শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭ || সময়- ১১:১৩ pm
মিয়ানমার সেনাবাহিনী তিন হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে
রবিবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ১১:২৮ pm
হাজার রোহিঙ্গা

প্রহরনিউজ, প্রবাস: ২৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত তিন হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে রোহিঙ্গা বিষয়ক বৈঠকের পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

তিনি বলেন, সমস্যার যেহেতু তৈরি মিয়ানমারে, সুতরাং সমাধানও তাদেরই করতে হবে। বাংলাদেশ কেবল তাদের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করতে পারে। এসময় তিনি রোহিঙ্গা কারা সেটা তুলে ধরেন কূটনীতিকদের কাছে। এবং চলমান রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দেওয়া বিবৃতিও তুলে ধরেন। সবার দেওয়া বিবৃতিতেই মানবিক বিবেচনাবোধের জায়গা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করা রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা এরই মধ্যে সাত লাখ ছাড়িয়েছে। গত ১৫ দিনেই বাংলাদেশে এসেছে প্রায় তিন লাখ শরণার্থী। এছাড়া রাখাইনে চলমান অভিযানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা রাতারাতি দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে জানিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর বহুদিন ধরে চলমান সংঘর্ষ-সহিংসতা সঙ্কট সমাধানে ২০১৬ সালের আগস্টে গঠিত হয় অ্যাডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেট। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে ওই কমিশন এক বছরের তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চির কাছে জমা দেয় চলতি বছরের ২৪ আগস্ট।

৬৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন জমা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ২৪ আগস্ট দিবাগত রাতে ত্রিশটি পুলিশ ও সেনাচৌকিতে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহত হয় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য। তারপরই হামলার জন্য রোহিঙ্গা ‘জঙ্গি’দের দায়ী করে জবাব হিসেবে সেনাবাহিনী পুরো অঞ্চলে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। সেনাবাহিনীর ওই হামলায় এখনও পর্যন্ত ৪শ’র বেশি মানুষ মারা গেছে, আর প্রাণভয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে পাড়ি জমাচ্ছে বাংলাদেশে। নৌপথে পালিয়ে আসার পথে নৌকাডুবিতেও বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন না করার উদ্দেশ্যেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এই হত্যাকাণ্ড শুরু করে।