শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭ || সময়- ১০:৫২ am
দুই মাসে বিএনপির ৬০ লাখ সদস্য সংগ্রহ, ৬ কোটি টাকা আয়
বুধবার ৩০ আগস্ট ২০১৭ , ২:১৭ pm
forms-BNP-576x375.png

প্রহরনিউজ, রাজনীতি: বিএনপির দুই মাস জুড়ে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসুচী শেষ হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। তাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো এক কোটি সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন। আয় করবে দশ কোটি টাকা। কিন্তু পুরোপুরি না হলেও অর্ধেকের বেশী অর্জিত হয়েছে সেই লক্ষ্য। দুই মাসে ৬০ লাখ সদস্য ফরম বিক্রি করতে পেরেছে দলটি। ১০ টাকা করে প্রতিটি ফরম বিক্রি করে ৬ কোটি টাকা আয় হয়েছে। মুলত আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে চাঙ্গা, মাঠের নেতাকর্মীদের ডাটা সংগ্রহ ও তহবিল সমৃদ্ধ করতে এই কর্মসুচীতে গুরুত্ব দেয় দলটি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত ১ জুলাই রাতে গুলশানে নিজ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তিনি নিজেও সেদিন তার সদস্যপদ নবায়ন করেন।

বেগম জিয়ার নির্দেশনায় ১১ জন সাবেক ছাত্রনেতাকে দিয়ে গঠন করা হয় তদারকি টিম। জেলায় জেলায় কর্মসুচি উদ্বোধন করতে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র নেতাদের পাঠানো হয়। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খুলনা, বরিশাল, ঠাকুরগাঁও, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে গিয়ে কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। দলে দলে নেতারা ঢাকায় আসেন ফরম কিনতে। দল থেকে এক কোটি নতুন সদস্য সংগ্রহের টার্গেট পূরণের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিটি ওয়ার্ডে ২০০, পৌরসভার ওয়ার্ডে ৩০০ এবং সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে ১ হাজার করে নতুন সদস্য সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা হয়। প্রথম মাস জুলাইতে ৩৮ লাখ ফরম বিক্রি হয়ে যায়।দ্বিতীয় মাস আগস্টে বন্যার কারনে নেতারা ব্যস্ত হয়ে পড়েন ত্রান বিতরণ কর্মসুচি নিয়ে। ফলে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসুচিতে ভাটা পড়ে।

এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্য অর্জন করতে না পারার কারন হিসাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে সদস্য সংগ্রহ অভিযান কর্মসুচিতে ক্ষমতাসীন দল ও প্রশাসনের বাধা প্রদানকে দায়ী করা হয়েছে। নেতারা অভিযোগ করেন, রাজধানীর ধানমণ্ডি থানা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, মাদারীপুরের শিবচর, নেত্রকোনা, খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি পণ্ড করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দলটির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, বন্যার কারণেও এ অভিযান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বলেন, এ কর্মসূচির সময় বাড়ানো হবে। সদস্য সংগ্রহ একটি চলমান প্রক্রিয়া। বেঁধে দেওয়ার সময়ের পরও সদস্য ফরম বিক্রি ও জমা নেওয়া হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস জানান, দলের সদস্য যে কোনো সময় হওয়া যায়। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া। বছরের যে কোনো সময় কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সদস্য ফরম সংগ্রহ করা যাবে। এই ফরম জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাই করে দলের চেয়ারপারসন ও মহাসচিবের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রাথমিক সদস্য হওয়া যাবে।

সদস্য সংগ্রহ তদারকি টিমের সমন্বয়ক বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী জানান, নানাবিধ প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও আমাদের কর্মসূচি থেমে নেই। আমরা আজকালের মধ্যে বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবো।

ইতিপুর্বে ২০০৯ সালে এই কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। ওই সময় বিএনপির সদস্য সংগ্রহের টার্গেট ছিল ৫০ লাখ। ১৫ লাখ ফরম বিক্রি হয়েছিল তখন।


সূত্র : ইত্তেফাক