বৃহস্পতিবার ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ || সময়- ১:২৩ am
৭০ বছর বয়সেও এক পা দিয়ে রিকশা চালান ৬ সন্তানের জনক নাজিম উদ্দিন
শনিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৭ , ৮:৩১ pm
SAM_9219

প্রহরনিউজ, ঢাকা: নাজিম উদ্দিন (৭০)। বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায়। ছয় ছেলে এক মেয়ের জনক তিনি। ছয় ছেলে মধ্যে তিনজন বিয়ে করেছেন। তিনজন এখনও বাকি। মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে-মেয়ে সবাই ঢাকায় থাকেন। ঢাকায় থাকলেও নাজিম উদ্দিন যেন খেটে খেতেই পৃথিবীতে এসেছেন। ৭০ বছর বয়স এখনও তিনি রিকশা না চালালে ঘরের চুলা জ্বলে না। সেই নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে কথা আমাদের বিশেষ প্রতিবেদক জসিম উদ্দিনর সঙ্গে।
প্রহরনিউজ : চাচা, বালার সাথে সাথে কথা শেষ না হতেই জিজ্ঞেস করেন
নাজিম উদ্দিন: কোথায় যাবেন?
প্রহরনিউজ: আমি যাবো না। আপনি কেমন আছেন?
নাজিম উদ্দিন : আমি ভালো আর কৈ বাবা?
প্রহরনিউজ: আপনার তো এ পা নাই এক পায়ে রিকশা চালাতে পারেন?
নাজিম উদ্দিন: যার কোনো গতি থাকে না, তার তো এক পায়ই ভারসা বাবা? আমি এক পায়েই রিকশা চালাতে পারি। রিকশা চালাতে চালাতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। একটু আরাম করতেছি।
প্রহরনিউজ: আপনার কোনো ছেলে-মেয়ে নাই?
নাজিম উদ্দিন : আছে, সবাই যার যারে নিয়ে ব্যস্ত। যারা বিয়া করছে তারা সবাই আলাদা হয়ে গেছে। মেয়েডারে বিয়া দিছি।
প্রহরনিউজ: দেশে কোনো সয়-সম্পত্তি নাই।
নাজিম উদ্দিন: দেশে যা আছিল, তা পায়ের তুলে খরচ হইছে।
প্রহরনিউজ: আপনার পা কী জন্ম থেকেই এরকম নাকি....?
নাজিম উদ্দিন: না, আমার পা গত পৌষ মাসে কাইট্টা ফাইলাইছি।
প্রহরনিউজ: কিভাবে কি হলো, একটু খুলে বলবেন?
নাজিম উদ্দিন: গত পৌষ মাসে আমি হঠাৎ কাজ করতে গিয়া পইড়া যাই। যাওয়ার সাথে সাথে আমার পায়ে অনেক ব্যথা শুরু হয়। গেলাম এলাকার ডাক্তারের কাছে। তিনি কিছু ওষুধপত্র দিয়া দিলো খাইলাম, কিন্তু আমার ব্যথা তো আর কমে না। আমার এলাকায় একজন বড় খনকার আছে, তিনি খুবই ভালো জারফুক দেয়। ওনার জারফুকে অনেকেই ভালো হইছে। আমার ব্যথা না কমার কারণে আমি তারে ডাকলাম। হে আইল। আমারে ফু-তেলমালিশ দিয়া গেল সন্ধ্যার দিকে। রাতের দিকে একটু কম মনে হইলো। সকাল বেলা আবার আইয়া ফু দিয়া গেলো। আমার ব্যথা এখন আরও বাড়তে লাগল। পরে তারেক কইলাম। আমার ব্যথা তো বাড়ছে। তিনি আমারে পরের দিন বিকাল বেলায় একটা মালিশের শিশি আইন্না দিছে। আমি এই তেল মালিশ করার পর আমার সারা পা কালা হয়ে গেলো। এভাবে এক সপ্তাহ কেটে যাওয়ার পর পা থেকে কেমন যেন একটা গন্ধ বের হতে লাগল। আমি গেলাম ময়মনসিংহ সদর হাসপাতাল। সেখানে কিছু ওষুধপত্র দিলো, কিছু টেস্ট-টুস্ট দিল তা করাইলাম। কিন্তু সেখানের ওষুধ খাওয়ার পর ব্যথা তো আর কমে না। দিন দিন পা চিক হতে লাগল। আমি আসলাম ঢাকা মেডিকেলে। ঢাকা মেডিকেলে তিন চার দিন ছিলাম। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা অবস্থায় এক লোক আমারে কইলা শ্যামলিতে এ রোগের ভালা চিকিৎসা হয়। একটা বালা ক্লিনিক আছে সেখানে চিকিৎসা করালে ভালো ফল পাওয়া যাবে। আমি তার কথা বিশ্বাস কইরা শ্যামলিতে আসলাম। এ আসা-যাওযার মাঝে অনেক দিন হয়ে গেলো। আমার পায়ের অবস্থা আরও খারাপ হইতে লাগলো। পরে সেখানে আমারে কইল যে পা কাইটা ফালাইতে হইবো।
প্রহরনিউজ: আপনার পা কোথায় কাটা হইছে।
নাজিম উদ্দিন: শ্যামলি ক্লিনিকেই।
প্রহরনিউজ: ক্লিনিকের নাম কি?
নাজিম উদ্দিন: কি জানি বাবা। ক্লিনিকের নাম তো জানি না।
প্রহরনিউজ: তো আপনার কতো খরচ হলো?
নাজিম উদ্দিন: সর্বমোট আড়ই লাখ টাকা গেছে।
প্রহরনিউজ: টাকা কিভাবে জোগাড় করলেন?
নাজিম উদ্দিন: দেশের মধে একটু জমি আছিল। হেইডা বেইচ্ছা এ টাকা জোগাড় করছি।
প্রজরনিউজ: দেশে এখন আর কি কোনো জায়গা-জমি আছে।
নাজিম উদ্দিন: না এখন থাখনের জায়ডা আছে মাত্র।
প্রহরনিউজ: তো আপনার ছেলেমেয়েরা আপনার খেয়াল রাখে না।
নাজিম উদ্দিন: রাখবো কিভাবে তাদেরই তো অবস্থা বালা না। তারাই কোনরকম ভাবে চলে।
প্রহরনিউজ : ঠিক আছে চাচা। আপনি আমাকে সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। আপনি ভালো থাকবেন।
নাজিম উদ্দিন: আপনার মঙ্গল হউক বাবা।