বুধবার ২৪ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ২:২৮ am
৬ টাকায় ডিম!
শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১১:৫৬ am
Eggs_576x226

প্রহরনিউজ, অর্থনীতি: দিনে অন্তত একটি ডিম পাতে না উঠলে যাদের চলে না, তাদের জন্য সুখবর। বাজারে এক ডজন বা ১২টি ডিম মিলছে মাত্র ৭০ টাকায়। আর একটি কিনলে দাম পড়ছে মাত্র ৬ টাকা।

বাজারে ডিমের এত কম দাম সাম্প্রতিক সময়ে আর ছিল না। ফার্মের লাল ডিম ক্রেতাদের বছরজুড়ে প্রতি ডজন ৮৫ থেকে ১০৫ টাকার মধ্যে কিনতে হয়। এবার শীতের শুরুতেই দাম কমে গেল। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে এখন শাকসবজি ও মাছ-মাংসের দাম কমেছে। এতে ডিমের কদর কমে গেছে।

অথচ মাসখানেক আগেও বাজারে সবজির দর চড়া ছিল। তখন প্রতি ডজন ফার্মের ডিমের দাম ছিল ৯০ টাকা। কারওয়ান বাজারে এখন ১০০টি ডিম কিনলে ৫৬০ টাকায় দিচ্ছেন বিক্রেতারা। ডজন কিনলে বড় বাজারে ৭০ টাকায় মিলছে। অলি-গলির খুচরা দোকানে প্রতি ডজন ডিম ৭৫-৮০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। অবশ্য হাঁসের ডিমের দাম এখনো বেশি। প্রতি হালি মিলছে ৪৫ টাকায়।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ডিমের আড়ত। সেখানে গতকাল বুধবার প্রতি ১০০টি ডিম ৫১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আড়ত মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ মিয়া বলেন, কয়েক দিন আগে এ দর ৪৮০ টাকায় নেমেছিল। সে হিসেবে এখন দাম কিছুটা বাড়তি।

শীতে সাধারণত গরমের চেয়ে ডিম দু-এক দিন বেশি ভালো থাকে। তারপরও বাজার পড়তির দিকে কেন? হানিফ মিয়ার জবাব, মানুষ ডিম খাচ্ছে কম। বেচাকেনা কমে গেছে। তার ওপর এখন সরবরাহও বেশি।

এখন বাজারে দাম কমে যাওয়ায় ক্রেতারা খুশি। ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ডিম, ডিম বলে হাঁক দিচ্ছেন। তাঁদের কাছে ১০০ টাকার একটি নোট দিলে ১৭টি ডিম মিলছে। ফার্মগেটে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সামনে গতকাল ডিম বিক্রি করছিলেন আইয়ুব আলী। তিনি বলেন, দাম কমার পর ডিম বিক্রি বেড়েছে। এখন তিনি দিনে ৪০০টির মতো ডিম বিক্রি করতে পারেন।

আইয়ুব আলীর দোকান থেকে ডিম কিনছিলেন মণিপুরিপাড়ার বাসিন্দা কলেজশিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ। জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাঁরা পাঁচ বন্ধু একটি বাসায় থাকেন। সেখানে ডিম তাঁদের অন্যতম খাবার। দাম কমায় তাঁদের খুব সুবিধা হয়েছে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৭ অনুযায়ী, দেশে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে হাঁস-মুরগির সংখ্যা ছিল প্রায় ৩২ কোটি। এসব হাঁস-মুরগি ওই বছর ১ হাজার ১৯১ কোটি ডিম দিয়েছে। গত কয়েক বছরে ডিমের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। ছয় বছর আগে ২০০৯-১০ অর্থবছরে ডিমের উৎপাদন ছিল ৫৭৪ কোটি।

এই বাড়তি উৎপাদনে এখন সারা বছরই ফার্মের ডিমের দাম হালিপ্রতি মোটামুটি ৩০-৩৫ টাকার মধ্যে থাকে। ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) প্রতিবছর পণ্যের দাম নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাদের হিসাবে, ২০০৯ সালে প্রতি হালি ডিমের গড় দাম ছিল ২৮ টাকা। ২০১৬ সালে এ দাম দাঁড়ায় ৩৪ টাকায়।

এখন দাম কমে যাওয়াকে ক্ষতিকর বলে মনে করছেন পোলট্রি শিল্প সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ও প্যারাগন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মসিউর রহমান। তিনি বলেন, একটি ডিমের উৎপাদন খরচ ৬ টাকার কাছাকাছি। এখন সবাই লোকসানে বিক্রি করছেন। এতে খামারিরা লোকসানে খামার বন্ধ করে দিলে আবার সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে দাম বেড়ে যাবে।

মসিউর রহমান বলেন, দেশে দৈনিক ৩ কোটি ডিমের চাহিদা আছে। এখন সরবরাহ চাহিদার চেয়ে ১৫-২০ শতাংশ বেশি। এটাই দাম কমে যাওয়ার বড় কারণ।

সূত্র : প্রথম আলো