রবিবার ২১ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ১:৫১ am
পেঁয়াজের ঝাঁঝ বেড়েই চলছে: সবজির দামও নাগালের বাইরে
শুক্রবার ২৭ অক্টোবর ২০১৭ , ৮:১৮ pm
onion_585x316

প্রহরনিউজ, অর্থনীতি: পেঁয়াজের ঝাঁঝে দিশেহারা ক্রেতা। পেঁয়াজের ঝাঁঝ যেন কমতেই চাইছে না। বেড়েই চলছে নিত্য প্রয়োজনীয় এ পণ্যটির দাম। গত কয়েক সপ্তাহ আগে রাজধানীতে যে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ৩০ টাকা দরে, আজ শুক্রবারের বাজারে সেই পেঁয়াজই প্রায় ৩ গুণ বেড়ে কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়। এছাড়া গত কয়েক মাস থেকে রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়তিই রয়েছে। ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। শাকের দামও বেশ চড়া।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বাড্ডা, মহাখালীসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে সবজি, মাছসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ার জন্য অব্যাহত বৃষ্টিপাতকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। রহমতগঞ্জ পাইকারি বাজারের আল-আমিন ট্রেডার্সের ম্যানেজার আমার সংবাদকে বলেন, ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। আগে ভারত থেকে যে দামে পেঁয়াজ আমদানি করা যেত, এখন সেই পেঁয়াজ আমদানি করতে প্রায় দ্বিগুণ খরচ পড়ছে। ফলে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় ব্যবসায়ীরা বৃষ্টির অজুহাতে দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের অজুহাত বৃষ্টিতে কিছু পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে এবং কিছু ক্ষেতও নষ্ট হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো বৃষ্টিতে পেঁয়াজের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। মূলত আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণে অতিরিক্ত মুনাফার লোভে বড় ব্যবসায়ীরা দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০-২৫ টাকা বেড়ে আজকের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা দরে। এর আগে গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে দিগুণ বেড়ে পেঁয়াজ দাম হয়েছিল ৬০ টাকা। তবে এর কিছুদিন পরে ১০ টাকা কমে ৫০ টাকায় নামলেও গত সপ্তাহে আবারও বিক্রি হয় ৬০ টাকা দরে। অর্থাৎ আগস্টের পর পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ৫০ টাকা।

এছাড়া আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ গত সপ্তাহে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও আজকের বাজারে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাজারে এই দামের সঙ্গে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যতালিকা পর্যালোচনা করে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। টিসিবির মূল্য তালিকায় দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৬৫-৭০ টাকা এবং আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ ৫৮-৬২ টাকা দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগস্টের শুরুতে টানা বৃষ্টির কারণে আড়তে পেঁয়াজ, রসুন ও আলু সংরক্ষণ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের। এদিকে দুদিন পর কিছুটা কমছে কাঁচা মরিচের দাম। আজকের বাজারে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৬০-২২০ টাকা দরে।

এছাড়া কেজিপ্রতি দেশি রসুন টাকা বেড়ে ১১০ টাকা, ভারতীয় রসুন ১১০ টাকা, আলু কেজিপ্রতি বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে আদার দাম কিছুটা বাড়লেও আগের দামেই স্থিতিশীল রয়েছে অধিকাংশ মুদি পণ্যের দাম। বাজারে কেজিপ্রতি চীনের আদা ১৪০, ক্যারালা আদা ১৫০, ছোলা ৮৫, দেশি মুগ ডাল ১৩০ , ভারতীয় মুগ ডাল ১২০, মাষকলাই ১৩৫, দেশি মসুর ডাল ১২৫, ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মসলার মধ্যে কেজিপ্রতি দারুচিনি ৩৬০, জিরা ৪৫০, শুকনা মরিচ ২০০, লবঙ্গ ১৫০০, এলাচ ১৬০০ ও হলুদ ১৯০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

ভোজ্য তেলের দাম আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। ব্র্যান্ড ভেদে ৫ লিটারের বোতল ৫৩০-৫৪০, প্রতিলিটারে ১-২ টাকা বেড়ে ১০৭-১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন কেজিপ্রতি ৭০-৮০, শিম ১৪০, হাইব্রিড টমেটো ১৬০, দেশি টমেটো ১০০, শশা ৬০, চাল কুমড়া ৫০-৫৫, কচুর লতি ৬০-৬৫, পটল ৬০, ঢেঁড়স ৭০, ঝিঙ্গা ৬০, চিচিঙ্গা ৬০, করলা ৬০, কাকরোল ৬০, কচুরমুখী ৬০ ও আমড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি ফুলকপি ৩৫, বাঁধাকপি ৩০ এবং লেবু হালিপ্রতি ২০-৪০, পালং শাক আঁটিপ্রতি ২০, লালশাক ২০, পুঁইশাক ৩০ এবং লাউশাক ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা স্বর্ণা চাল প্রতিকেজি ৪৫ ও পারিজা চাল ৪৪ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিনিকেট (ভালো মানের) ৬০, মিনিকেট (সাধারণ) ৫৮, আমদানি করা ভারতীয় বিআর-আটাশ ৪৮, দেশি বিআর-আটাশ ৫২, নাজিরশাইল (কাটারি) ৬৩, নাজিরশাইল (নরমাল) ৬৫, পাইজাম চাল ৪৮, বাসমতি ৫৩ এবং পোলাও চাল ৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে প্রতিকেজি রুই মাছ ২৫০-৩৫০, সরপুঁটি ৩৫০-৪৫০, কাতলা ৩৫০-৪০০, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ ও সিলভার কার্প ২০০-২৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতিকেজি ১৫০-২৫০, টেংরা ৬০০, মাগুর ৬০০-৮০০ এবং প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে ইলিশ আসতে শুরু করলেও এখন পর্যন্ত মাঝারি আকারের ইলিশ হালিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ টাকা দামে। এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে ছোট দেশি মুরগির দাম আগের বাড়তি দামে প্রতিপিস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা দামে। এছাড়া ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৩৫, লেয়ার মুরগি ১৮০ এবং পাকিস্তানি লাল মুরগি ২৮০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতিকেজি ৫০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ টাকা দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।