বুধবার ২৪ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ২:৪০ am
প্রতিবছর ৪০ হাজার নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত
বুধবার ১১ অক্টোবর ২০১৭ , ১:২৮ am
স্তন ক্যানসারে.jpg

প্রহরনিউজ, স্বাস্থ্য: সারা বিশ্বেই স্তন ক্যানসার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ মারণঘাতী রোগ সবচেয়ে বেশি নারীর জীবন কেড়ে নেয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি আট নারীর একজন স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। আর বাংলাদেশে এ হার ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতিবছরই দেশের ৪০ হাজার নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। এমন তথ্যই দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনে গতকাল এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রতিবছর স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত ৭০ শতাংশ নারী সচেতনতার অভাবে অথবা বিনাচিকিৎসায় মারা যান। কারণ আমাদের দেশের অধিকাংশ রোগী চিকিৎসকের কাছে শেষ পর্যায়ে যান। অথচ পশ্চিমা দেশগুলোয় স্তন ক্যানসারে মৃত্যুর হার মাত্র ১১ শতাংশ। এর অন্যতম কারণ সেখানকার নারীরা সচেতন হওয়ায় রোগটি প্রাথমিক অবস্থায়ই ধরা পড়ে।
‘স্তন ক্যানসার সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজক ছিল দ্য ব্লু স্কাই চ্যারিট্যাবল ফাউন্ডেশন। বাংলাদেশে স্তন ক্যানসার সম্পর্কে নারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, পরামর্শ প্রদান ও আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবায় কাজ করছে এ প্রতিষ্ঠানটি। সেমিনারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. নমিতা হালদার, দ্য ব্লু স্কাই চ্যারিট্যাবল ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব অ্যাডভাইজার আয়েশা শেলি প্রমুখ বক্তব্য দেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে বছরে ১৪ হাজার স্তন ক্যানসার রোগী শনাক্ত হয়। আর আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি বলছেÑ তাদের দেশে স্তন ক্যানসার শনাক্ত হয় প্রাথমিক পর্যায়ে, কারণ তারা সচেতন। আমাদের দেশে ক্যানসার শনাক্ত হয় বিলম্বে এবং তারা সাধারণত ৩৮ মাস বাঁচেন। নারীদের বয়স বাড়ার সঙ্গে এ রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
সেমিনারে জানানো হয়, যে কোনো বয়সের যে কোনো নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারেন। এমনকি পুরুষও যে কোনো সময় এ ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারেন। প্রতি আটজন নারীর একজন এবং প্রতি ১০০ পুরুষের মধ্যে একজন এর ঝুঁকিতে রয়েছেন। নারীদের প্রতিমাসে একবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে স্তনের আকার, আকৃতি ও স্তনের চমড়ার কোনো পরিবর্তন হয়েছে কিনা, তা খেয়াল করে দেখতে হবে। আবার হাত দিয়ে স্তনে কোনো চাকা অনুভূত হয় কিনা, তা পরীক্ষা করতে হবে। এ ছাড়া দেশের ৩০ বছর বা তদূর্ধ্ব নারীকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে তাদের স্তন ক্যানসার ঝুঁকির বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণ দরকার। আর ৪৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সী নারীদের প্রতিবছর একবার স্তনের আলট্রাসনোগ্রাম বা ম্যামোগ্রাম করতে হবে।