শনিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ১২:৪৫ am
রোহিঙ্গাদের জন্য মিয়ানমারের পথে উদ্ধারকারী জাহাজ ফিনিক্স
বুধবার ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ১:০৮ pm
finix-prohor

প্রহরনিউজ ডেস্ক : ভূমধ্যসাগর থেকে ৪০ হাজারেরও বেশি শরণার্থীকে উদ্ধারের দাবি করা একটি সংগঠন তাদের কার্যক্রম মিয়ানমারে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে। রাখাইনে সহিংসতার পর যে রোহিঙ্গারা শরণার্থী হয়ে অন্য কোথাও অাশ্রয় খুঁজছে তাদের নিতে উদ্ধারকারী জাহাজ পাঠানোরও পরিকল্পনা করছে তারা।

দ্য মাইগ্রেন্ট অফশোর এইড স্টেশন (মোয়াস) ২০১৪ সাল থেকে ভূমধ্যসাগরে ইউরোপগামী শরণার্থীদের উদ্ধারকাজ চালিয়ে অাসছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সংস্থাটি 'দ্য ফিনিক্স' নামে উদ্ধারকারী জাহাজের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০ হাজার অভিবাসীকে সাগর থেকে উদ্ধার করেছে।

এবার তারা মাল্টা থেকে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে মিয়ানমারের জলসীমায় নিয়ে অাসার ঘোষণা দিয়েছে।

গত ২৪ অগাস্ট রাতে রাখাইন রাজ্যে একসঙ্গে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এ পর্যন্ত ৪শ’ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

সহিংসতার পর অন্তত ৮৭হাজার রোহিঙ্গা সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে বলে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ধারণা করছে। তার মধ্যেই মোয়াসের এ ঘোষণা এলো। তাদের উদ্ধারকারী জাহাজ ফিনিক্স তিন সপ্তাহের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটিই তিন বছর ভূমধ্যসাগরে কাজ করেছে।

মোয়াস বলছে, ফিনিক্সের মাধ্যমে রোহিঙ্গা গোষ্ঠীকে যতদূর সম্ভব মানবিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সাহায্য দেওয়ার পাশাপাশি ওই অঞ্চলে স্বচ্ছতা, সমর্থন ও জবাবদিহিতার একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে চায় তারা।

এদিকে ভূমধ্যসাগরে কাজ করা একটি সংগঠনের মিয়ানমারে চলে যাওয়ায় লিবিয়ার পরিস্থিতি অারো ঘোলাটে হয়ে পড়তে পারে বলে অাশঙ্কা করছেন অনেকে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশ শরণার্থী প্রবেশে কড়াকড়ি অারোপ করায় যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়ার উপর চাপ বাড়বে বলেও অাশঙ্কা করছেন তারা। ইউরোপে যেতে চাওয়া শরণার্থীদের একটি বড় অংশই লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালিতে ঢোকার চেষ্টা চালায়।

লিবিয়ার অস্থিতিশীলতা সেখানে অপেক্ষা করা কিংবা ফেরত পাঠানো শরণার্থীদের জীবনকে সংকটে ফেলতে পারে এমন অাশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন মোয়াসের সহ প্রতিষ্ঠাতা রেগিনা কাত্রাম্বোনে।