল আলম রানা, করিম সরকার, হাসানুল বান্না, মির্জা ইয়াসিন আলী, মেহবুব মাসুম শান্তসহ অনেকেই আন্দোলনে ভূমিকার কারণে রয়েছেন শীর্ষ নেতৃত্বের তালিকায়।