বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭ || সময়- ৫:৪৯ pm
বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার খেলা নিয়ে শঙ্কা!
শুক্রবার ১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ১০:২৪ pm
Srilanka_prohor_190.jpg

প্রহরনিউজ, খেলা : ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে শ্রীলঙ্কার সামনে মোক্ষম সুযোগ ছিল চলমান ভারত সিরিজ। এই সিরিজে জিততে পারলেই নিশ্চিত হয়ে যেত ইংল্যান্ডের অনুষ্ঠিতব্য আগামী বিশ্বকাপে মূল-পর্বে সরাসরি খেলা। সুযোগ ছিল সিরিজের অন্তত দুটি ম্যাচ জিতলেও। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাঠে গড়ানো সিরিজের চার ম্যাচের চারটিতেই সফরকারী ভারতের বিপক্ষে পরাজয় বরণ করে নিয়েছে স্বাগতিক লঙ্কানরা।

ক্রিকেট মাঠে লঙ্কানদের এমন দুর্দশায় আগামী বিশ্বকাপে মূল-পর্বে সরাসরি খেলা নিয়েও শুরু হয়েছে সংশয়। সুযোগ এখনো নষ্ট হয়ে যায়নি, তবে সেই ‘সুযোগ’ কাজে লাগাতে হলে শ্রীলঙ্কাকে এখন তাকিয়ে থাকতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিকে।

৮৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাংকিং টেবিলের অষ্টম স্থানেই আছে শ্রীলঙ্কা। আইসিসির সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর অর্থাৎ চলতি মাস পর্যন্ত যে আটটি দল র‍্যাংকিংয়ের সেরা আটে থাকবে, আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি অংশ নিতে পারবে তারা। অন্য পুরনো টেস্ট খেলুড়ে দল দুটিকে বিশ্বকাপে উঠার লড়াইয়ে খেলতে নামতে হবে আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর সাথে, যে বাছাই থেকে মাত্র দুটি দল পাবে বিশ্বকাপের মূল-পর্বের টিকিট।

তবে অষ্টম স্থানে থাকা শ্রীলঙ্কা হারের বৃত্তে থাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাচ্ছে দলটিকে টপকে যাওয়ার সুযোগ। কদিন পরই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলবে ক্যারিবীয়রা, এরপর ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলার জন্য। ঐ ম্যাচগুলোর সবগুলো যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতে যায়, তাহলে শ্রীলঙ্কাকে নয়ে ঠেলে গেইল-স্যামুয়েলসরা উঠে আসবেন আটে। সেক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কার সরাসরি বিশ্বকাপের মূল-পর্বে খেলার স্বপ্ন শুধু নষ্টই হবে না, রীতিমতো ধ্বংসই হয়ে যাবে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ এক টেস্ট জয়ে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যদিও হারের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না শ্রীলঙ্কা। ইনজুরি আর নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে চতুর্থ ম্যাচে দলে ছিলেন না দুজন সিনিয়র ক্রিকেটার। স্বাগতিক বোলারদের তুলোধুনো করে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা স্কোরবোর্ডে জড়ো করেছিলেন রানের পাহাড়। সেই রানের পাহাড় টপকানো দূরে থাক, স্বাগতিকরা থেমে গেছেন লক্ষ্যেরও ১৬৯ রান আগে।

 

রোহিত-বিরাটের দাপটে বিধ্বস্ত শ্রীলঙ্কা

সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির ৩০০তম ম্যাচ। আর সেটিকে স্মরণীয় করে রাখতে জয় উপহার দিতে চেয়েছিলেন সতীর্থরা। শেষপর্যন্ত সেই কাজে সফলও হলো বিরাট অ্যান্ড কোং। পাশাপাশি টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজেও শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইটওয়াশ করার দিকে আরো একধাপ এগিয়ে গেল ভারত। কলম্বোয় অনুষ্ঠিত চতুর্থ ওয়ানডে ম্যাচে ১৬৮ রানে জয় পেলেন কোহলিরা।
বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতেই ধোনির হাতে বিশেষ স্মারক তুলে দওয়া হয় টিম ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে। শচিন টেন্ডুলকার থেকে শুরু করে সুরেশ রায়না টুইট করে প্রত্যেকেই মাহিকে শুভেচ্ছা জানান।

পিছিয়ে ছিলেন না ধোনি ভক্তরাও। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেশের অন্যতম সফল অধিনায়ককে শুভেচ্ছা জানান। তবে সাবেকের জন্য বর্তমানের বলা একটি কথাই হয়তো থেকে যাবে খবরের শিরোনামে। বিরাট বলেন, ‘তুমিই সবসময় আমাদের অধিনায়ক থাকবে।’ আর কে জানে হয়ত ধোনির জন্যই বৃহস্পতিবার বেশ মারমুখী ভঙ্গিমায় ব্যাট করতে থাকেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক বিরাট। শুরুতেই শিখর ধাওয়ানের(৪) উইকেট হারালেও, বিরাট এবং রোহিত শর্মা ঝোড়ো গতিতে দলের রানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। প্রথমদিকে রোহিতের তুলনায় বিরাটের রান তোলার গতিই যেন বেশি ছিল।

একসময় ইডেনে করা মুম্বইকরের ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রানের(২৬৪) রেকর্ডও ভেঙে যেতে পারে বলে মনে হচ্ছিল। শেষপর্যন্ত বিরাটের ব্যাটে লাগাম পরান লাসিথ মালিঙ্গা। কিন্তু ততক্ষণে কেরিয়ারের ২৯ তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন বিরাট। বর্তমানে তাঁর সামনে কেবল রিকি পন্টিং(৩০) এবং শচীন তেণ্ডুলকর(৪৯)। ২৮ বছর বয়সি ক্রিকেটারের এদিনের ব্যাটিংয়ের পর সেই রেকর্ডও আর বেশিদিন টিকবে না বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। ১৭টি চার ও ২টি ছয়ের সৌজন্যে ৯৬ বলে ১৩১ রান করে আউট হন বিরাট। উলটোদিকে, রোহিত করেন ৮৮ বলে ১০৪ রান। মারেন ১১টি চার ও ৩টি ছয়।

এদিন ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেন হার্দিক পাণ্ডিয়া (১৯) ও কে এল রাহুল (৭)। তবে বহুদিন পর জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে দুরন্ত অর্ধশতরান করলেন মনীশ পাণ্ডে। ধোনির সঙ্গে গড়ে তুললেন দুরন্ত পার্টনারশিপও। এই দু’জনের দৌলতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে স্কোরবোর্ডে ভারতের রান দাঁড়ায় পাঁচ উইকেটে ৩৭৫ রান। এটিই শ্রীলঙ্কার মাটিতে কোনও সফরকারী দলের করা সর্বোচ্চ রান। এদিকে, এক রানের জন্য অর্ধশতরান না পেলেও একটি রেকর্ড করে ফেললেন মাহি। ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশিবার নটআউট থাকার রেকর্ড করে ফেললেন তিনি। ৩০০টি ম্যাচে মোট ৭৩ বার নটআউট ধোনি। এই রেকর্ডে আপাতত ধোনির পরে নাম রয়েছে শ্রীলঙ্কার চামিন্ডা ভ্যাস এবং দক্ষিণ আফ্রিকার শন পোলকের। তাঁরা নিজেদের ক্রিকেটীয় জীবনে ৭২ বার নট আউট থেকেছেন।

একদিকে ৩৭৬ রানের পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্যমাত্রা। উলটোদিকে, ভারতীয় বোলারদের আঁটসাঁট বোলিং। তাই ম্যাচে কোনোসময়েই ছিলেন না অ্যাঞ্জেলো ম্যাথেউজরা। ভালও শুরু করেও কোনো শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানই বেশিক্ষণ ক্রিজে ছিলেন না। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন ম্যাথেউজ (৭০)।

এছাড়া সিরিবর্ধনে করেন ৩৯ রান। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে বুমরাহ, পাণ্ডিয়া, যাদব দু’টি করে উইকেট পেয়েছেন। এছাড়া শার্দুল ঠাকুর ও অক্ষর প্যাটেল একটি করে উইকেট পেয়েছেন। তবে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সবার নজর ছিল শার্দুল ঠাকুরের দিকেই। কারণ তাঁর গায়ে ছিল জাতীয় দলের দশ নম্বর জার্সি। যে জার্সি পড়ে মাঠে নামতেন শচিন টেন্ডুলকার। জানা গেছে, নিজের অভিষেক ম্যাচের জন্য টিম ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে নিজেই সেই জার্সি চেয়ে নিয়েছিলেন শার্দুল। এখন দেখার আগামিদিনে মাস্টার ব্লাস্টারের মতোই খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছাতে পারেন কিনা।