শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭ || সময়- ১১:১০ pm
রাজনীতিতে বিকল্প হাওয়া!
শনিবার ৫ আগস্ট ২০১৭ , ১:০৪ am
রাজনীতির দৃশ্যপট

প্রহরনিউজ, ঢাকা: বিকল্প ধারার সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাড়িতে হঠাৎ রাজনৈতিক নেতাদের বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আপাত দৃষ্টিতে প্রকাশ্যে এ বৈঠক নিয়ে নেতিবাচক কোনো বক্তব্য না থাকলেও এ নিয়ে সরকার ও বিরোধী শিবিরে সাড়া পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এতে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশীয় রাজনীতির চক্রে নতুন ও নানা হিসেব-নিকেশও শুরু হয়েছে।জানা যায়, গত বুধবার রাতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বি চৌধুরীর বারিধারার বাড়িতে এসব ছোট ছোট দলের নেতা হলেও ব্যক্তিগতভাবে এদের অধিকাংশ নেতাই বড় মাপের ও প্রভাবশালী। সত্যিকার জোটবদ্ধ হতে পারলে এসব নেতাদেরই রাজনীতিতে অঘটন ঘটানোর মতো যোগ্যতা দক্ষতা তাদের রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি টেনশন বেড়েছে সরকারি মহলে।

সূত্র জানায়, বুধবার রাতে বি চৌধুরীর বারিধারার বাড়িতে ওই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের আহŸায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরীর পাশাপাশি সরকারের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত এইচএম এরশাদের ভাই জিএম কাদেরের ওই বৈঠকে যোগদানকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বিশেষ করে সরকারী দলের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

অবশ্য নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে তৃতীয় শক্তির অন্বেষনে নতুন জোটের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

গতকাল রাজধানীর সোবহানবাগের ডেফোডিল ইউনির্ভাসিটিতে একটি মাদক বিরোধী সেমিনারে অংশ নেয়ার পর গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে কাদের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধীদল বিএনপির বাইরে সম্ভাব্য তৃতীয় রাজনৈতিক জোট গঠনের আলোচনা-উদ্যোগকে স্বাগত জানান। জোট গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি একে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা খুব ভালো, গণতন্ত্রের শত ফুল ফুটেছে। এটা তো ভালো; এটাকে আমি বলবো, গণতন্ত্রের শত ফুল ফোটা। এটা তো গণতন্ত্রের বিউটি। ওই বৈঠকে নেতিবাচক কিছু না দেখলেও এর পরিণতি দেখার অপেক্ষায় থাকার কথা জানান কাদের। তিনি বলেন, তারা তো ওখানে ষড়যন্ত্র করছে না, জোট করছে, তাতে অসুবিধা কি? তবে এ অ্যালায়েন্সটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটিই দেখতে হবে। ওটা দেখতে হলে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

অন্যদিকে, গতকাল নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতাদের নিয়ে যৌথসভা শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন জোট গঠনের বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা যে কোনো উদ্যোগ যা দেশের পক্ষে, জনগণের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে তাকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। আমরা এখনও মনে করি যারাই অবৈধ, অনৈতিক সরকার, নির্যাতনকারী সরকার, জুলুমবাজ সরকার, তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করবে আমরা অবশ্যই তাদেরকে স্বাগত জানাব।
গত বুধবার এসব নেতা বি চৌধুরীর বাড়িতে বৈঠকে সফল হলেও এর আগে গত ১৩ জুলাই রাতে উত্তরায় আ স ম রবের বাসায় পুলিশী বাধার মুখে পড়েছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের বাইরে দেশে তৃতীয় রাজনৈতিক জোট গড়ার কথা বলে আসা এই রাজনীতিকরা বুধবারের বৈঠকে আগের মতো বাধার সম্মুখিন হননি। বি চৌধুরীর বাড়ির তৃতীয় তলায় বৈঠকের এক পর্যায়ে সাংবাদিকদেরও ডেকে নেয়া হয়।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট (বি চৌধুরী) তিনি গণ্যমান্য ব্যক্তি, তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, সেজন্য আমি এসেছি। অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, বৈঠকে আসার ব্যাপারে জাপা চেয়ারম্যান তার বড় ভাই এরশাদের সম্মতি নিয়েই তিনি এসেছেন।

বি চৌধুরী বলেন, যারা দেশ নিয়ে ভাবে, দেশের কথা চিন্তা করে, তারা সবাই এক সঙ্গে বসেছিলাম।
বিকল্পধারার এক নেতা বলেন, কিছুসংখ্যক রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ডিনারের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বি চৌধুরী। সেখানে তারা আলোচনাও করেছেন। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি তৃতীয় রাজনৈতিক জোট করা যায় কি না, তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় হয়।
বৈঠক শেষে নাগরিক ঐক্যর প্রধান মাহমুদুর রহমান মান্না সাংবাদিকদের বলেন, আমরা কিছু একটা করব। তবে এটা এখনই প্রকাশ করতে পারছি না। সময় হলেই জানতে পারবেন।

আগে থেকেই একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে ‘বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি’ গড়ে তোলার কথা বলছেন বি চৌধুরী, মান্না, রবরা। মাঝে মাঝে কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও তাদের সুরে কথা বলছেন। জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচন করবে বলে এখন পর্যন্ত বলে আসছেন এরশাদ। সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য যিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচিত।
অন্যদিকে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি তার জোটের পরিসর আরও বাড়াতে চাইছে। নির্বাচনী মাঠে সরকারকে একঘরে করাই এর উদ্দেশ্য বলে জানা যায়। অন্যদিকে জোটগত নির্বাচন নিয়ে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

সবমিলে বুধবারের ওই বৈঠক রাজনীতিতে হিসেব-নিকেশের নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে অনেকে মনে করছেন। অনেকের ধারণা, আগামী নির্বাচনের আগে পাল্টে যেতে পারে রাজনীতির পুরানো সব হিসেব নিকেশ।