সোমবার ২২ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ১:০২ pm
মৃধারহাট-আবুপুর সেতু নির্মাণ এখন জনতার দাবী
বুধবার ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১১:২৮ am
Bridge_prohor_288x168

এস এম. জহিরুল ইসলাম: দক্ষিণাঞ্চলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থে মৃধারহাট-আবুপুর সেতু নির্মান এখন সময়ের দাবী হিসাবে রূপ নিয়েছে। কিছুদিন আগেও এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল লঞ্চ। কিন্তু বর্তমানে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ার কারণে দক্ষিণাঞ্চলের এ অংশের মানুষের বড় অংশই এখন সড়ক পথে যোগাযোগ করে। মৃধারহাট ষ্টেশনটি বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলার উত্তর সীমান্তের একটি জনবহুল এলাকা। মৃধারহাট লঞ্চঘাট একটি প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী লঞ্চঘাট। বরিশাল জেলার মুলাদী ও শরীয়তপুর জেলার ঘোষাইরহাট উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার একটি ভৌগলিক অবস্থান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে বরিশাল জেলার মুলাদী-বাবুগঞ্জ উপজেলার মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া মীরগঞ্জ নদীতে সেতু নির্মানের কাজ সরকার থেকে অনুমোদন নিয়েছে। শীঘ্রই মীরগঞ্জ সেতুর নির্মানের কাজ শুরু হবে। মীরগঞ্জ সেতু নির্মিত হলে কুয়াকাটা থেকে মুলাদী পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ আর কোন ফেরী থাকবে না। কিছুদিন আগে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান মৃধারহাট-আবুপুর ফেরী উদ্বোধন করেন। কিন্তু মাত্র কয়েকদিন চলার পর নদীর নাভ্যতার কারণে অল্পদিনেই ফেরী চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অতি সম্প্রতি সেই ফেরীটি প্রত্যাহার করে নেয় বিআইডবিøউটিএ। ফলে শরীয়তপুর, বরিশাল এলাকার মানুষের ঢাকা মাওয়া হয়ে শরীয়তপুরের ঘোষাইরহাট দিয়ে যে সড়ক পথে যোগাযোগ শুরু করেছিল সেটা আবার বন্ধ হয়ে যায়। এখন আবার আবুপুর ও মৃধারহাট এলাকা দিয়ে মানুষের খেয়ার উপর নির্ভর করে চলাচল করতে হয়। এই খেয়ায়ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে প্রায়ই গণমাধ্যমে সংবাদ প্রতাশিত হয়। বর্ষা মৌসুমে জীবনের ঝুকি নিয়ে ঝড়, বৃষ্টি উপেক্ষা করে যাত্রীদের নদী পার হতে হয়। ঝুকিপুর্ণ নদী পারাপারের কারনে মালামাল বহন করা খুবই দুষ্কর। আবুপুর-মৃধারহাট সেতু নির্মিত হলে বরিশাল জেলার মানুষ ঘোষাইরহাট মাওয়া হয়ে অল্প সময়ের ঢাকায় পৌছতে পারবে। মালামাল পন্য পরিবহনের সুযোগ বাড়ার কারনে দক্ষিনাঞ্চলে বিনিয়োগকারীরা কলকারখানা গড়ে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করবে। ব্যবসা বানিজ্যের প্রসারতা ঘটবে তাড়াতাড়ি। বেকারত্বের নিরসনে তরুন উক্তোতারাও এগিয়ে আসবে উৎসাহ নিয়ে। সেতুটি নির্মিত হলে গড়ে উঠা কলকারখার কারনে অনেকেরই কর্মসংস্থান হবে। বেকারত্বে নিরসনেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে মৃৃর্ধারহাট-আবুপুর সেতুটি। শরীয়তপুর-৩ আসনে সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক বলেন, শরীয়তপুর মাঝিকান্দি ঘাট থেকে আবুপুর পর্যন্ত অনেক জলাশয় রয়েছে। এসব জলাশয়ে বেকার যুবকরা মৎস খামার গড়ে তুললে আবুপুর-মৃর্ধারহাট সেতু দিয়ে খুব সহজে যেকোন জিনিস বাজারজাত করতে পারবে। তেমনি পদ্মা সেতু নির্মিত হলে রাজধানীতেও  পৌছে দিতে পারবে খুব সহজে। দক্ষিনাঞ্চলের শাক সবজি রাজধানীতে অল্প সময়ে পৌছানোসহ বিদেশে রপ্তানি করতে সহজ হবে। বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট শেখ টিপু সুলতান বলেন, আবুপুর-মৃর্ধারহাট সেতু ণির্মানের বিষয়টি উচ্চ পর্যায় জানানো হয়েছে। আসা করি শীঘ্রই অনুমোদন লাভ করবে এবং সেতুটি নির্মান করে দক্ষিনঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরোও সুগম হবে। 

লেখক : চেয়ারম্যান, রুর‌্যাল জার্নালিষ্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ)