শনিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ১২:৫৯ am
নাড়ি ছেড়ে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ: স্বরূপে ফিরছে ঢাকা
বুধবার ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ৪:১২ pm
train-004_prohornews

প্রহরনিউজ, ঢাকা : প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফিরছেন রাজধানীবাসী। তাদের অনেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাসে গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে এসে নামছেন। তবে এবার ভিড় কম।

আজ বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) থেকে ঢাকামুখী মানুষের চাপ বাড়বে বলে জানিয়েছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে গিয়ে দেখা গেছে, চাপ কম থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে ভোগান্তি ছাড়াই পরিবার-পরিজনসহ ফিরতে পারছেন কর্মজীবীরা। গ্রামের বাড়ি থেকে আনা চাল-সবজিসহ ব্যাগ-বোচকা নিয়ে ফিরছেন বেশিরভাগ মানুষ। তবে বাসস্ট্যান্ড থেকে সরাসরি কর্মস্থলে যোগ দেবেন বলেন জানান অনেকেই।

যাত্রীরা জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার বাসগুলো নির্দিষ্ট সময়েই গাবতলীতে নামাচ্ছে। মহাসড়কে যানজট কম থাকায় স্বস্তিতেই ফিরছেন তারা। শ্যামলী পরিবহনের বাসে পঞ্চগড়ের বোদা থেকে আসা ইমতিয়াজ বলেন, ছুটি কম থাকায় তাড়াতাড়ি ফিরলাম। পরিবারের অন্যরা আরও দেরিতে ফিরবেন। কোনো ঝামেলা ছাড়াই ঠিক সময়ে গাড়ি ছেড়েছে। রাস্তায় যানজট না থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে ঢাকায় পৌঁছাতেও পেরেছি। এখান থেকেই সরাসরি অফিসে যাবো। নাবিল পরিবহনের কর্মকর্তা সুইট জানান, উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা গাড়িগুলো নির্দিষ্ট সময়েই গাবতলীতে পৌছাচ্ছে। যাত্রাপথে ভোগান্তি না হওয়ায় যাত্রীদেরকেও স্বস্তিতে দেখা যাচ্ছে।

শুক্রবার পর্যন্ত ঢাকায় ফেরা যাত্রীর চাপ থাকবে বলেও জানান তিনি। তবে ফেরিঘাটে হালকা যানজট থাকায় দক্ষিণবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা গাড়িগুলো এক থেকে দেড়ঘণ্টা দেরিতে গাবতলীতে আসছে। ঢাকা-যশোরগামী দর্শনা পরিবহনের কর্মকর্তা রবিউল বলেন, দক্ষিণবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা গাড়িগুলো গাবতলী পৌছাতে একটু দেরি হচ্ছে। ঢাকায় ফেরা যাত্রীর চাপ গত সোমবারই শুরু হয়েছে, বুধবার থেকে আরও বাড়বে।

এখনো পুরোদমে ফেরা শুরু না হওয়ায় অনেকটাই যানজটহীন ও স্বস্তিতে ঢাকায় ফিরছেন মানুষ। তবে ঢাকামুখী যাত্রীদের থেকে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এদিকে, যাত্রপথের দুর্ভোগ এড়াতে বা নানা প্রয়োজনে যারা ঈদে গ্রামে যেতে পারেননি তাদের অনেকেই এখন ছুটছেন বাড়িতে। ফলে ঈদের পর থেকেই রাজধানীর গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে লেগেই আছে ঈদ শেষে রাজধানীমুখী ও ঘুরমুখী যাত্রীদের ভিড়।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে এমনটাই দেখা গেছে। গতকাল ভোর থেকেই প্রচুরসংখ্যক মানুষ গাবতলী দিয়ে ফিরছেন ও যাচ্ছেন। টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, রোজিনা, হানিফ, সোনার তরী, গোল্ডেন লাইনসহ বেশ কয়েকটি বাস যাত্রী নিয়ে ভোর থেকে ঢাকায় ফিরেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত এসব বাস ছিল যাত্রীতে ভর্তি। আবার অনেক বাসে যাত্রী দাঁড় করিয়েও আনা হয়েছে। তবে যানজট না থাকায় পথে কোনো ভোগান্তি হয়নি যাত্রীদের।

নড়াইল থেকে গতকাল সকাল ৭টায় রওনা দিয়ে বেলা ১১টায় গাবতলীয় পৌঁছান নওরোজ। তিনি বলেন, আজ বুধবার থেকে অফিস খুলবে। তাই অনেক কষ্টে বাসের টিকিট ম্যানেজ করে ঢাকায় ফিরতে হলো। পথের ভোগান্তি না থাকলেও ৩৫০ টাকার টিকিট ৫০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ করেন তিনি। নীলফামারী থেকে আলম এন্টারপ্রাইজের একটি বাসে ৯ ঘণ্টায় সকালে গাবতলীতে পৌঁছান আলমগীর। তিনি বলেন, ঈদে বাড়ি যাওয়ার চেয়ে ফেরার সময় অনেক আরামে ফিরতে পারলাম। তবে বাড়তি ভাড়া দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়েছে।

এদিকে, এখনো গাবতলীতে বাড়িমুখী যাত্রীদের ভিড় রয়েছে। হানিফ কাউন্টারের সামনে পরিবার নিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন মিরপুরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী হায়দার মিয়া। তিনি বলেন, ঈদে অনেক ভিড় আর টিকিটের দামও বেশি। এ কারণে পরিবার নিয়ে ঢাকায় ঈদ করেছি। এখন শান্তিতে বাড়ি যাচ্ছি। ৫-৬ দিন পর আবার ফিরব।

গাবতলী বাস টার্মিনালের বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী রবিবার মধ্যে ঈদে গ্রামে ফেরা মানুষরা ঢাকা ফিরবেন। এ কারণে এখন অনেকটা চাপ কম রয়েছে। ঢাকা থেকে এখন অনেক বাস খালিও যাচ্ছে। ফেরার সময় যাত্রী ভর্তি হয়ে ফিরছে। তবে শুক্র ও শনিবার যাত্রী ফেরার অনেক চাপ থাকবে।

অন্যদিকে, যাত্রী ফেরার চাপ কম থাকায় অনেক পরিবহনের বাস এখনও ঢাকায় ফেরা শুরু করেনি বলে জানান, খালেক এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার মাস্টার সাহীন মাহমুদ। তিনি বলেন, শুক্রবার থেকে খালেক পরিবহনের বাসগুলো ঢাকায় ফেরা শুরু করবে। রোববারের মধ্যে সব বাস ঢাকায় ফিরে আসবে।