বৃহস্পতিবার ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ || সময়- ১:২৪ am
সুইসাইড নোট লিখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার আত্মহত্যা
রবিবার ৩ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৫:১৫ pm
Teacher_288x191

প্রহরনিউজ, মুত্যু: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবাসিক ভবন থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির লাশ উদ্ধারের পর সেখানে ‘আত্মহত‌্যার’ একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘সোয়াদকে যেনো ওর বাবা কোনওভাবেই নিজের হেফাজতে নিতে না পারে।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। শারীরিক, মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যা করলাম।’
‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। শারীরিক, মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যা করলাম। সোয়াদকে যেনো ওর বাবা কোনওভাবেই নিজের হেফাজতে নিতে না পারে। যে বাবা নিজের সন্তানের গলায় ছুরি ধরতে পারে, সে কোনও সময় সন্তানকে মেরেও ফেলতে পারে বা মরতে বাধ্য করতে পারে। আমার মৃতদেহ ঢাকায় না নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেওয়ার অনুরোধ করছি।’

এর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরি ভবনের ৩০৩ নম্বর কক্ষ থেকে শিক্ষক আক্তার জাহান জলির লাশ উদ্ধার করা হয় শুক্রবার। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আকতার জাহানকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা গেছেন। তবে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগে মুত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাতিল সিরাজ শুভ জানান, গত দুইদিন ধরে আকতার জাহানের ছেলে সোয়াদ তাকে ফোনে পাচ্ছিলেন না। পরে সোয়াদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা এবং তাদের প্রতিবেশী অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপুকে জানান। গোলাম সাব্বির সাত্তার তখন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষককে তা জানালে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুজিবুল হক আজাদ খান এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে তার কক্ষের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করেন।

কোনো সাড়া না পেয়ে অবশেষে দরজা ভেঙে তারা কক্ষে ঢোকেন। সেখানে তারা মশারি টাঙানো এবং আকতার জাহানকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় পান। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের শিক্ষক তানভির আহমদের সঙ্গে দীর্ঘদিন সংসার করেন আকতার জাহান। ২০১২ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দকৃত ওই আবাসিক ভবনে (জুবেরি) একাই থাকতেন আকতার জাহান। তাদের সংসারে একটি ছেলে (সোয়াদ) রয়েছে। সে ঢাকায় নানির বাড়ি থেকে পড়াশোনা করে।