সোমবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ৬:৪০ am
দেড় শ গ্রামে ঈদ উদযাপন হচ্ছে আজ
শুক্রবার ১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ৩:১০ am
eid-_prohor1.jpg

প্রহরনিউজ, ধর্ম: সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে মাদারীপুর, চাঁদপুর, পটুয়াখালী, শেরপুর, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, চট্টগ্রামের পটিয়া ও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার প্রায় দেড় শ গ্রামের বাসিন্দারা আজ শুক্রবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছে। ৮০ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এসব এলাকার বাসিন্দারা ধর্মীয় বিভিন্ন উত্সব উদযাপন করে আসছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

চাঁদপুর : জেলার ৪০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ আজ আগাম ঈদ পালন করছেন। স্থানীয় সাদ্রা দরবার শরীফের পীর মাওলানা জাকারিয়া আল-মাদানী জানান, তৎকালীন পীর মাওলানা ইসহাক আরব দেশের সঙ্গে মিল রেখে আগাম রোজা রাখাসহ দুই ঈদ পালনের নিয়ম চালু করেন। হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা গ্রামে ১৯২৮ সাল থেকে এই প্রথার প্রচলন। একদিন আগে ঈদ পালন করা গ্রামগুলো হচ্ছে- হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল, শ্রীপুর, মনিহার, বরকুল, অলীপুর, বেলচোঁ, রাজারগাঁও, জাকনি, কালচোঁ, মেনাপুর, ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাচনমেঘ, খিলা, উভারামপুর, পাইকপাড়া, লক্ষ্মীপুর, বিঘা, উটতলী, বালিথুবা, শোল্লা, বদরপুর, মুলপাড়া, রূপসা, গোয়ালভাওর, কড়ইতলী, নয়ারহাট, মতলবের মহনপুর, এখলাসপুর, দশানী, নায়েরগাঁও, বেলতলীসহ কচুয়া ও শাহরাস্তির বেশ কয়েকটি গ্রাম। এছাড়া নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, শরীয়তপুর ও চট্টগ্রাম জেলার কয়েকটি তার অনুসারীরা আজ ঈদ উদ্যাপন করছেন।

এদিকে একদিন আগে ঈদের জামাত করা নিয়ে মতবিরোধও রয়েছে। এ নিয়ে সংঘর্ষে ১৯৮৬ ও ’৮৭ সালে দু’শতাধিক মানুষ আহত হন। এরপর থেকে প্রতিবছর সাদ্রায় ঈদের দিন ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

মাদারীপুর : জেলার চার উপজেলার ৩০ গ্রামে আজ ঈদ। এসব গ্রামের অর্ধলাখ সুরেশ্বরী মুরিদ ঈদ পালন করছেন। জানা গেছে, প্রায় ১৫০ বছর আগে থেকে সুরেশ্বর দরবার শরীফের মুরিদরা আগাম দুই ঈদ পালন করে আসছেন। সে হিসেবে মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের চরকালিকাপুর, মহিষেরচর, পূর্ব পাঁচখোলা, জাজিরা, কাতলা, তাল্টুক, খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর, পখিরা, খোয়াজপুর, কুনিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর, কালিকাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর, হোসনাবাদ, ছিলারচর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর, আংগুলকাটা, হাজামবাড়ী, কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের আ-ারচর, কয়ারিয়া, রামারপুল ও শিবচর উপজেলার বাহেরচর, কেরানীরবাটসহ ৩০ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আজ ঈদ করছেন।

কলাপাড়া : উপকূলীয় এই উপজেলায় চার হাজার পরিবার আজ ঈদ পালন করছেন। ধানখালী ইউনিয়নের উত্তর নিশানবাড়িয়া জাহাঁগিরিয়া, শাহ্ সুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণে এই অনুসারীদের ঈদের নামাজের প্রধান জামাত সকাল ৮টায় হবে। চালিতাবুনিয়া, গিলাতলী, ফুলতলী, পাঁচজুনিয়া ও ধানখালী দরবার শরীফের হাজারো অনুসারী প্রধান জামাতে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া কলাপাড়া পৌর শহরের নাইয়াপট্টি, উত্তর লালুয়া মাঝিবাড়িতে ঈদের জামাত হবে। জামাত শেষে তারা পশু জবাই করেন। নিশানবাড়িয়া দরবার শরীফের পরিচালক নিজাম উদ্দিন বিশ্বাস জানান, তারা চিটাগংয়ের চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের পশ্চিম এলাহাবাদ গ্রামের সিলসিলায়ে আলিয়া কাদরিয়া চিশতিয়া জাহাঁগিরিয়িা তরিকতের অনুসারী। স্থানীয় ভাষায় এদের চাঁদ টুপির অনুসারী নামে খ্যাত।

শরীয়তপুর : জেলার নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বরী পীরের ভক্তরাও আজ ঈদ করছেন। জেলার ৩৫টি গ্রামের ৩০ হাজার লোক ওই পীরের মুরিদ। সকাল ১০টায় সুরেশ্বরী পীরের মাজারসংলগ্ন মাঠে প্রথম জামাত হবে। এতে ইমামতি করবেন মাওলানা শাহ সুফি সৈয়দ বেলাল নূরী ও মোনাজাত পরিচালনা করবেন গদিনশীন পীর ও মোতোওয়াল্লী মাওলানা শাহ সুফি সৈয়দ কামাল নূরী সুরেশ্বরী। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে মুসলিম দেশগুলোতে একই দিনে ঈদ হওয়া উচিত। তবে সুরেশ্বরী পীরের ভক্তরা কোন পশু কোরবানি করেন না বলে তিনি জানান।