শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭ || সময়- ১১:৩০ pm
কী হচ্ছে লন্ডনে?
রবিবার ৩০ জুলাই ২০১৭ , ১:১৭ am
খালেদা জিয়া

নিউজ ডেস্ক
ঢাকা:
খালেদা জিয়া এখন লন্ডনে। এ নিয়ে রাজনৈতিক পাড়া এখন বেশ গরম। বিএনপি নেতাকর্মীদের এ নিয়ে নীরব ভূমিকা দেখা গেলেও খালেদার এই সফরকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে সরকারীদল। প্রতিদিনই আক্রমনাত্বক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন সরকারী দলের নেতারা। সব মিলিয়ে বিএনপি, আওয়ামী লীগ সব রাজনৈতিক দলেরই দৃষ্টি এখন লন্ডনে। কী হচ্ছে, কী ঘটছে, কিংবা লন্ডন থেকে তিনি কী সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছেন। তবে বিএনপি মনে করছে, আগামী নির্বাচনের প্রার্থীতালিকা চূড়ান্তসহ দলীয় ও সাংগঠনিক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে লন্ডন থেকে।

তা ছাড়া আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন দলটির নেতাকর্মীরা। চোখের উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে বড় ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

নেতাকর্মীরা বলছেন, লন্ডনে বিএনপির এই দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এমন কি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের রূপরেখা এবং আগামী নির্বাচনের প্রার্থীতালিকা চূড়ান্তসহ দলীয় ও সাংগঠনিক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে লন্ডন থেকে।

বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আগামী দিনে আন্দোলন-সংগ্রাম ও নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তৈরীর ব্যাপারে দুই শীর্ষ নেতা বৈঠক করবেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৭টায় চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে তারেক রহমানের পরিবার ছাড়াও বেগম জিয়ার ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন।

এদিকে লন্ডন সূত্রে জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়া যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর থেকে ডাক্তারের সময় চেয়ে গত ২৬ জুলাই প্রথম বারের মতো ডাক্তার দেখিয়েছেন। তবে লন্ডনে যাওয়ার পর থেকেই পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটাচ্ছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। গত ২৭ জুলাই লন্ডনে অবস্থানরত দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা থাকলেও সেটিও করেননি তিনি। খালেদা জিয়া এর আগে সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান।

জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি। দলটির দাবি- শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন কখনোই নিরপেক্ষ হবে না। সে জন্য কয়েকজন বুদ্ধিজীবী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী বেশ কিছু দিন কাজ করে সহায়ক সরকারের একটি কাঠামো দাঁড় করিয়েছেন। সেটি তারেক রহমানের সাথে আলোচনার পর চূড়ান্ত করবেন এবং দেশে ফিরে উপযুক্ত সময়ে জাতির সামনে তুলে ধরবেন বেগম খালেদা জিয়া।দলটির নেতারা বলছেন, এই রূপরেখা নিয়ে সরকারের সাথে সমঝোতা না হলে দাবি আদায়ে তাদের রাজপথের আন্দোলনে যেতে হবে। শীর্ষ দুই নেতা দলের ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে লন্ডনে কথাবার্তা বলবেন।

এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডন গেছেন। চিকিৎসা শেষ করেই দেশে ফিরে আসবেন। আগে তার নেতৃত্বে যেভাবে দল পরিচালনা হয়েছে ফিরে এসেও তিনি অগ্রভাগে নেতৃত্ব দেবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জোটবদ্ধভাবেই আগামী নির্বাচন করার কথা ভাবছে বিএনপি। তবে আন্দোলন ও নির্বাচন সামনে রেখে জোটের পরিধি আরো বাড়াতে চায় দলটি। এ লক্ষ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন ২০ দলীয় জোটের বাইরে থাকা দলগুলোকেও জোটে আনতে চান। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সাথে বিভিন্নভাবে আলোচনা চলছে বিএনপির। তাদের কিভাবে জোটভুক্ত করা যায় সে বিষয়ে লন্ডনে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মধ্যে আলোচনার কথা রয়েছে।

গত বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর জাতীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করে বিএনপি। কিন্তু দলের স্থায়ী কমিটির তিনটি শূন্য পদ, দু’টি আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদ এবং ছাত্র সম্পাদকের পদ কাদের দেয়া হবে, সেই বিষয়টিরও ফয়সালা হতে পারে লন্ডনে। এর বাইরে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া শ্রমিক দল, কৃষক দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল ও ছাত্রদলের কমিটিও গঠিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, দেশে ফিরেই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো ঘোষণা করবেন বেগম জিয়া। পূর্ণাঙ্গ হবে আংশিক কমিটিগুলোও।

ষষ্ঠ কাউন্সিলে দলীয় গঠনতন্ত্রে ‘এক নেতার এক পদ’-এর বিধান সংযোজিত হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তিন বছরেও সম্পন্ন হয়নি তৃণমূল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক জেলার কমিটি ঘোষিত হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের আশা, লন্ডনে দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে আলাপে এই বিষয়গুলোরও সমাধান হবে।

এদিকে খালেদা জিয়া লন্ডন যাওয়ার পর সরকারি দলের নেতারা নানামুখী বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা বলছেন, ‘মামলার ভয়ে খালেদা জিয়া পালিয়ে গেছেন। তিনি আর ফিরবেন না।’ এ ধরনের বক্তব্যের মধ্যেই শুরু হয়েছে বিএনপি-বিরোধী প্রোপাগান্ডা। কয়েক দিন ধরে বিএনপির কমপক্ষে চারজন শীর্ষ নেতার দলবিরোধী বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন অনলাইনে সংবাদ হয়েছে। ‘বিএনপি করা মানে পুতুল হয়ে থাকা’, ‘বিএনপি করার চেয়ে বাড়ির চাকর হওয়াও সম্মানের’, ‘বিএনপিতে চলছে রাজতন্ত্র, আমি ক্রীতদাস’, ‘দারোয়ানইতো এখন বিএনপি চালায়’-এ ধরনের আজগুবি শিরোনামে নিউজ করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে এ ধরনের সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। সংশ্লিষ্ট নেতারাও এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপির সিনিয়র নেতা ও দলের স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্যকে উদ্ধৃত করে বিএনপি চেয়ারপারসন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং চেয়ারপারসন কার্যালয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিউজ সাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু অনলাইনে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অপপ্রচারমূলক।

তিনি বলেন, সরকারের লোকেরা দলের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করার জন্য এ ধরনের মিথ্যা, ভিত্তিহীন মনগড়া অসত্য তথ্য প্রচার করছে। এসব বক্তব্যের সাথে বিএনপির কোনো নেতার সম্পর্ক নেই। বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী এ ধরনের অপপ্রচারকে বিশ্বাস করেন না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা কয়েক দিন আগে বলেছেন, নির্বাচন সামনে রেখে কত খেলা ঘটবে। এগুলো কি তাদেরই খেলা কি না এটা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার বিএনপিকে নানাভাবে বিপর্যস্ত বা দুর্বল করার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেছে কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। সরকারের অপচেষ্টা এখনো থেমে নেই বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

সূত্র : যমুনানিউজ