মঙ্গলবার ২১ নভেম্বর ২০১৭ || সময়- ২:২০ am
আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞাই প্রধান বিচারপতি
শনিবার ১১ নভেম্বর ২০১৭ , ৩:৫৪ pm
আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা

প্রহরনিউজ, জাতীয়: প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা আজ শনিবার রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বরাবর তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এসকে সিনহা) ছুটিতে থাকাকালীন সময়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ছুটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যান। গতকাল শুক্রবার তাঁর ছুটির মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু তিনি ছুটির মেয়াদ বাড়াতে কোনো আবেদন করেননি। দেশেও ফেরেননি। অস্ট্রেলিয়া থেকে তিনি সিঙ্গাপুর হয়ে গতকালই কানাডায় পৌঁছান বলে জানা গেছে।

ছুটিতে যাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞাই এখন প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

শনিবার বিকেলে গুলশানে তার নিজ বাসায় সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। প্রধান বিচারপতির পদত্যাগে কোনো শূন্যতা সৃষ্টি হয়নি বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।

এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, এস কে সিনহা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, এমন তথ্য বঙ্গবভবন থেকে তাঁকে জানানো হয়নি। যদি তিনি পদত্যাগ করেই থাকেন, তাহলে রাষ্ট্রপতি পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ বা অন্য কোনো কারণে ওই পদ শূন্য হলে কী হবে, তা সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্ট বলা আছে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিবেদককে তিনি সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করতে বলেন।

সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে প্রধান বিচারপতি তাঁহার দায়িত্বপালনে অসমর্থ বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে ক্ষেত্রমত অন্য কোন ব্যক্তি অনুরূপ পদে যোগদান না করা পর্যন্ত কিংবা প্রধান বিচারপতি স্বীয় কার্যভার পুনরায় গ্রহণ না করা পর্যন্ত আপীল বিভাগের অন্যান্য বিচারকের মধ্যে যিনি কর্মে প্রবীণতম, তিনি অনুরূপ কার্যভার পালন করিবেন।’

প্রসঙ্গ উল্লেখ্য যে, ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এসকে সিনহা। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের সঙ্গে তার মত পার্থক্য দেখা দেয়। নিম্ন আদালতের বিচারকদের আচরণ বিধির গেজেট, হাইকোর্ট প্রাঙ্গণের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠে। সরকারের সমালোচনা করে বিভিন্ন সময়ে বক্তব্যও দেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ততার পর্যায়ে চলে যায়। ওই মূল রায়টি লেখেন প্রধান বিচারপতি। তিনি রায়ে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ, রাষ্ট্র-সমাজ, রাজনীতি, নির্বাচন কমিশন, সংসদ সামরিক শাসনসহ নানা বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দেন। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠে রায়ে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে খাটো করেছেন। রায়ের পর প্রধান বিচারপতি সরকারি দলের সমালোচনার মুখে পড়েন। এ সময় প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিও ওঠে।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং তার কিছু পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। বিচারিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংসদে ওই দিন প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আলোচনা হয়, যাতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৮ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আদালত তাঁর এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে সংসদে পাস হওয়া সংবিধানের সংশোধনী বাতিল করেছেন।