সোমবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ৬:৩৮ am
সিদ্দিকুরকে চোখ দান করতে চান টাঙ্গাইলের জাহাঙ্গীর
সোমবার ৭ আগস্ট ২০১৭ , ১২:৩১ pm
siddikur_486x312

প্রহরনিউজ, ঢাকা: ‘কেন্দ্র থেকে নয়, প্রান্ত থেকেই শুরু হোক’ স্লোগান নিয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুরে নির্মিত বিশ্বের প্রথম কলম ভাস্কর্যের উদ্যোক্তা মো. জাহাঙ্গীর কবির তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমানকে একটি চোখদান করতে চান।

কলেজ শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর কবির নিজের একটি চোখদানের ইচ্ছা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্টে লেখেন, ‘দৃষ্টির জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ! দৃষ্টি হারানো সিদ্দিকের জন্য আমার একটি চোখ দান করতে চাই। তবুও আলোর মিছিলে যোগ দিয়ে চিরতরে অন্ধত্ববরণ করার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাক একটি স্বপ্নবাজ তরুণ। সরকার ও তার পরিবার আগ্রহ প্রকাশ করলে আমি আমার একটি চোখ উৎসর্গ করতে চাই।’

জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘আমার পরিবারকে অনেক বুঝিয়ে রাজি করিয়েছি। আমি তাদের বলেছি, যদি এখন দেশে যুদ্ধ হয়, তবে আমি যুদ্ধে যাব। মনে কর তোমার ছেলে যুদ্ধে গিয়ে একটি চোখ হারিয়েছে।’
এর আগে জাহাঙ্গীর কবির দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ তরুণ এবং ৫০ তরুণীকে নিয়ে উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া গ্রামে এইচএম জাহাঙ্গীর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিশ্বের প্রথম কলম ভাস্কর্য নির্মাণ করার উদ্যোগ নেন।

মো. জাহাঙ্গাঙ্গীর কবির টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বেরীবাইদ ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। সে ১৯৯২ সালের ১০ জুলাই জন্ম গ্রহণ করেন। সাত ভাই-বোনের মধ্যে জাহাঙ্গীর কবির তৃতীয়। সে ঢাকার মোহাম্মদপুরের আলহাজ্ব মকবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বিএসএস ২য় বর্ষের ছাত্র।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার ভারতের চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয়ে অস্ত্রোপচার করা হয় সিদ্দিকুর রহমানের। শনিবার তার চোখের ব্যান্ডেজ খোলা হয়।

সিদ্দিকুরের সঙ্গে থাকা জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুল আহসানকে উদ্বৃত করে সিদ্দিকুরের সহপাঠী শেখ ফরিদ বলেন, ‘দেশে অপারেশনের পর সিদ্দিকুর বাম চোখের এক পাশ দিয়ে আলোর উপস্থিতি টের পাচ্ছেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু চেন্নাই যাওয়ার পর সেই আলো আর দেখছিলেন না। শুক্রবার অস্ত্রোপচারের পর এখন আবার পাশ দিয়ে কিছু আলো সিদ্দিুকুর দেখছেন বলে বলছেন। এখন তিনি কতটুকু দেখবেন বা আদৌ দেখবেন কিনা, তা জানতে আরও চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় অপেক্ষা করতে হবে।’