বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ৯:৩৯ pm
৪০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমানকে ভারত ছাড়া করবেন মোদি!
শনিবার ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ৫:১৫ pm
Modi-Suuchi.jpg

প্রহরনিউজ, প্রবাস: যখন সারা বিশ্ব জুড়ে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যা নিয়ে প্রতিবাদ চলছে তখনই ভারতে আশ্রয় নেওয়া ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ভারত থেকে বের করে দেওয়ার ব্যাপারে সরকারি নথি জারি করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।

ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বলেন, ‘যেহেতু ভারতে কোনো শরণার্থী আইন নেই। নেহরু সরকার থেকে শুরু করে মোদি সরকার, কেউই জাতিসংঘের ১৯৫১ সালের ‘রিফিউজি কনভেনশনের’ ঘোষণাপত্রে সই করেনি। আলাদা করে কোনো আইনও ভারতে তৈরি হয়নি। তাই এই পদক্ষেপকে অবৈধ বলার সুযোগ নেই।’

ইউনাইটেড নেশনস হাই কমিশনার ফর রিফিউজি (ইউএনএইচসিআর) এর দিল্লি অফিস থেকে প্রায় ১৪ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান শরণার্থীদের নাম পরিচয় পরীক্ষা করে নথিভুক্ত করলেও, ভারতে তার আইনত কোনো স্বীকৃতি নেই।

এটি এক ডিলে দুই পাখি শিকারের মত উল্লেখ করে কিরেণ রিজিজু বলেন, ‘একদিকে তিনি (মোদি) বর্তমান মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। সে দেশে চিনের প্রভাব যাতে বেশি না পড়ে, তার জন্য মায়ানমার সফরে গিয়ে সে দেশে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের লড়াইকে সমর্থন জানিয়ে এসেছেন।’

অন্যদিকে মোদির নিজের দক্ষিণপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদের সঙ্গে মিয়ানমারের বৌদ্ধ কট্টরপন্থার আদর্শগত লাইন একদম মিলে গেছে। ঘরে বাইরে তিনি কট্টরপন্থীদের কাছে হিরো হয়ে গেছেন।

বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী দাবি করেছেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের এ দেশে ঠাঁই দিলে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই জেহাদিরা রোহিঙ্গাদের উস্কে দিতে শুরু করেছে। কারণ মিয়ানমার সরকারেরও বক্তব্য রাখাইন প্রদেশে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির ব্যানারে জঙ্গি কার্যকলাপ চলছে। তারই ফলশ্রুতি সেনা চৌকিতে আক্রমণ। পরবর্তীতে সেনা অভিযান।

ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশিদের সম্বন্ধে বলেছিলেন, ওখানকার হিন্দু সংখ্যালঘুরা এদেশে স্বাগত। কিন্তু সংখ্যাগুরু মুসলমানরা অনুপ্রবেশকারী হিসেবেই চিহ্নিত হবেন। বিজেপিও ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইস্তেহারে লিখেছিল, অত্যাচারিত হিন্দুদের কাছে ভারত স্বাভাবিক ঘর হয়ে থাকবে। তারা এখানে স্বাগত।

উল্লেখ্য, বছরের পর বছর ধরে মায়ানমার সরকারের অত্যাচারে ঘর ছাড়া হয়েছেন এই রোহিঙ্গা মুসলমানরা। সম্প্রতি ২৫ অগস্ট সে দেশের সেনা চৌকিতে হামলার ফলে পাল্টা হিসেবে মায়ানমানের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ কট্টরপন্থীদের অত্যাচার আরও বেড়েছে।

ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, নির্বিচারে গুলি চলছে। লাখ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু হয়ে পাহাড়-জঙ্গল পেরিয়ে বাংলাদেশে ঠাঁই নিচ্ছেন। কোনো মিডিয়া রোহিঙ্গাদের বাস যেখানে, সেই রাখাইন প্রদেশে ঢুকতে পারছে না। চুপচাপ সেই গণহত্যার মদত দেওয়াতে অভিযুক্ত হয়েছেন সে দেশের শান্তিতে নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সুচি।


সূত্র : প্রিয়.কম