বুধবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ৪:৩৭ am
উত্তর কোরিয়ায় বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা
মঙ্গলবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ১১:২৮ pm
north korea.jpg

প্রহরনিউজ, আন্তর্জাতিক: নিজেদের ষষ্ঠ ও সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর ফলে ফের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে উত্তর কোরিয়া।

৩ সেপ্টেম্বর চালানো ওই পরীক্ষার কারণে এবার দেশটির টেক্সটাইল রপ্তানি ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সোমবার নিরাপত্তা পরিষদের সকল সদস্যের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে দেশটির ওপর এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এই নিয়ে ২০০৬ সাল থেকে দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ নবমবারের মতো সর্বসম্মতভাবে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো।

দেশটির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাবটি আরো অনেক কঠোর ছিল, কিন্তু উত্তর কোরিয়ার মিত্র ও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী দুই সদস্য চীন ও রাশিয়ার সমর্থন আদায়ের জন্য প্রস্তাবটি অনেকটা নমনীয় করা হয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

২০১৬ সালে উত্তর কোরিয়ার প্রধান রপ্তানি দ্রব্য কয়লা ও অন্যান্য খনিজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল নিরাপত্তা পরিষদ। এবার দেশটির দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানি পণ্য বস্ত্রের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হল।

কোরিয়া ট্রেড-ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এতে দেশটি বার্ষিক ৭৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় হারাবে। দেশটির রপ্তানি করা বস্ত্রের ৮০ শতাংশ চীনে যেত।

দেশটির তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বার্ষিক ২০ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত পেট্রলিয়াম পণ্য ছাড়াও উত্তর কোরিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার আমদানি করা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বেশিরভাগই চীন সরবরাহ করতো।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনার বিষয়ে জ্ঞাত এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বার্ষিক প্রায় ৪৫ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত পেট্রলিয়াম পণ্য ও ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমাদানি করে উত্তর কোরিয়া।
নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবে ভোটাভুটির পর জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেন, “আজ নিষেধাজ্ঞা আরো জোরদার করে আমরা আনন্দিত না। আমরা যুদ্ধের দিকে তাকিয়ে নেই, কারণ উত্তর কোরিয়ার শাসকরা এখনও ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্ন’ পার করেনি।

“দেশটি যদি পারমাণবিক কর্মসূচী বন্ধ করতে রাজি হয়, ভবিষ্যৎ ফিরে পাবে তারা; আর যদি দেশটি বিপজ্জনক পথেই চলতে থাকে, আমরা আরো চাপ দেওয়া অব্যাহত রাখবো।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘দৃঢ় সম্পর্কের’ কারণেই নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা সফল হয়েছে বলে জানান তিনি।

উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচীতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি প্রাপ্যতা হ্রাস ও এতে তহবিল যোগানো বাধাগ্রস্ত করতেই এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে দাবি করেন হ্যালি।

অপরদিকে প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন দিলেও উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আরো জোরদারে দেশটিতে মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে রাশিয়া ও চীন।


সূত্র : ইন্টারনেট