মঙ্গলবার ২১ নভেম্বর ২০১৭ || সময়- ২:২০ am
জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি টিআইবির
বুধবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ , ৬:২৯ pm
Image-2

প্রহরনিউজ, ঢাকা: দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার জনগণের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস ২০১৭ উপলক্ষে আজ সকালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে স্বাধীন মত প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বানও জানায় টিআইবি।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। অন্যদের মধ্যে টিআইবি কর্মী, সদস্য ও টিআইবি’র অনুপ্রেরণায় ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ইয়েস গ্রুপের সদস্যরা মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। ২৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস উপলক্ষে এ বছর টিআইবি’র উদ্যোগে ‘তথ্যের অধিকার, তথ্যই শক্তি; সুশাসনের হাতিয়ার, দুর্নীতি থেকে মুক্তি’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় পর্যায়সহ টিআইবি’র অনুপ্রেরণায় গঠিত দেশের ৪৫টি সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) অঞ্চলে তথ্য ও পরামর্শ ডেস্ক, মানববন্ধন, র‌্যালি, সেমিনার, দুর্নীতিবিরোধী কার্টুন প্রদর্শনী ও পথনাটকসহ বিভিন্ন দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আমাদের সংবিধানে চিন্তার স্বাধীনতা, বাক্্-স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে এবং এই স্বাধীনতাকে সুদৃঢ় ও কার্যকর করার লক্ষ্যেই তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হয়েছে। কিন্ত সংশ্লিষ্ট প্রষ্ঠিানগুলো যদি একদিকে আইনটি বাস্তবায়নের কথা বলে আর অন্যদিকে মানুষের বাক্্-স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তাহলে আইনটির কার্যকর বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। এর ফলে আইনটির সুফল থেকে মানুষ বঞ্চিত হবে। ”

দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় তথ্য অধিকার আইন একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে বলে উল্লেখ করে ড. জামান বলন, “বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম কর্মীসহ যারা স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার চর্চা করেন তারা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার কারণে প্রায়ই ঝুঁকির সম্মুখীন হন।” তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. জামান জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে সাফল্য অর্জনকারী বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা এবং তথ্য অধিকার বিষয়ে টিআইবি পরিচালিত বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা থেকে চিহ্নিত তথ্য অধিকার বিষয়ক ৭টি করণীয় মানববন্ধনে তুলে ধরা হয়। করণীয়গুলো হলো: তথ্য অধিকার আইনে ব্যবসা, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যকে অন্তর্ভুক্ত করা; কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য প্রাপ্তির সঠিক আবেদন তৈরিতে সহায়তার জন্য সরকার কর্তৃক জনসাধারণের জন্য ‘তথ্য ও পরামর্শ ডেস্ক’ বা অনলাইন উদ্যোগ গ্রহণ; সকল কর্তৃপক্ষকে আইনের ধারা ৫ ও সংশ্লিষ্ট প্রবিধানমালা ২০১০ অনুযায়ী তথ্য সংরক্ষণ এবং স্ব-উদ্যোগে তথ্য প্রকাশের নীতিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া; এবং তথ্য সংরক্ষণের সহায়ক হিসেবে বিগত পাঁচ বছরে প্রাপ্ত আবেদনপত্র বিশ্লেষণ করা।

এছাড়াও তথ্য প্রদানে নিয়োজিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে জ্ঞান ও তথ্য প্রদানে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা অর্জনে বিভিন্ন কারিগরী ও অনলাইন প্রশিক্ষণ প্রদান; তথ্য ও প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার ও আইন বাস্তবায়নের গতি, তথ্য প্রদানে কর্তৃপক্ষের দক্ষতা ও সংগতি পর্যবেক্ষণে তথ্য কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ মনিটরিং কার্যক্রমে সুশীল সমাজ ও জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগদান; তথ্য কমিশনের নেতৃত্বে সকলের সক্রিয় সম্পৃক্ততায় বিভিন্ন মেয়াদে পর্যায়ক্রমে কৌশলগত কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং এর বাস্তবায়নে বার্ষিক জাতীয় বাজেটে অর্থ-বরাদ্দ রাখা; এবং বিদ্যমান অন্যান্য আইন এবং বিধিকে তথ্য অধিকার আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ব্যবস্থা গ্রহণ ও কার্যকর তথ্য কমিশনের ক্ষমতা প্রয়োগে বিচার বিভাগ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহের সক্রিয় সমর্থন নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।