মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ২:৫২ pm
নির্মল সেনের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
সোমবার ৮ জানুয়ারী ২০১৮ , ৯:৪৪ am
nirmal sen-2

প্রহরনিউজ, মৃত্যু: বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিস্ট, বাম রাজনীতির পুরোধা ও মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেনের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার। ২০১৩ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ৮৩ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজাধানীর ২৩/২ তোপখানা রোডে শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অস্থায়ী বেদীতে সকাল ৮ টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এছাড়াও গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় নির্মল সেন স্মৃতি সংসদ স্মরণ সভার আয়োজন করেছে। 
নির্মল সেন ১৯৩০ সালের ৩ আগস্ট গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার দিঘীরপাড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সুরেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত । মায়ের নাম লাবন্য প্রভা সেনগুপ্ত। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে নির্মল সেন পঞ্চম।  দেশ বিভাগের পর নির্মল সেনের বাবা -মা অন্য ভাই বোনদের সঙ্গে নিয়ে কলকাতা চলে যান। জন্মভূমির প্রতি ভালবাসার কারণে তিনি এদেশে থেকে যান। নির্মল সেন বড় হযেছেন ঝালকাঠি জেলায় তার পিসির বাড়িতে। তিনি ঝালকাঠি জেলার কলসকাঠি বিএম একাডেমি থেকে ১৯৪৪ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। তিনি বরিশাল বিএম কলেজ থেকে আইএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং মাস্টর্স পাস করেন। 
স্কুল জীবন থেকে নির্মল সেনের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের মাধ্যমে। পরবর্তীতে তিনি আরএসপিতে যোগ দেন। দীর্ঘদিন তিনি শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রাজনীতি করতে গিয়ে নির্মল সেনকে জীবনের অনেকটা সময় জেলে কাটাতে হয়েছে। 
১৯৫৯ সালে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার মধ্য দিয়ে নির্মল সেন তার সাংবাদিক জীবন শুরু করেন। তার পর দৈনিক আজাদ, দৈনিক পাকিস্তান, দৈনিক বাংলায় সাংবাদিকতা করেন। তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। জাতীয় প্রেসক্লাবে আজীবন সদস্য ছিলেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিষয়ে অতিথি শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন।
নির্মল সেনের লেখা উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে, মানুষ, সমাজ ও রাষ্ট্র, বার্লিন থেকে মস্কো, পূর্ব বঙ্গ পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশ, মা জন্মভূমি, লেনিন থেকে গর্বাচেভ, আমার জবানবন্দী, স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই, আমার জীবনে ’৭১-এর যুদ্ধ ইত্যাদি।