রবিবার ২১ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ১:৫৪ am
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গার্মেন্ট শ্রমিক সমাবেশ
শুক্রবার ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৪:৩৭ pm
IMG_1665

ঢাকা: গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র উদ্যোগে আজ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে দেশের বিভিন্ন গার্মেন্ট শিল্পাঞ্চল থেকে কয়েক হাজার শ্রমিক অংশগ্রহণ করে। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিম্নতম বেসিক মজুরি ১০ হাজার টাকা ও মোট মজুরি ১৬ হাজার টাকা ঘোষণার দাবি জানানো হয়। সেই সাথে সোয়েটারের পিসরেটসহ সকল গ্রেডের শ্রমিকের একই হারে মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়।
গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র সভাপতি শ্রমিকনেতা অ্যাড. মন্টু ঘোষের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় নেতা সাদেকুর রহমান শামীমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্ত্য রাখেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান উপদেষ্ট, বর্ষীয়ান শ্রমিকনেতা মনজুরুল আহসান খান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি জননেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি শ্রমিকনেতা সহিদুল্লাহ চৌধুরী, কাজী রুহুল আমীন, জলি তালুকদার, ইদ্রিস আলী, জিয়াউল কবির খোকন, ইকবাল হোসেন, সাইফুল আল মামুন, মঞ্জুর মঈন, জয়নাল আবেদীন, দুলাল সাহা, সুমিতা রানী প্রমুখ।
সমাবেশে বর্ষীয়ান শ্রমিকনেতা মনজুরুল আহসান খান বলেন, দেশের  সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। কিন্তু শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধির দাবি করলে তাদের নির্মমভাবে দমন করা হয়। তিনি বলেন, মজুরি বোর্ডে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিত্ব থাকে না, সরকার দলীয় লোকেরা শ্রমিক প্রতিনিধি নামে থাকলেও তারা শ্রমিকের পক্ষে ভ‚মিকা রাখে না। তিনি আরো বলেন, শ্রমিক আন্দোলনকে সংগ্রামবিমুখ সুবিধাবাদী, দালাল ও হলুদ ট্রেড ইউনিয়ন এর খপ্পর থেকে মুক্ত করতে হবে। এজন্য তিনি বিপ্লবী ধারার ট্রেড ইউনিয়নে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহŸান জানান।
জননেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিসহ অতীতে যত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার সবই শ্রমিকদের কঠোর আন্দোলন ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে আদায় করতে হয়েছে। তিনি বলেন, বাজার পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক অবদান বিচার করলে শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ১৬ হাজার টাকারও বেশি হওয়া উচিত। তিনি শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী অবিলম্ব মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহŸান জানান।
শ্রমিকনেতা সহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশের সকল সেক্টরের শ্রমিকরা গার্মেন্ট শ্রমিকদের আন্দোলনের দিকে তাকিয়ে থাকে। গার্মেন্ট শ্রমিকদের লড়াই এদেশের শ্রমিক মেহনতি মানুষের মুক্তির দুয়ার খুলে দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে।
গার্মেন্ট শ্রমিক টিইউসির সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা জলি তালুকদার অবিলম্বে মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম শুরুর জন্য সময় বেধে দিয়ে আন্দোলনের পরবর্তি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি আগামী ৮ জানুয়ারি মজুরি বোর্ডের কার্যালয় ঘেরাও ও দাবিনামা পেশ, ১৬ জানুয়ারি মালিক সমিতি বিজিএমইএ কার্যালয় ঘেরাও এবং জানুয়ারি মাসব্যাপী সকল শিল্পাঞ্চলে মিছিল সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল পল্টন মোড়, জিরোপয়েন্ট গুলিস্তান এলাকা প্রদক্ষিণ করে।