মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ২:৫৫ pm
প্রধানমন্ত্রীর কাছে পিইসির ফল হস্তান্তর : বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ উদ্বোধন
শনিবার ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১০:১১ am
PM_JSC

প্রহরনিউজ, শিক্ষা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ২০১৭ সালের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষার ফলাফল হস্তান্তর করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।

শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে গণভবনে এ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

এরপর বেলা সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক সমাপনীর ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী। দেড়টায় সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জেএসসি-জেডিসির ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন।

যেভাবে পাওয়া যাবে ফল: ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট ও দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জেএসসি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট সকল পরীক্ষা কেন্দ্র/শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ই-মেইল/ওয়েব মেইল) এবং এসএমএসের মাধ্যমে দুপুর আড়াইটায় একযোগে প্রকাশ করা হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পরীক্ষার্থীরা মোবাইল ফেনে এসএসএম, শিক্ষাবোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট www.educationboardresults.gov.bd এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারবেন।

মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে জেএসসির ফল পেতে যেকোনো মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে JSC লিখে স্পেস দিয়ে নিজ বোর্ডের নামের প্রথম ইংরেজি তিন অক্ষর, স্পেস দিয়ে রোল নম্বর, স্পেস দিয়ে পাসের বছর 2017 লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে।

এসএমএসের মাধ্যমে জেডিসির ফল পেতে JDC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম ইংরেজি তিন অক্ষর (MAD), স্পেস দিয়ে রোল নম্বর, স্পেস দিয়ে পাসের বছর 2017 লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে।

প্রাথমিক-ইবতেদায়ি সমাপনীর ফল জানতে, প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনীর ফল www.dpe.gov.bd ও dpe.teletalk.com.bd ওয়েবসাইট থেকে এবং এসএমএসের মাধ্যমে সংগ্রহ করা যাবে।

এসএমএসর মাধ্যমে প্রাথমিক সমাপনীর ফল পেতে যেকোন মোবাইল থেকে DPE লিখে স্পেস দিয়ে স্টুডেন্ট আইডি লিখে স্পেস দিয়ে 2017 লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি ম্যাসেজে পরিক্ষার্তীর ফল জানানো হবে।

ইবতেদায়ি পরিক্ষার ফলাফল জানতে মোবাইলের ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে EBT লিখে স্পেস দিয়ে স্টুডেন্ট আইডি লিখে স্পেস দিয়ে 2017 লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় চেয়ে মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রী সময় ঠিক করে দিলে সে অনুযায়ী ফল প্রকাশ করা হয়। ফলে দুটো পরীক্ষার ফলাফল এবার একইদিনে প্রকাশ করা হবে।

চলতি বছরের ১ নভেম্বর বুধবার সকাল ১০টায় দেশের দুই হাজার ৮৩৪টি একযোগে শুরু হয় জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা। এতে ২৪ লাখ ৬৮ হাজার ৮২০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। দেশের বাইরে মোট ৯টি কেন্দ্রে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নেন ৬শ’ ৫৯ জন পরীক্ষার্থী।

অন্যদিকে ২০ নভেম্বর দেশের সাত হাজার ২৬৭টি ও বিদেশের ১২টি কেন্দ্রে একযোগে শুরু হয় প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা-২০১৭। এতে অংশ নেন ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫ জন ক্ষুদে শিক্ষার্থী।

 


বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ উদ্বোধন
২০১৮ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ১ জানুয়ারি সারাদেশে ‘জাতীয় পাঠ্যপুস্তক উৎসব’ উদযাপন করা হবে।

শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে সকাল সাড়ে ১০টায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়ে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।

জানা যায়, এ বছর সারাদেশে ৪ কোটি প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, ইবতেদায়ী, দাখিল ভকেশনাল, এসএসসি ভকেশনাল, ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠী এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোট ৩৫,৪২,৯০,১৬২টি পাঠ্যবই বিতরণ করা হবে। এই শিক্ষাবর্ষে ১০,৭০,৯৬৬ জন শিক্ষার্থী বেড়ে যাওয়ার ফলে অতিরিক্ত ৭১,৯৩,৩৬৯টি পাঠ্যবই মুদ্রণ করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ’ সরকারের ঐতিহাসিক এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া কমেছে এবং বিদ্যালয়গুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

তারা বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক বিতরণের উদ্যোগকে শিক্ষা খাতে একটি "মাইলফলক" হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কারণ এতে শিক্ষার্থীরা তাদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে উৎসাহিত হচ্ছে। বর্তমান সরকার ২০১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ শুরু করেছে।