বৃহস্পতিবার ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ || সময়- ১:৩৪ am
একটু তর্কাতর্কি,এক রাত জেল! বদলি অতঃপর সুশীলতা
বুধবার ৬ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৮:৫৫ am
1

অ আ আবীর আকাশ
ঢাকা:
প্রশাসন বলতে আমরা সাধারনত বুঝি -প্রধানত, রাষ্ট্রে শাসন পরিচালনা। যার ইংরেজী administration. অন্যদিকে প্রশাসক বলতে বুঝি -কার্যনির্বাহক, শাসন কার্য পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তি। তারা প্রজাতন্ত্রের সেবক।

কিন্তু অত্যক্ত দুঃখভারাক্রান্ত আমরা,লজ্জিত আমরা। যদি প্রশাসন তার সেবার মন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে ভীন্ন কোনো রুপ ধরেন।ব্যক্তি আক্রোশে কারো প্রতি জুলুম করেন,কাউকে উপহাস করেন,কারো উপর মনগড়া শাস্তির বিধানারোপ করেন।তখন ঘৃণায় লজ্জায় আমরা মুখ লুকিয়ে রাখি।প্রশাসনের প্রতি ধিক্কার তুলি।এটা কি স্বাধীন দেশ! মতামত প্রকাশের দেশ! তিরিশ লক্ষ শহীদের দেশ!মা বোনের সম্ভ্রম দিয়ে কেনা দেশ!  আমরা কি বলবো?

আমাদের বলার ভাষা নেই লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন যে আচরণ দেখিয়েছে তাতে আমরা মুক হয়ে গেছি। ডাঃ সালাহ উদ্দিন শরীফ,একজন স্বনামধন্য ও তুমুল জনপ্রিয় চিকিৎসক, একজন বিজ্ঞ প্রাজ্ঞ সাহিত্যিক সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক ব্যক্তি হওয়া সর্তেও সামান্য একটু তর্কাতর্কি নিয়ে ৩ মাসের জেল হাজত দেয়া হয়।এতে জেলা ও জেলার বাহিরে সমগ্র বাংলাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

শেখ মুর্শিদুল ইসলাম যোগ্যতায় সিভিল সার্জন ডাঃ সালাহউদ্দিনের সমপর্যায়  নয়,এমনকি বয়সে, অভিজ্ঞতায়,কথাবার্তায়,চালচলন,সার্ভিস দেয়া কোনটারই সমপর্যায় নয়।তবু শেখ মুর্শিদুল ইসলাম এতো সাহস দেখালেন কি করে!  মাথায় ধরে না।

এসব কর্মকর্তাকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নিয়োগ দিয়েছে জনগণ তথা বাঙালির, বাংলা ভুখন্ডের নাগরিকদের সেবা দেয়ার জন্য,কিন্তু তারা কি তা করছে? সেবার নামে এ কি করলো তারা?শাসনের নামে  একি আচরণের মুখোমুখি হলো একজন বয়োবৃদ্ধ সিনিয়রজন? সে হিসেব করলে সাধারন নাগরিকদের সাথে তাদের আচরণ কি? 
একবার এনডিসি আনিসুজ্জামান বাহিরের ব্যক্তি আক্রোশ পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে কয়েকজন ডিগ্রী পরীক্ষার্থীকে পুরো সেমিষ্টার পরীক্ষা বাতিল করে দিয়ে গেলো।এ নিয়ে ওই পরীক্ষার্থীরা দরখাস্ত নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যায়।তখন ডিসি ছুটিতে থাকায় দায়িত্বে ছিলেন প্রতিবন্ধী ডিসি।তার সামনেই বসা ছিলো আনিসুজ্জামান এনডিসি।তারা পরীক্ষার্থীদের কোনো কথাই শুনলেন না।এ হলো আচরণ।তার বিদায়ে ঘৃণা আর ধিক্কার থুঃ থুঃ ছিটানো হয়েছিলো ওসব পরীক্ষার্থী ও তাদের আত্মীয়স্বজনদের পক্ষ হতে আনিসুজ্জামাননের প্রতি।

জনগণের টাকায় যাদের বেতন ভাতা থাকা খাওয়া আরাম আয়েশ বিলাসিতা তারা যদি জগণের সাথে এ ধরনের ব্যবহার করে তাহলে তাদের কি করা উচিত?

সময় বড়ো নিদারুন, সময় বড়ো জ্বালাপোড়া,সময় বড়ো অস্থির। সময় কাউকে বাদশা বানায় আবার কাউকে বেশ্যা বানায়।আগের দিন রুস্তমগিরী দেখিয়ে এডিসি সিভিল সার্জনকে জেলে পাঠায় পরের দিন সে নিজেই ওএসডি এবং স্টেন রিলিজ।
বর্হিবিশ্বে `ব্যাঞ্জলা মিউ' নামক একটা শব্দ চালু আছে বাঙালিদের নিয়ে।আমরা আমাদের ভাবি বাংলার বাঘ আর তারা আমাদের বলে ব্যাঞ্জলা মিউ অর্থাৎ বাংলার বিলাই। এটাই তার নমূনা।

সদর থানার ওসি ছিলো আবদুল্লাহ আল মামুন।এতো সুন্দর ব্যবহার ছিলো তার,যা বলাই বাহুল্য। এসআইর কক্ষে বসে কোর্তার বোতাম খুলে সিগারেট টানতো আর মুখে এসআইসহ সাধারনত কেউ বিচারপ্রার্থী গেলে তার চৌদ্দ গোষ্ঠীর নাম উদ্ধার করতো, এতে নারী পুরুষ সমান চোখে দেখতো।টাকা ছাড়া কথা নেই তার।পরে তার বদলি ব্রাম্মনবাড়িয়ায় পুলিশ লাইনে ওএসডি হিসেবে।নাকানিচুবানি খেয়ে এখন বদিয়ার দেশ কক্সবাজারে আছে।
যা-ই হোক বিষয়টা হলো প্রশাসনে কর্মকর্তা আসবে যাবে জনগণের সেবার জন্য,তাই বলে তারা জনগণের উপর স্টিমরোলার চালিয়ে যাবেন তা কিন্তু ঠিক নয়,তা একেবারে হতে পারে না।তাদের সমীহ হতে হবে।কারন অতীতে আমরা আরো বহু অফিসারের দেখা পেয়েছি,সেবায় মুগ্ধ হয়েছি,আবার তাদের বিদায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদেছি,আবার অনেকের বিদায়ে মিষ্টি বিতরণ এমনকি অপসারনের জন্য ঝাড়ু মিছিলও করেছি,আবার অনেক অফিসারের জন্য হৃদয়ে রক্তক্ষরণও হচ্ছে আমাদের।

আমরা উপকূলীয় সাগরপাড়ের মানুষ।আমাদের হৃদয়, মন যতোটা কাদামাখা কাদামাটি, তুলতুলে নরম ঠিক তার উল্টোও আছে সীমারের মতো।
অতএব প্রশাসনিক অফিসারদের বলছি- সেবা দিতে এসেছেন, সেবা দিন,সেবা নিন।সুস্থ থাকুন,সুন্দর থাকুন,ভালো রাখুন চারপাশ।
আপনারা আমাদের উপকারী বন্ধু,আমাদের শুভার্থী, আমাদের সব ধরনের সেবার জন্য, সহযোগীতা করার জন্য এসেছেন,আমাদের শত্রু ভেবে নয়।আপনারা আমাদের আপনজন নয়, তবুও ব্যবহারে আন্তরিকতা ভালোবাসায় যুগযুগ মনে রাখার ব্যবস্থা করে যাবেন নিশ্চয়ই।এটা অন্ততো পক্ষে আশা করতে পারি।