শনিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ১২:৫৪ am
নতুন ঠিকানায় মা-বাবা পেলো শিশু ফাতেমা
মঙ্গলবার ২২ আগস্ট ২০১৭ , ১১:৩৬ pm
শিশু ফাতেমা

প্রহরনিউজ, ঢাকা:  হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জর্ডান ফেরত এক গৃহকর্মীর ফেলে যাওয়া ১০ মাসের শিশুকন্যা ফাতেমা খাতুন এখন আইনজীবী সেলিনা আক্তার-আলমগীর দম্পতির ঘরে। ঢাকার শিশু আদালতের নির্দেশে রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় শিশুটিকে ওই দম্পতির কাছে হস্তান্তর করেন।
এর আগে ওই দম্পতি ফাতেমার নামে এক্সিম ব্যাংকে করা ৫ লাখ টাকার এফডিআর এবং শিশুটির সার্বিক কল্যাণ করবেন মর্মে একটি হলফনামা আদালতে দাখিল করেন। এরপর শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান শিশুটিকে ওই দম্পতির জিম্মায় দেওয়ার জন্য ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারকে নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার আদালতের আদেশ পৌঁছানোর পর ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে ওই দম্পতির কাছে হস্তান্তর করেন।
শিশু ফাতেমাকে বুঝে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী সেলিনা আক্তার বলেন, ‘আমরা এক্সিম ব্যাংকের ঢাকার একটি শাখায় শিশুটির নামে ৫ লাখ টাকার একটি এফডিআর করেছি। যার ডকুমেন্ট আদালতে হলফনামাসহ জমা দিয়েছি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন ওর সার্বিক কল্যাণ করতে পারি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ মোতাবেক ৬ মাস অন্তর শিশুটিকে আদালতের পর্যবেক্ষণে নিয়ে আসতে হলফনামাও দিয়েছি আমরা।’
আইনজীবী সেলিনা আক্তার ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রে (আসক) সিনিয়র ল’ অফিসার হিসেবে কর্মরত। তার স্বামী মো. আলমগীর হোসেন একজন ব্যবসায়ী। ১০ বছর বিবাহিত জীবনে নিঃসন্তান তারা।
প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই জর্ডান থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে দেশে ফিরছিলেন জয়দেবপুরের স্বপ্না বেগম। একই বিমানে শিশু ফাতেমাকে নিয়ে তার মাও ফিরছিলেন। স্বপ্না জর্ডানে গৃহকর্মী হিসেবে গিয়েছিলেন। অজ্ঞাতপরিচয় ওই নারীও একই কাজে সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানতে পারেন স্বপ্না।
স্বপ্না বিমানবন্দর পুলিশকে জানান, ওই নারীও (ফাতেমার মা) জর্ডান থেকে একই ফ্লাইটে ফেরেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে কাস্টমস থেকে মালপত্র নিয়ে বের হয়ে বিমানবন্দরের পার্কিং এলাকায় স্বজনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন স্বপ্না।
এসময় বিমানে পরিচয় হওয়া শিশুটির মা তাকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আপা আমার বাচ্চাটাকে একটু ধরেন। ভেতরে মালপত্র রয়েছে, নিয়ে আসছি। আগে কথা হওয়ায় সরল বিশ্বাসে শিশুটিকে কোলে তুলে নেন স্বপ্না। কিন্তু দীর্ঘসময় অপেক্ষার পরও সেই নারী আর ফেরেননি।
পরে স্বপ্না আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যদের কাছে ঘটনাটি জানালে তারা শিশুসহ স্বপ্নাকে বিমানবন্দর থানায় পাঠায়। ওইদিনই বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর শিশুটিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়। শিশুটিকে পাওয়ার জন্য আদালতে ৮ দম্পত্তি আবেদন করেন।