শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭ || সময়- ১০:৫১ am
যে বার্তা নিয়ে দেশে আসছেন খালেদা জিয়া
মঙ্গলবার ২৯ আগস্ট ২০১৭ , ১২:৩৮ pm
খালেদা জিয়া_prohor.jpg

প্রহরনিউজ, রাজনীতি: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর দেশে আসবেন। তার ফেরার পরেই বিএনপির রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে বলে মনে করছেন দলের সংশ্লিষ্ট সিনিয়র নেতারা। নতুন রূপে দলকে পুনর্গঠন, সহায়ক সরকারের রূপরেখাসহ বেশ কিছু নির্দেশনা নিয়ে আসছেন খালেদা জিয়া।

দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং বিএনপির ভবিষ্যৎ কান্ডারি তারেক রহমানের নির্দেশনাই প্রকাশ করবেন মা খালেদা জিয়া।

গত ১৫ জুলাই চোখের এবং পায়ের চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। লন্ডনের সম্পূর্ণ সময়টা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাটাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এরই মধ্যে তার চোখের এবং পায়ের চিকিৎসা সম্পূর্ণ হয়েছে।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলীয় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত আটকে আছে খালেদা জিয়ার ফেরার অপেক্ষায়। দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত আসবে লন্ডন থেকে। তারেক জিয়ার নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত দেয়া হবে। খালেদা জিয়া লন্ডন যাবার আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা চিহ্নিত করেন। সে বিষয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও মনে করেন দলের সিনিয়র নেতারা। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা, সরকার রূপরেখা না মানলে আন্দোলনের দিক নির্দেশনা, আসন্ন জাতীয় সংসদের নির্বাচনের প্রস্তুতি, ৩০০ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা, নতুন রূপে দলকে পুনর্গঠনসহ নানামুখি পদক্ষেপ।

বিএনপি চেয়ারপারন খালেদা জিয়ার লন্ডনের এ সফরকে অনেক গুরুত্ব দিচ্ছে দলের নেতাকর্মী। তারা মনে করছেন, খালেদা জিয়া দেশে ফেরার পরেই নতুন রূপে ফিরবে বিএনপি। অনেক বিষয়ে সংযোজন-বিয়োজন হবে দলের মধ্যে। নেত্রী আসার পরেই সহায়ক সরকারের রূপরেখা জাতির উদ্দেশ্যে তুলে ধরবেন। সরকার যদি সেই রূপরেখা না মানে তবে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।

বিএনপি চেয়ারপারন খালেদা জিয়া লন্ডনে যাবার পরে বিচার বিভাগে ষোড়শ সংশোধনীর রায় বাতিল হয়। এ নিয়ে দলটির সিনিয়র নেতারা সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং সরকারের পদত্যাগ দাবি করে। এরই মধ্যে রায়ের পর্যবেক্ষণকে সামনে রেখে সরকারকে চাপের মধ্যে রাখার চেষ্টা করছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৪টি আসনে বিনা ভোটে জয়ী হয়ে সংসদ গঠন করাকে অবৈধ দাবি করে মামলা করা পরিকল্পনাও করছে দলটি।

তবে খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা সমালোচনার ঝড় তোলেন। অনেক নেতাই মন্তব্য করেন, মামলার ভয়ে খালেদা জিয়া দেশ ত্যাগ করেছেন। দেশে ফেরার আর কোনো সম্ভাবনা নেই।

খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা এবং সহায়ক সরকারের রূপরেখাখা নিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশে ফেরার পরেই সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেয়া হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দলের সর্বোচ্চ কাঠামো ঠিক থাকলে আশা করা যায় ম্যাডাম আসার পরেই সহায়ক সরকারের রূপরেখা দিবেন। এ ছাড়া তিনি (খালেদা জিয়া) আসার পরেই দলীয় বেশ কিছু সাংগঠনিক বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিবেন।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর চোখ এবং বাতের চিকিৎসার জন লন্ডন গিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারন খালেদা জিয়া। সেবারও দুমাসের বেশি সময় সেখানে অবস্থান করে দেশে ফিরেছিলেন তিনি।

সূত্র : ফেমাসনিউজ