শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭ || সময়- ১১:০৫ pm
সীমান্ত পাড়ের অপেক্ষায় হাজার হাজার গরু-মহিষ
বৃহস্পতিবার ২৪ আগস্ট ২০১৭ , ৪:১০ pm
সীমান্ত গরু-মহিষ.jpg

প্রহরনিউজ, রাজশাহী: কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন বাংলাদেশে ঢুকছে হাজার হাজার ভারতীয় গরু-মহিষ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুইটি ও রাজশাহীর একটি বিট খাটালের মাধ্যমে এসব গরু-মহিষ বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এছাড়াও সীমান্ত এলাকার পদ্মার চরগুলোতে রয়েছে হাজার হাজার গরু-মহিষ।

কোরিডোরের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় থাকা ওইসব গরু দুই তিনদিনের মধ্যেই বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। এসব গরু ভারতের শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এখানে এনে রাখা হয়েছে। তবে বিট খাটালের যে গরু-মহিষ আসে সেগুলো ভারতে শুল্ক দিয়ে আনা হয় বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে গরু-মহিষ আমদানিতে বিট খাটাল ও পদ্মার খেয়া ঘাটে সরকারিভাবে বেধে দেয়া নিয়মের চেয়ে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। সীমান্তের বিট খাটাল থেকে পদ্মা নদী পার করতে ৫০০ টাকা ট্যাক্সসহ গরু-মহিষ প্রতি ৭০০ টাকা খরচ হওয়ার কথা থাকলেও তাদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ১২০০ টাকা।

সরেজমিনে গিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর বিট খাটালে এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় পদ্মার পূর্ব পাড়ের বাখের আলী ঘাট থেকে পশ্চিম পাড়ের রঘুনাথপুর ঘাটে নৌকায় যাওয়ার সময় পদ্মার পাঁচটি চরে শতশত গরু দেখা গেছে। এগুলোর মধ্যে খলিফাপুর চর, দেবপুর চর, দশরোশিয়া চরের নাম জানা গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের চর বাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখের আলী ঘাটের ইজারাদার মকলেচুর রহমান পিন্টু জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ভারত থেকে গরুগুলো পাচার করে চরে রাখা হয়েছে। কোরিডোরের ছাড়পত্র নেয়ার পর সেগুলো পদ্মা নদী পার করা হবে।

জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বিট খাটাল রয়েছে সাতটি। এগুলো হলো- ওয়াদেপুর, রঘুনাথপুর, সাতরোশিয়া, বাখের আলী, চরবাগডাঙা, হাকিমপুর ও ফরিদপুর। এর মধ্যে শুধুমাত্র শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মার পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত ওহায়েদপুর ও রঘুনাথপুর এই দুইটি বিট খাটাল দিয়ে বর্তমানে গরু-মহিষ ঢুকছে বাংলাদেশে। বাকিগুলো বন্ধ রয়েছে। তবে কী কারণে ওই বিট খাটালগুলো বন্ধ রয়েছে তা জানাতে পারেননি বন্ধ বিট খাটালে সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে গত সোমবার রঘুনাথপুর বিট খাটাল দিয়ে এক হাজার ৯৯৯টি গরু-মহিষ বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ভোরে খাচ্চাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে গরু-মহিষগুলো ওই বিট খাটালে আসে। কোরিডোরের ছাড়পত্র অনুযায়ী সকালেই গরু-মহিষের গায়ে নম্বর বসিয়ে দেয় বিজিবি। বিকেলের মধ্যেই সেগুলো নৌকায় করে পদ্মা নদী পার করা হয়। এর আগের দিন এ বিট খাটাল দিয়ে আসে ১৫০০ গরু। এছাড়াও ওহায়েদপুর বিট খাটাল দিয়ে একইভাবে প্রতিদিন গরু-মহিষ আসছে। বিশরোশিয়া সীমান্ত দিয়ে এ বিট খাটালে গরু আসে।

গরু ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন জানান, বিট খাটালে গরু-মহিষ প্রতি ৫০ টাকা নেয়ার নিয়ম রয়েছে। এর মধ্যে সার্ভিস চার্জ (রাখাল খরচ) ২০ টাকা এবং অবস্থান ফি ৩০ টাকা। কিন্তু বিট খাটাল মালিকরা সেখানে আদায় করছে গরু প্রতি ২৫০ টাকা। এছাড়াও করিডোরের ছাড়পত্র নিতে ৫০০ টাকা ট্যাক্স নেয়ার নিয়ম থাকলেও বিট খাটাল মালিকরা নিচ্ছেন ৫৫০ টাকা।

অন্যদিকে, ফেরি ঘাটে গরু-মহিষ প্রতি ১৫০ টাকা নেয়ার নিয়ম থাকলেও নেয়া হচ্ছে ২৫০ টাকা। এ টাকার মধ্যেই নদী পার করে দেয়ার কথা থাকলেও ঘাট ইজারাদাররা তা দেয় না। ফলে নৌকা ভাড়া করে গরু-মহিষ নদী পার করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এ জন্য তাদের গরু-মহিষ প্রতি আরও ১৫০ টাকা করে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই গরু ব্যবসায়ী। এছাড়াও সীমান্ত থেকে নদী পার করে দেয়া পর্যন্ত প্রতিটি গরুর জন্য রাখালকে দিতে হয় ২০০ টাকা করে।

এ ব্যাপারে কথা বলতে রঘুনাথপুর বিট খাটাল মালিক আব্দুল খালেককে পাওয়া যায়নি। তবে গত এক সপ্তাহে এ পথ দিয়ে ছয় হাজার গরু-মহিষ বাংলাদেশে ঢুকেছে বলে জানান বিট খাটালের তত্ত্বাবধায়ক সবুর আলী। তাদের বিট খাটালে অতিরিক্ত কোনো টাকা আদায় করা হয়না দাবি করে সবুর আলী আরও জানান, রাখালের খরচ হিসেবে অতিরিক্ত ২০০ টাকা করে নেয়া হয়। যা নিয়মের মধ্যেই পরে।

চর বাগডাঙ্গা ইউনিয়নের মেম্বার জামাল উদ্দিন জানান, যে পথগুলো দিয়ে গরু-মহিষ আমদানি সহজ হয় সেগুলোর বিট খাটাল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রহস্যজনকভাবে সেগুলো বন্ধ করে দুর্গম এলাকার দুইটি বিট খাটাল দিয়ে গরু-মহিষ আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়। এতে গরু-মহিষ আমদানি করতে ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তি পোয়াতে হচ্ছে।

এদিকে, রাজশাহী জেলায় ছয়টি বিট খাটাল থাকলেও গরু ঢুকছে শুধুমাত্র একটি দিয়ে। চরমাজারদিয়াড় ওই বিট খাটাল দিয়ে প্রতিদিন ছয়শ থেকে এক হাজার গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করে। মঙ্গলবারও এ বিট খাটাল দিয়ে গরু আসতে দেখা যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিট খাটাল মালিক জানান, সাধারণত স্থানীয় বিজিবির কর্মকর্তারা নির্ধারণ করে দিতেন কোন বিট খাটাল দিয়ে কতটি গরু আসবে। সে অনুযায়ী বিজিবির বিওপি ক্যাম্পে ম্যাজেস দিতেন। কিন্তু এবার বিজিবির সদর দপ্তর থেকে কোন বিট খাটালের মাধ্যমে গরু-মহিষ আসবে তা নির্ধারণ করে ম্যাসেজ পাঠানো হচ্ছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে বিট খাটাল মালিকরা।