মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ২:৫৪ pm
নড়াইলে বাণিজ্যিকভাবে হচ্ছে সুপারির চাষ
বৃহস্পতিবার ২৬ অক্টোবর ২০১৭ , ৬:৫২ pm
Shupari.jpg

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল: নড়াইলে দিন দিন বাণিজ্যিকভাবে সুপারির আবাদ বাড়ছে। আর সে সব সুপারি দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হচ্ছেও বিদেশেও। যেসব জমি অনাবাদি পড়ে থাকত, সেসব জমিতেই এখন অর্থকরী হয়ে উঠছে সুপারি। সঠিকভাবে বাগান পরিচর্যার কারণে ফলনও হচ্ছে ভালো। তবে এ বছর সুপারির ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ চাষীদের। বিস্তারিত আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোর্টে, নড়াইল কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, অনেক আগে থেকেই এ জেলায় সুপারি উৎপাদন হলেও তা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হতো না। কিন্তু ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় এ অঞ্চলের চাষীরা দিন দিন সুপারি চাষের প্রতি আগ্রহী হন। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকে চাষীরা স্বল্প পরিসরে বাড়ির পাশের পতিত জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সুপারির চাষ শুরু করেন। এতে লাভবান হওয়ায় দিন দিন এর আবাদ বাড়ছে। কৃষকরা জানান, এখন তারা জমিতে সুপারির আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন। তারা জানান, অন্যান্য ফসলের তুলনায় সুপারি চাষে তুলনামূলক খরচও বেশ কম। চারা লাগানোর প্রথম দু-তিন বছর একটু বিশেষ পরিচর্যা করতে হয়। প্রথম দিকে স্বল্প পরিমাণ সারও দিতে হয়। পাঁচ-ছয় বছর পর গাছে ফল আসে। একটি গাছ থেকে অন্তত ৪০ বছর ধরে ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি গাছ থেকে বছরে ৩০০-৫০০টি সুপারি পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক বছরের মতো এ বছরও জেলায় সুপারির ভালো ফলন হয়েছে। এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন সুপারির হাট জমে উঠেছে। আর স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব হাট থেকে সুপারি যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা, নোয়াখালী, ল²ীপুর, সিলেট, চট্টগ্রামসহ অন্তত ২০টি জেলায় এমনকি বিদেশেও। হাটসংশ্লিষ্টরা জানান, হাটে বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে জেলার অন্তত দুই হাজার মৌসুমি ব্যবসায়ী এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম কম হওয়ায় সুপারিচাষীদের মনে সন্তুষ্টি নেই। কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমজুড়ে কষ্ট করে সুপারির চাষ করলেও এ বছর তারা কাক্সিক্ষত দাম পাচ্ছেন না। যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, তাতে তাদের খরচও উঠবে না। তাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে তাদের নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত করছেন। তাই তারা লাভবান না হলেও ব্যবসায়ীদের ঠিকই লাভ হচ্ছে। কৃষকদের নিয়ে কাজ করছে এমন চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলায় প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ হচ্ছে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, জেলায় সুপারি বাগান অনেক থাকলেও বাণিজ্যিকভাবে এ বছর চাষ হয়েছে সাড়ে ৬০০ হেক্টর জমিতে, যার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৪০০ একর জমি পতিত ছিল। প্রতি হেক্টরে ফলন আসে ২ দশমিক ৬৮ টন। জেলার তিন উপজেলাতেই এখন সুপারির চাষ হলেও সদরে ও লোহাগড়ায় বেশি হয়। নড়াইলের এ্যাড়েন্দা গ্রামের সুপারিচাষী জানান, ১৫ বছরেরও বেশি সময় তাদের বাড়ির পাশে একখÐ জমি পড়ে ছিল। এরপর সাত বছর আগে তিনি ওই জমিতে সুপারি বাগান করেন। গত বছর ওই বাগানের কিছু গাছে ফল এসেছিল। আর এ বছর বাগানের প্রায় সব গাছেই ফল হয়েছে, ফলনও ভালো। তবে বাজারে সুপারির দাম অনেক কম। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে সুপারির দাম কমাচ্ছেন। জেলায় সুপারির সবচেয়ে বড় পাইকারি হাট সদরের রূপগঞ্জ হাট (কালীবাড়ির সামনে) ও এ্যাড়েন্দা বাজার। এ্যাড়েন্দা বাজারের ব্যাবসায়ী জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর সুপারির দাম কিছুটা কম। তবে কিছুদিন পর দাম বাড়তে পারে বলে তার ধারণা। তিনি জানান, স্থানীয়ভাবে ২০০টি সুপারিতে এক কুড়ি হয়। বর্তমান বাজারে প্রতি কুড়ি সুপারি ১৭০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি মৌসুমে আমরা বিভিন্ন বাজার ও গ্রামের চাষীদের কাছ থেকে সুপারি কিনি। এরপর এসব সুপারি বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করি। ল²ীপুরের রায়পুর থেকে আসা সুপারি ব্যবসায়ী মো. আমান শেখ জানান, তিনি ১২ বছর ধরে নড়াইল থেকে সুপারি কিনছেন। প্রতি মৌসুমে দুই মাসের জন্য তিনি নড়াইলে চলে আসেন। এখান থেকে সুপারি কিনে তিনি বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করেন। ব্যবসায়ীরা আরো জানান, চাষীদের কাছ থেকে সুপারি কিনে সাধারণ তিনটি পদ্ধতিতে সেগুলো বিক্রি করা হয়। প্রথমত. বাজার থেকে সুপারি কিনে ওভাবেই সেগুলো বিক্রি করা হয়। এছাড়া রোদে শুকিয়ে খোসা ফেলে দিয়ে প্রতি কেজি শুকনা সুপারি ৪০০-৭০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। আর পাকা সুপারি তিন-চার মাস পানিতে ভিজিয়ে রেখেও বিক্রি করা হয়। পানিতে ভেজানো সুপারিকে স্থানীয়ভাবে ‘মজা সুপারি’ বলে। এ মজা সুপারির চাহিদা বেশি থাকায় এর দামও ভালো পাওয়া যায়। নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জানান, এ জেলার মাটি সুপারি চাষের জন্য উপযোগী। লাভজনক হওয়ায় জেলার অনেক চাষীই এখন তাদের পতিত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে সুপারির বাগান করছেন। আমরা তাদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিচ্ছি। দিন দিন চাষের পরিমাণও বাড়ছে। আর এখন সুপারির মৌসুম হওয়ায় ও বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কিছুটা কম পাওয়া যাচ্ছে। কিছুদিন পর দাম বাড়বে বলে জানান তিনি।