বুধবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ১১:৩০ am
মিয়ানমারের ওপর অবরোধ আরোপ না করতে কূটনৈতিক তৎপরতা
বুধবার ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ১০:৩৫ pm
কূটনৈতিক তৎপরতা

প্রহরনিউজ, প্রবাস: রাখাইনের সহিংসতার জেরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যাতে কোনো ধরনের অবরোধ আরোপ করতে না পারে; তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে মিয়ানমার। বুধবার দেশটির সরকার বলছে, রাখাইনের সহিংসতার জেরে নিরাপত্তা পরিষদ যাতে কোনো ধরনের অবরোধ আরোপের মতো সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সেলক্ষ্যে চীন এবং রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক চ্যানেল আলোচনা শুরু করেছে মিয়ানমার।

রাখাইনে দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের সহিংসতায় অন্তত দেড় লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়েছে। এদিকে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাখাইন রাজ্যের সহিংসতার জন্য সন্ত্রাসীদের দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় এই উপদেষ্টা।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশি তল্লাশি চৌকিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলায় ১২ পুলিশ সদস্য নিহত হয়। পরে রোহিঙ্গাবিরোধী কঠোর অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। রাখাইনে সেনাবাহিনীর নিপীড়ন থেকে বাঁচতে দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়েছে।

রোহিঙ্গা নিপীড়নের জেরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার ঝড়ে প্রথমবারের মতো এই ইস্যুতে মুখ খুলেছেন সু চি। মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) এই নেত্রী রাখাইনের সহিংসতা নিয়ে মিথ্যা সংবাদ ছড়ানোর এনেছেন। সু চি বলেন, সন্ত্রাসীদের স্বার্থে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে উত্তেজনা উসকে দেয়া হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে সু চি এ মন্তব্য করলেও পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি। ইন্দোনেশিয়াসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশের চাপের মুখে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলেন তিনি। বৌদ্ধ অধ্যুষিত মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবিতে বুধবারও ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে লেখা এক বিরল চিঠিতে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরাস রাখাইনে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের কারণে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করে দেন। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, জাতিগত নিধনের এই চেষ্টার কারণে ওই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরির ঝুঁকিও রয়েছে।

রাজধানী নেইপিদোতে এক সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থং তুন বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী দুই সদস্য চীন এবং রাশিয়ার সঙ্গে তারা যোগাযোগ করছেন; যাতে রাখাইন সংকটের জেরে পরিষদে জাতিসংঘের যে কোনো ধরনের অবরোধ আরোপের প্রস্তাবনা ঠেকানো যায়।

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি যাতে নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে না তোলা হয় সেজন্য আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ কিছু দেশের সঙ্গে আলোচনা করছি। চীন আমাদের বন্ধু এবং রাশিয়ার সঙ্গেও আমাদের একই ধরনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। সুতরাং নিরাপত্তা পরিষদে এই বিষয়টিকে নেয়া সম্ভব হবে না।’

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয় সংস্থার সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত ১২ দিনে বাংলাদেশে প্রায় এক লাখ ৪৬ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। গত বছরের অক্টোবরে রাখাইনে একই ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সেসময়ও রোহিঙ্গাদের ঢল নামে বাংলাদেশ সীমান্তে। দুই দফার এ সহিংসতায় বাংলাদেশে প্রায় দুই লাখ ৩৩ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছেন, বুধবার শতাধিক রোহিঙ্গাবাহী অন্তত তিনটি নৌকা নাফ নদে ডুবে গেছে। কোস্টগার্ড কমান্ডার এম এস কবির রয়টার্সকে বলেন, নৌকাডুবির ঘটনায় তিন শিশুসহ ছয় জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।