সোমবার ২২ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ১২:৫৫ pm
গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা করার দাবি
সোমবার ৮ জানুয়ারী ২০১৮ , ২:০৪ pm
IMG_0152

ঢাকা: গার্মেন্ট শ্রমিকদের চলমান মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে আজ ৮ জানুয়ারি ২০১৮ নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘেরাও কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র উদ্যোগে অবিলম্বে শ্রমিকদের নিম্নতম মূল মজুরি ১০ হাজার টাকা, মোট মজুরি ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা এবং সোয়েটারের পিসরেটসহ সকল গ্রেডে শ্রমিকের একই হারে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ঘেরাও অনুষ্ঠিত হয়। 
গার্মেন্ট শ্রমিক টিইউসি’র কার্যকরি সভাপতি কাজী রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে এবং কোষাধক্ষ্য এমএ শাহীনের পরিচালনায় বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্ট শ্রমিক টিইউসি’র সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা জলি তালুকদার, সাদেকুর রহমান শামীম, জয়নাল আবেদীন, মো. জুয়েল প্রমূখ। সমাবেশ শেষে একটি ঘেরাও মিছিল তোপখানা রোডের নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় পুলিশী বাধা ভেঙ্গে নেতাকর্মীরা বোর্ড কার্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে অবস্থান গ্রহণ করে।   
সমাবেশে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা জলি তালুকদার বলেন, শ্রমিকপক্ষ দুই বছরের বেশী সময় ধরে মজুরি বৃদ্ধির দাবি করে আসছে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ১৬ হাজার টাকা নিম্নতম মজুরির দাবিতে শ্রমিকরা যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছিল সেই আন্দোলন নির্মম ফ্যাসিবাদী পন্থায় দমন করা হয়েছে। ১৫২০ জন শ্রমিককে ছাটাই করা হয়েছিল, ৯ টি মামলায় ২ হাজার শ্রমিক ও শ্রমিকনেতাকে আসামি করা হয়েছিল, সেই মামলা গুলোর মধ্যে কয়েকটি মামলা ছিল বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা। ৫০ জনের বেশী শ্রমিক, শ্রমিকনেতা, ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী এমনকি সাংবাদিককে কারাবন্দী করা হয়েছিল। আজ একবছরের বেশী সময় অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত মজুরি বৃদ্ধির কার্যক্রম আরম্ভ হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, মালিক ও সরকার গার্মেন্ট শ্রমিকদের আন্দোলনকে সুদূর অতীতের সহিংস পথে নিয়ে যাওয়ার পায়তারা করছে। যাতে করে শ্রমিকদের ওপর দায় চাপিয়ে শক্তি প্রয়োগ মাধ্যমে তাদের দমন করা যায় এবং অতীতেরমত তাদের মজুরিতে ঠকানো সম্ভব হয়। 
তিনি আরো বলেন, মালিক পক্ষ নামমাত্র মজুরি বৃদ্ধির চক্রান্ত চালাচ্ছে, এবারের আন্দোলনে গার্মেন্ট শ্রমিকরা মালিকপক্ষের সকল ষড়যন্ত্র বানচাল করে দেবে। তিনি আরো অভিযোগ করেন, মজুরি বোর্ডে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিত্ব থাকে না। সরকার দলীয় যারা শ্রমিক প্রতিনিধি হিসেবে থাকেন তাদের শ্রমিক পক্ষে ভূমিকা রাখতে দেখা যায় না। তিনি অবিলম্বে মজুরি বোর্ডের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিত্বকারী কাউকে নিয়োগ দেয়ার দাবি জানান। 
সমাবেশে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র কার্যকরি সভাপতি শ্রমিকনেতা কাজী রুহুল আমীন বলেন, আশুলিয়া এলাকাসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গণতান্ত্রিকভাবে মজুরি বৃদ্ধির দাবি করা হলেই সরকারি বিভিন্ন বাহিনী ঝাপিয়ে পরছে। তিনি বলেন, গাজিপুর জেলার শিল্প পুলিশের একজন এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা কিছুদিন আগে জেলা গার্মেন্ট টিইউসির সভাপতি জিয়াউল কবির খোকনকে গুম করার হুমকি দিয়েছেন। আশুলিয়া থানার ওসি গার্মেন্ট শ্রমিক টিইউসি’র স্থানীয় সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক কেএম মিন্টুকে দেকে নিয়ে ক্রসফায়ার ও গুম করে ফেলার হুমকি দিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের কোন নেতাকর্মী আক্রান্ত হলে তার জন্য এই কর্মকর্তারাই দায়ী থাকবেন। তিনি আরো বলেন, সংগঠনের আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির কার্যালয় শিল্প পুলিশ অবরুদ্ধ করে রেখেছে। নিয়মতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমের ওপর এমন ফ্যাসিবাদী আক্রমনের ফলাফল ভয়াবহ হবে এই হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি অবিলম্বে সকল বাধা, দমন, পীড়ন বন্ধ করার জন্য সরকার ও মালিক পক্ষের কাছে দাবি জানান। তিনি অবিলম্বে মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম শুরু করে গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিম্নতম মোট মজুরি ১৬ হাজার টাকা ঘোষণা করার জন্য দাবি জানান।
নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সামনে ঘেরাও অবস্থান থেকে পরবর্তিতে ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল বোর্ডের চেয়ারম্যানকে দাবিনামা হস্তান্তর করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন, কাজী রুহুল আমিন, জলি তালুকদার, সাদেকুর রহমান শামীম, জিয়াউল কবির খোকন, ইকবাল হোসেন, কে এম মিন্টু।-বিজ্ঞপ্তি।