বুধবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ১১:৩৫ am
পরিস্কার বিবির দেড় টনি ষাঁড় রাজাবাবু
সোমবার ১৪ আগস্ট ২০১৭ , ১১:০৬ pm
রাজা বাবু

প্রহরনিউজ, প্রাণি: মানিকঞ্জে দেড় টন ওজনের ষাঁড় গরু লালন-পালন করে তাক লাগিয়েছেন জেলার সাটুরিয়া উপজেলার দেলুয়া গ্রামের পরিস্কার বিবি ও তার স্কুল পড়ুয়া কন্যা ইতি আক্তার। প্রতি বছরই তারা কোরবানীর ঈদ কে সামনে রেখে গরু মোটা তাজাকরণ করে আসছেন। এই ব্যবসায় তাদের সাফল্যও আসছে প্রতিবছরই। ফিজিয়ান জাতের ষাঁড়টিকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় করেছেন তারা। আদর করে নাম দিয়েছেন ‘রাজা বাবু’। সর্বশেষ নেওয়া ওজনে রোববার (১৩ আগস্ট) রাজাবাবুর ওজন ছিল ১৫৬৬ কেজি। উৎসুক মানুষ তাকে একনজর দেখার জন্য দূর-দুরান্তের গ্রাম থেকে ভীড় করছেন ইতিদের বাড়িতে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, সাটুরিয়া উপজেলার দিঘুলিয়া ইউনিয়নের দেলুয়া গ্রামের পরিস্কার বিবির সংসার চলে গরু লালন পালন করেই। গত বছর কোরবানির ঈদের সময় ২৭ মন ওজনের একটি ষাঁড়  ১০ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। অবশ্য ১০-১২ বছর আগে থেকেই পরিস্কার বিবি ও তার স্বামী খান্নু  মিয়া গরু লালন- পালন করতেন। কিন্তু গতবছর তার মেয়ে ইতি আক্তার দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটা তাজাকরণ করা শুরু করেন।  আর প্রথম বছরেই লাভের মুখ দেখায় এ বছর তারা আরও বড় আকৃতির গরু মোটাতাজকরণ শুরু করেন।

এ ব্যবসার মাধ্যমে ঘুরতে শুরু করে তাদের পরিবারের ভাগ্যের চাকা। গত বছর গরু বিক্রির টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করেন। বাকী টাকা দিয়ে এক বছর আগে ঢাকার কেরাণীগঞ্জ থেকে ২  বছর বয়সী ফ্রিজিয়ান জাতের একটি ষাঁড় গরু  কিনে আনেন ঘরে। সেই থেকে শুরু। ইতি আর তার মা মিলে সাদা-কালো বর্ণের ‘রাজাবাবু’-র যত্ন নেওয়া শুরু করেন।

তাদের যত্নে বোধহয় কৃতজ্ঞ ষাঁড়টিও। রাজা বাবু নামে ডাকলেই সাড়া দেয় সে। প্রতিদিন তার খাবার তালিকায় থাকে মিষ্টি লাউ, দেশি লাউ, সবরি ও বিচি কলা, ছোলা, বোট, কুড়া, ভূষি, খড় এবং কাঁচা ঘাষ। মাঝে মধ্যে আঙুর, মাল্টা আর তেুঁতল খাওয়াতেও ভুল হয় না।

এ ব্যাপারে কথা বলা হলে ইতি আক্তার জানান, কোরবানির ইদ-কে সামনে রেখে আমরা ষাঁড়টি কে লালন-পালন করেছি। মজা করে তিনি বলেন, মাঝে মাঝে রাজা বাবু যখন রেগে যায়, তখন গায়ে ঠান্ডা পানি ছিটিয়ে দিয়ে সবরি কলা সামনে ধরলেই সব ঠিক হয়ে যায়। তবে এমনিতে ষাঁড়টি খুব ঠান্ডা প্রকৃতির।

ইতি আরো বলেন, রাজা বাবু কে দিনে ২ বার শ্যাম্পু আর কন্ডিশনার দিয়ে গোসল করাই যাতে তার গায়ে কোনো পরজীবি বাসা না বাঁধতে পারে। ৭ ফিট ৩ ইঞ্চি লম্বায়, প্রস্থে ৯ফিট  ১ ইঞ্চির এ ষাঁড়টির দাঁতের সংখ্যা ৪ টি। বর্তমানে  ওজন ১৫৬৬ কেজি (৩৯ মন) হলেও ঈদের আগে আরও ওজন বাড়বে ।

পরিস্কার বিবি বলেন, আমারা ষাঁড়টিকে সম্পূর্ণ দেশী খাবার খাওয়াই। ওর জন্য আমরা ৩ জন মানুষ সারা বছর সময় দিয়েছি। ২ টি সিলিং ফ্যান লাগানো হয় ওর মাথার ওপরে। বিদ্যুৎ চলে গেলেই বড় পাখা দিয়ে সারাক্ষণ বাতাস করি। ওর নড়াচড়ার সুবিধার্থে দিনে ২০-২৫ বার জায়গা বদল করে বিভিন্ন স্থানে বেঁধে রাখি।

সরেজমিনে রবিবার বিকালে পরিস্কার বিবির বাড়ীতে গেলে দেখা যায়, উপজেলা ছাড়াও আশে পাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ছোট বড় মানুষ এক নজরে রাজা বাবু কে দেখার জন্য ভির করছে । কথা হয় টাঙ্গাইল জেলার পাকুটিয়া গ্রামের মান্নান মিয়ার সাথে, তিনি জানান  ইচ্ছে থাকলে এক বছরে একটি গরু মোটাতাজা করণ করেই অনেক লাভবান হওয়া যায় তা স্বচক্ষে দেখার জন্য আসছি এ বাড়িতে।

এ ব্যাপারে পরিস্কার বিবির স্বামী খান্নু মিয়া জানান, আমি গ্রামের মহাজনদের নিকট থেকে সুদে   টাকা এনে এ ষাঁড়টির ভরণ-পোষণ করেছি। প্রতিদিন ১০০০-১২০০ টাকার ২৫ কেজি পরিমাণ খাবার খাচ্ছে ৭-৮ মাস ধরে। সরকারিভাবে সহজ শর্তে ঋণ পেলে আর বড় পরিসরে গরু মোটাতাজা করতে পারতাম আমরা।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ খুরশেদ আলম বলেন, ঈদ কে সামনে রেখে সাটুরিয়া উপজেলায় ৭ হাজার গরু মোটাতাজা করন করা হয়েছে। তার মধ্যে ইতি ও পরিস্কার বিবির লালিত এ ষাঁড় গরুর ওজন আমি নিজে মেপেছি। রবিবার পর্যন্ত ওর ওজন ১৫৬৬ কেজি, যা ৩৯ মন ও দেড় টনেরও বেশী। আমরা নিয়মিত এ গরুটির দেখভাল করেছি। ঈদের পরে এ পরিবার কে সহজ শর্তে সরকারী কোন ব্যাংক থেকে ঋন সহায়তা দেবার জন্য আমার উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ করব।

এ ব্যাপারে গরুর বেপারী শাহানুর জানান, এমন বড় ও ওজনের আকৃতি গরু সাধারণত ওজন দেখে বিক্রি হয় না। শখ করে বড় বড় কোম্পানিই এমন গরু কিনে থাকে। পরিস্কার বিবি ও ইতির এ গরুটির বাজার ভাল থাকলে এবং কোম্পানির চোখে পড়লে ১৫-১৭ লক্ষ টাকায় বিক্রি করতে পারবে।

আসন্ন কোরবানিতে রাজাবাবুর সঠিক মূল্য পাওয়া যাবে বলেই আশা করছেন সবাই।