সোমবার ২২ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ১২:৫২ pm
আরসার হামলার পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা কি মিয়ানমারে ফিরতে পারবে?
মঙ্গলবার ৯ জানুয়ারী ২০১৮ , ৬:২২ am
arsa

প্রহরনিউজ, প্রবাস: সশস্ত্র রোহিঙ্গা সংগঠন আরসা নতুন করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালানোর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা।

তারা আশঙ্কা করছেন, এর ফলে তাদের নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়া আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভ্যাশন আর্মি বা আরসার নেতা এক ভিডিও বিবৃতিতে দাবি করেছেন, গত শুক্রবার তারা সেনাবাহিনীর উপর হামলা চালিয়েছেন এবং তাদের এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।

নতুন করে আরসার এই কথিত হামলার ফলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া কতোটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে?

আরসার নেতা একজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত রোহিঙ্গা। তিনি নিজেকে আতা উল্লাহ বলে পরিচয় দিচ্ছেন এবং গত অগাস্ট মাসে তিনি কিছু ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেছেন যে রোহিঙ্গাদের আত্মরক্ষাযর জন্যই এসব হামলা চালানো হয়েছে।

আরসার নেতা বলেছেন, সামরিক বাহিনীর নিপীড়নের হাত থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের রক্ষা করতেই তাদের এই যুদ্ধ। এবং তাদের এই লড়াই বৈধ।

আরসা বলছে, রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনী নির্যাতন অব্যাহত থাকায় তারা এ হামলা চালিয়েছে এবং আরো চালানো হবে।

এ হামলা এমন এক সময়ে করা হয়েছে যখন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর লক্ষে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গার নাম পরিচয় সেদেশের সরকারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।

কক্সবাজার জেলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যারা বসবাস করছেন তারা এমনিতেই মনে করেন এখন মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই।

তার ওপর আরসার এ ধরণের হামলা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলবে মনে মনে করেন রোহিঙ্গা দিল মোহাম্মদ।

তিনি বলেন, "যেকোনো সন্ত্রাস কাজকে আমরা ভালোবাসিনা, এগুলো শুনতে আমাদের ভালোলাগেনা। আরসা কিসের লড়াই করবে?ওদের কিসের শক্তি আছে? আমরাতো বুঝতে পারছিনা।"

মিয়ানমার সরকার মনে করে, আরসার এই হামলা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্যই করা হয়েছে।

বিবিসি বার্মিজ ভাষা বিভাগের মিন্ট সোয়ে বার্মিজ সরকারের মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, ভীতি ছড়ানোর জন্যই এই ধরণের হামলা হয়েছে।

তবে মিয়ানমার সরকার আরসাকে অভিযুক্ত করে বলছে, তারা দেখাতে চায় যে দেশের ভেতরে ফিরে আসাটা নিরাপদ নয়।

আরসার উদ্দেশ্য কী? এবং কেন তারা এধরণের তৎপরতায় লিপ্ত, সেটি অনেক রোহিঙ্গার কাছেই পরিষ্কার নয়।

রোহিঙ্গা দিল মোহাম্মদ বলেন, আরসা সংগঠন হিসেবে রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্বশীল কিনা সেটি নিয়েও তার প্রশ্ন আছে।
দিল মোহাম্মদের ভাষায়, "আমরা ওদের দেখিও নাই, শুনেছি মাত্র। এরা কারা এটাও আমরা জানিনা।"

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মনিরুজ্জামান মনে করেন, আরসার এধরণের তৎপরতা রোহিঙ্গা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

একই সাথে, এধরণের তৎপরতা রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার সরকারকে বাড়তি সুবিধা দেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য বিষয়টিতে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করবে আগ্রহী নয়।

তবে আরসার নতুন হামলা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেই তাদের ধারণা।

একই সাথে পরিস্থিতির ওপর বাংলাদেশ দৃষ্টি রাখছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

সূত্র : বিবিসি