মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ২:৫৬ pm
রোববার থেকে ২৭ জেলায় ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ
বুধবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ৩:৫৪ pm
ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ.jpg

প্রহরনিউজ, প্রাণীজ: প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা-ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের লক্ষে প্রায় ৭০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকাসহ ২৭ জেলার ইলিশ প্রজননক্ষেত্রে ১ অক্টোবর থেকে ২২ পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশধরা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

জেলা ২৭টি হচ্ছে- চাঁদপুর, লক্ষীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, শরীয়তপুর, ব্রাহ্মনবাড়িয়া, ঢাকা, মাদারীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ি, জামালপুর, নারায়নগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, খুলনা, কুষ্টিয়া ও রাজশাহী জেলার সকল নদ-নদীছাড়াও দেশের সমুদ্র উপকুল এবং মোহনায়ও এই ২২দিন ইলিশধরা বন্ধ থাকবে। ইলিশ প্রজননক্ষেত্রচ্ছাড়াও দেশব্যাপী এই ২২দিন পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, বিপণন, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহণ, মজুদ ও বিনিময় নিষিদ্ধসংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। সারাদেশের মাছঘাট, মৎস্য আড়ত, হাটবাজার ও চেইনশপে ব্যাপক অভিযান চালানো হবে। এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে মন্ত্রণালসহ মৎস্য অধিদফতর, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, নৌপুলিশ, র‍্যাব, বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলা প্রশাসন একযোগে কাজ করবে।

জেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে ১ অক্টোবরের আগে জেলেদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সভা, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকিং করা হবে।

এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত চাঁদপুর জেলা ট্রাস্কফোর্স ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে। এ অভিযানে এসব এলাকায় মাছ আহরণ, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সফিকুর রহমান বলেন, গত কয়েক বছর জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করায় ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের কয়েকটি অভয়াশ্রমের মধ্যে চাঁদপুরের ১শ’কিলোমিটার এলাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ মৎস গবেষণা ইনিস্টিটিউট চাঁদপুর নদী কেন্দ্রের প্রধান মৎস্য গবেষক ডা: মাসুদ হোসেন খাঁন জানান, ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে এ অভিযানের ফলে ৬ লাখ ৬৮ হাজার ২৯১ কেজি ডিম উৎপাদন হয়। ফলে ৩৯ হাজার ২৬৮ কেজি জাটকা যুক্ত হয়, সর্বোপরি জেলেরা ৩ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ আহরণ করে।

কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গত ১৭ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ বিষয়ে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আবদুস সবুর মন্ডল বলেন, সরকার জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় সফল অভিযান পরিচালনা করায় মানুষ আবার ইলিশ উৎপাদনের সুফল পেতে শুরু করেছে। কাজেই এবারের নিষেধাজ্ঞার সময় সবাইকে মা ইলিশ রক্ষার আন্দোলনে নামতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো জেলে যদি মাছ ধরতে নদীতে যায়, তাদের সরাসরি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে। সেই ব্যক্তির জেল হবে, জামিন পাবে না এবং জব্দ করা জাল ও নৌকা সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংস করা হবে।

যাদের প্ররোচনায় জেলেরা মাছ ধরতে যাবে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসনের সব প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।