মঙ্গলবার ২১ নভেম্বর ২০১৭ || সময়- ১২:৪৮ pm
ভারতে রোহিঙ্গাদের স্থান নেই: কিরেন জিজিজু
বৃহস্পতিবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ২:০৫ pm
কিরেন জিজিজু.jpg

প্রহরনিউজ, ভারত: ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন জিজিজু বলেছেন,‘ভারতে রোহিঙ্গাদের কোনোমতেই ঠাঁই দেয়া হবে না, তারা বেআইনি অনুপ্রবেশকারী’। বুধবার ওই মন্তব্য করেন তিনি।

রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতে ভারতকে ‘ভিলেন’ বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করে এর নিন্দা করেন রিজিজু। দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এটিকে তিনি ‘সংগঠিত প্রয়াস’ বলে অভিহিত করেন।    

রোহিঙ্গা বিতাড়ন ইস্যুতে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রাদ আল হুসেইন ভারতের পদক্ষেপের নিন্দা করার দু’দিন পর রিজিজু ওই মন্তব্য করলেন।

মিয়ানমারে নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে ও প্রাণ বাঁচাতে ভারতে প্রায় চল্লিশ হাজার  রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি ওই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেয়ায় জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রা’দ আল হুসেইন তার তীব্র নিন্দা করেন।  

মিয়ানমার লাগোয়া ভারতের মণিপুরের পাহাড়ি এলাকা দিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমরা যাতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সীমান্তে সতর্কতা জারি করাসহ সীমান্তরক্ষীদের টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ভারতের দরজা বন্ধ হলেও বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অবশ্য উত্তর-পূর্ব ভারতে বাস করা চাকমা ও হাজং উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন।  

১৯৬৪ সাল নাগাদ পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা থেকে আসামের তৎকালীন লুসাই পাহাড় হয়ে চাকমা (বৌদ্ধ)-হাজং (হিন্দু) সম্প্রদায়ের মানুষজন ভারতের অরুণাচল প্রদেশে বাস করা শুরু করেন। সে সময় ওই জনগোষ্ঠীর মোট শরণার্থী সংখ্যা পাঁচ হাজার হলেও বর্তমানে তা প্রায় এক লাখে পৌঁছেছে।

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৫ সালে চাকমা ও হাজংদের নাগরিকত্ব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু অরুণাচল প্রদেশ সরকার ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানালেও সুপ্রিম কোর্ট তা খারিজ করে দেয়।  

অরুণাচল প্রদেশে কমপক্ষে এক লাখ চাকমা-হাজংকে নাগরিকত্ব দেয়া হলে কংগ্রেস দল তাতে সুবিধা পেতে পারে এবং বিজেপির বিপদ বাড়তে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন, ‘কংগ্রেস সরকারই ১৯৬৪ ও ১৯৬৯ সালের মধ্যে ওদের (চাকমা-হাজং) বসিয়েছিল। অরুণাচল প্রদেশ বাদে অন্য জায়গায় এদের বসতি স্থাপন করা যেত। স্থানীয় মানুষদের মতামত না নিয়ে কংগ্রেস তাদের অরুণাচল প্রদেশে জায়গা দিয়ে এক বড় ভুল করেছিল।’

চাকমা-হাজংরা নাগরিকত্ব পেলেও স্থানীয় লোকেরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন তা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন কিরেন রিজিজু।