শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭ || সময়- ১১:১১ pm
পঁচে গেল ৪ হাজার হেক্টর আমন ক্ষেত
শনিবার ১৯ আগস্ট ২০১৭ , ৩:২৭ pm
পঁচে গেল আমন ক্ষেত.jpg

প্রহরনিউজ, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) : নেক ব্লাস্ট রোগে আউশ গেল, বন্যার পানিতে আমন গেল। এখন আমাদের কি হবে? পানিমাছকুটি গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী (৫৫) বলছিলেন তার দূর্দশার কথা। একরাশ হতাশা নিয়ে তার প্রশ্ন- মোর ৪ বিঘা আমন ধানের চারা পঁচে গেছে, এলা হামরা কি খায়য়া বাচমো?
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ১২ হাজার ২ শত হেক্টর জমির আমন ধানের ক্ষেত। এতে ব্যাপক ভাবে ক্ষতি হয়েছে উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের কৃষকের। বিদ্যাবাগীশ গ্রামের নুরহোসেন(৬০) ও কবির মামুদ গ্রামের মাহফুজুল হক সুমন(৪৫) ও কুটিচন্দ্রখানা গ্রামের আমিনুল ইসলাম (৬৫) সহ অনেকেই বলছেন, বন্যার পানি ৫ দিন থাকায় জমির আমন ধানের পঁচন ধরেছে। আবার অনেক জমির ধান একেবারেই পঁচে গেছে। এবারের বন্যায় কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তবে পানি কমার পর হয়তো সামান্য কিছু জমির ধান হতে পারে।
কৃষি অফিস সুত্রে জানাযায়, এ বারের বন্যায় উপজেলার ধরলা বেষ্টিত ফুলবাড়ীতে ২৩ শত পঞ্চাশ হেক্টর, শিমুলবাড়ীতে ১৬ শত হেক্টর, নাওডাঙ্গায় ১৮ শত হেক্টর, বড়ভিটায় ২২ শত পঞ্চাশ হেক্টর, ভাঙ্গামোড়ে ২১ শত হেক্টর, কাশিপুরে ২১ শত হেক্টর  এলাকা ও নদীর র্তীরবর্তি চরাঞ্চল সহ মোট ৬ টি ইউনিয়নে ১২ হাজার ২শত হেক্টর আমন ধান তলিয়ে গেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে  বন্যার পানি নেমে যাবার পর নেতিয়ে পড়েছে ধানের চারা। কোনো কোনো জমির ধানের চারা একেবারেই পঁচে গেছে। ফসলের নিশ্চয়তা হারিয়ে কৃষকেরা এখন নিরুপায় হয়ে পরেছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই বেরিয়ে পড়েছেন ধানের চারার খোঁজে। কিন্তু কাজে আসছে না ।

এব্যপারে ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুর রশিদ জানান, এ বছর চলতি আমন মৌসুমে কৃষকরা এ উপজেলায় ১২ হাজার দুই শত হেক্টর জমিতে ধান লাগিয়েছে। কিন্তু বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর দেখা যায় ৪ হাজার হেক্টর জমির আমন ধান সম্পূর্ণ পঁচে গেছে। বর্ষাকালীন সবজি সহ নষ্ট হয়েছে ২ শত হেক্টর।