মঙ্গলবার ২১ নভেম্বর ২০১৭ || সময়- ৬:৪৩ pm
প্রত্যেক বাড়িতে আবর্জনা সার কারখানা গড়ে তুলুন
শনিবার ৪ নভেম্বর ২০১৭ , ৭:০০ pm
Compost_288x214.png

মু. ফজলুল হক রিকাবদার
বাংলাদেশে দেড় কোটিরও বেশি বসতবাড়ি আছে। গ্রাম বাংলার এসব বসতবাড়ি কৃষক ভাইদের প্রাণকেন্দ্র। ছোট হোক বড় হোক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ঝক্ঝকে তক্তকে রাখার ওপরই বাড়ি ঘরের সৌন্দর্য ও সুস্থ সুন্দর পরিবেশ নির্ভর করে। প্রতিদিন প্রতিটি বাড়িতে কম বেশি ময়লা জমা হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। তাই প্রতিদিন সকাল-বিকাল ঝাড়– দেয়া হয়। এতে কিছু ময়লা জমা হয়। এসব ময়লা এদিক-ওদিক ফেলে দেয়া হয়। গোয়াল ঘরের উচ্ছিষ্ট থেকেও কিছু না কিছু অবর্জনা পাওয়া যায়। রান্নাঘরের পরিত্যক্ত জিনিস যেমন ডিমের খোসা, মাছের আঁইস/ কাঁটা, জবাই করা হাঁস-মুরগির নাড়িভুঁড়ি, তরি-তরকারির খোসা, ফলমূলের ছাল-বাকল এখানে ওখানে ফেলে দেয়া হয়। এসব ময়লা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলে বাড়িঘর নোংরা ও দুর্গন্ধময় হয়। পরিবেশ দূষিত হয়। তাছাড়া মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে যায়। রোগবালাই বৃদ্ধি পায়। অবহেলা ও অনাদরে যে আবর্জনা নরকতুল্য হয়ে উঠে সে ফেলনা আবর্জনা একটু যত্ন সহকারে গর্তে নিয়মিত জমা করে পচালে উত্তম জৈব সার হতে পারে।
গর্ত তৈরি
বাড়ির পেছনে রান্নাঘরের পাশে একটা গর্ত তৈরি করুন। গর্তের আকার গোবরের গর্তের চেয়ে ছোট যে কোন আকারের হতে পারে। প্রত্যেক বাড়িতে নিজেই জৈব সারের কারখানা গড়ে তুলতে পারেন।
আবর্জনা সারের উপকরণ
প্রতিদিন গৃহস্থালীর বিভিন্ন অবর্জনা হচ্ছে জৈবসার তৈরির উপকরণ। প্রতিদিন ঘরবাড়ি থেকেই পেতে পারেন প্রায় দু’ডজন ফেলনা আবর্জনা। যেমন-
০১. ঘরবাড়ির ঝাড়– দেয়া ময়লা,
০২. নরম গাছ-গাছড়া,
০৩. সবুজ পাতা,
০৪. শুকনো ঝরা পাতা,
০৫. খড় বা নাড়া,
০৬. আগাছা,
০৭. তুষ বা চিটা,
০৮. ডাল/ ছোলার খোসা,
০৯. শিম/ চীনাবাদামের খোসা,
১০. আখের ছোবড়া,
১১. কলার ছিলকা,
১২. তরকারির খোসা,
১৩. শাকের গোড়া,
১৪. ফলমূলের ছাল-বাকল,
১৫. মাছের আঁইস/ কাঁটা,
১৬. মাছ ধোয়া পানি,
১৭. ডিমের খোসা,
১৮. জবাই করা পশুপাখির নাড়িভুঁড়ি,
১৯. হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা,
২০. ছাগল ভেড়ার মলমূত্র,
২১. গোয়াল ঘরের উচ্ছিষ্ট,
২২. চুলার ছাই,
২৩. মালসার ছাই,
২৪. ঠোঙ্গা/ প্যাকেট,
২৫. কচুরিপানা,
২৬. ফেলনা কাগজ,
২৭. অন্যান্য পচনশীল দ্রব্য।
উল্লিখিত উপকরণগুলোর উৎস হল বসতবাড়ি। প্রতিদিন যা-ই অবর্জনা পাওয়া যাবে সবই এ গর্তে ফেলতে হবে। ‘বিন্দু বিন্দু জল গড়ে তোলে সাগর অতল।’ অল্প অল্প করে প্রতিদিন এসব আবর্জনা একটা গর্তে জমা করলে এক মাসে বা দু’মাসে গর্তটি ভরে যাবে। তাও না হলে প্রায় তিন মাসে গর্তটি ভরে উঠবে। গর্ত ভরে গেলে পাশে একটা নতুন গর্ত তৈরি করে একই ভাবে আবর্জনা ফেলতে থাকুন। প্রায় তিন মাস পর গর্তটি ভরে গেলে পচতে দিন। এরই মধ্যে প্রথম গর্তটির অবর্জনা প্রায় তিন মাসে পচে উত্তম জৈব সারে পরিণত হবে। এ সার ফসলি ক্ষেতে বা সবজি বাগানে বা ফল গাছে ব্যবহার করুন। তাহলে গর্তটি খালি হবে। তখন ওই ভাবে গর্তে পুনরায় আবর্জনা জমা করতে থাকুন।
সতর্কতা
অবর্জনা সার তৈরির জন্য কোন পেরেক, টিন, পলিথিন, প্লাস্টিক ও এ জাতীয় শক্ত জিনিস ব্যবহার করা যাবে না। বিষাক্ত ক্যামিকেল ব্যবহার করা যাবে না। শুধুমাত্র পচনশীল জিনিস ব্যবহার করুন।
জৈব সার ব্যবহার
জৈব সার ভালোভাবে পচার পর ব্যবহার করুন। প্রায় তিন মাস পর আবর্জনা পচে ধূসর বা কালো রঙ ধারণ করলে এবং হাতে চাপ দিলে গুড়ো ও ঝুর ঝুর হলে বুঝবেন সার তৈরি হয়েছে। তখনই কেবল ক্ষেতে বা বাগানে ব্যবহার করুন।
অবর্জনা সারের উপকারিতা
১. মাটির প্রাণ - জৈব সারের পরিমাণ বাড়ায়,
২. মাটির উর্বরতা বাড়ায়। তাই ফলন বাড়ে,
৩. মাটির গঠন ও গুণাগুণ বৃদ্ধি করে,
৪. রাসায়নিক সার আনুপাতিক হারে কম ব্যবহার করুন,
৫. সারের খরচ সাশ্রয় হয় ফলে উৎপাদন খরচ হ্রাস পায়,
৬. কীটনাশক  ও রাসায়নিক সারের বিষাক্ততা কমাতে সাহায্য করে,
৭. ফসলের গুণগতমান বাড়ে। সবজি ও ফলের স্বাদ বৃদ্ধি পায়।