সোমবার ২২ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ১:০৬ pm
শীতের পিঠা: সন্ধ্যা নামলেই ক্রেতাদের ভীড়
বুধবার ১০ জানুয়ারী ২০১৮ , ২:০৮ pm
pitha20171225171819.JPG

অ আ আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুর: শীতকাল মানে পিঠা খাওয়ার উৎসব। শীত এলে শহর, নগর ও গ্রামে পিঠা খাওয়ার ধূম পড়ে। শীতের পিঠা গ্রামীণ ঐতিহ্য। শীত মওসুমে গ্রামীণ বধূরা রকমারী পিঠা তৈরি করেন। শীতের পিঠার মধ্যে ভাপা পিঠা (ধুপি পিঠা) একটি অন্যতম পিঠা। ভাপা পিঠা আবার হরেক রকম পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। কখনো মিষ্টি ভাপা, কখনো ঝাল ভাপা। খেজুর রস দিয়ে ভাপা পিঠা খেতে বড়ই সুস্বাদু ও মুগ্ধকর।

শীত এলেই শহর ও গ্রামীণ হাটবাজারে নানা রকম পিঠা বিক্রি করা হয়। বিশেষ করে ভাপা পিঠা, তেলের পিঠা ও চিতল পিঠা। এসব পিঠার সমাদর সবখানেই সমানভাবে রয়েছে। শীত বাড়ার সাথে সাথে শহরের ফুটপাতে শীতের পিঠার ব্যবসা জমে উঠেছে।

লক্ষ্মীপুর শহরে এই শীতে পিঠা ব্যবসায়ীদের পিঠা বিক্রির হিড়িক পরেছে। বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন জায়গায় চলছে শীতের পিঠা বিক্রির ধুম। শহরের অলিগলিতে রাস্তার আশপাশে পিঠাপুলির ভ্রাম্যমান দোকান বসে। এসব দোকানে কিশোর থেকে শুরু করে বয়ষ্ক লোকেরা পিঠা তৈরি করে ক্রেতার কাছে বিক্রি করে। এ পিঠা বিক্রি করে সংসার চালায় তারা। তবে সন্ধ্যার পর থেকে ক্রেতার সমাগত বৃদ্ধি পায়। সবাই একসাথে মজা করে শীতের পিঠার স্বাদ উপভোগ করে। সকল বয়সের একসাথে পিঠা খাওয়া দেখে মনে হতে পারে কোন উৎসব চলছে। পিঠার দামও বেশি নয়। প্রতিটি পিঠা ৫-১০টাকায় বিক্রি হয়। চিতল পিঠা ৫ টাকা ও ভাপা পিঠা ১০টাকা দরে বিক্রি করে। এতে এ ব্যবসায় লাভও থাকে।

লক্ষ্মীপুর শহরের চকবাজার এলাকা, পৌর ভবনের সামনে, কলেজ রোড, উত্তর তেমুহনী, দক্ষিন তেমুহনী ঝুমুর এলাকা, বাগবাড়ি, সামাদ স্কুল মোড়সহ শহরের বিভিন্ন জনসমাগম স্থলে পিঠা বিক্রি করতে দেখা যায়। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন হাট বাজারে, প্রতিষ্ঠানের সামনে ভ্রাম্যমান পিঠা বিক্রি শীতের ঐতিহ্যকে লালন করছে। ক্রেতাদের সমাগমে বিক্রেতারাও খুশি।

লক্ষ্মীপুর  পৌর ভবনের সামনে পিঠা বিক্রেতা আজাদ জানান, তিনি প্রতি শীত মওসুমে পিঠা বিক্রি করেন। এসময় তার প্রতিদিন প্রায় ৪-৫হাজার টাকা বিক্রি হয়, যার মধ্যে প্রায় হাজার টাকার মতো তার লাভ তাকে। বিক্রি ভালো বিধায় সে খুশি।

শহরের ব্যবসায়ী রোমান পিঠা খেতে এসে বলেন, আমি প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর এসব দোকান থেকে পিঠা খাই। শীত কালের খাবার মধ্যে পিঠা অন্যতম। আগে যদিও বাড়িতে এসব পিঠা বানানোর হিড়িক পড়তো এখন তা আর দেখা যায় না।

ব্যাংকার সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি অফিস শেষ করে মাঝে মাঝে এসব দোকান থেকে পিঠা কিনে খাই। সন্ধ্যার নাস্তাও সারে শীতের একটা আমেজও পাওয়া যায়। এসব পিঠা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। তাই শতব্যস্ততার মাঝেও এই ঐতিহ্যকে লালন করি।

 

লক্ষ্মীপুরে ৩ দিনব্যাপি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব
লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুরে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ‘গ্লোবাল ইয়ুথ ফিল্ম ফেস্টিভাল লক্ষ্মীপুর’ (জিওয়াইএফএফএল)। জেলায় প্রথমবারের মতো এ উৎসবের আয়োজন করেছে চলচ্চিত্র সংসদ ‘সিনেমা বাংলাদেশ’ ও সামাজিক সংগঠন ‘শূন্য’। ‘লেটস সিনেমা’ স্লোগানে আজ ১০ জানুয়ারি বুধবার থেকে আগামী ১২ জানুয়ারি  শুক্রবার পর্যন্ত এই উৎসব চলবে জেলার টাউন হল অডিটরিয়ামে। এ উৎসবে  সর্বমোট ৭১টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে ।
বুধবার সকালে অতিথিরা উৎসবের লগো উম্মোচনের মাধ্যমে উৎসব উদ্বোধন করা হয়।
টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে উৎসবের উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান রামেন্দু মজুমদার উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন।
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, লক্ষ্মীপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মাইন উদ্দিন পাঠান, লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদা ইয়াসমীন লিকা, বাংলাদেশের প্রথম নারী পিডি সেলিনা আক্তার, লক্ষ্মীপুর সরকারী কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার ভৌমিক, জেলা আওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আবদুল মতলব প্রমূখ।

জিওয়াইএফএফএল- ২০১৮ উৎসবের জুরিবোর্ড সদস্য হিসেবে আছেন বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্র নির্মাতা অমিতাভ রেজা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিভি ও চলচ্চিত্র বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শফিউল আলম ভূঁইয়া এবং অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী।
উৎসবের ৬টি বিভাগে এর মধ্যে বিশ্বের ১০২টি দেশের মোট ২০৪৭টি চলচ্চিত্র জমা পড়েছে। যাচাই-বাচাই করে সর্বমোট  ৪৬ টি দেশের ৭১টি চলচ্চিত্র এ উৎসবে প্রদর্শন করা হবে বলে  জানা গেছে। দেশ-বিদেশের প্রায় অর্ধশতাধিক তরুণ নির্মাতার চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।
উৎসবের চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয় দেশী বিদেশী অসংখ্য পুরস্কারপ্রাপ্ত স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্র "এ লেটার টু গড" এর প্রদর্শনের মাধ্যমে।  


উৎসবের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নির্মাতাদের সঙ্গে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশি তরুণ নির্মাতারা নিজেদের ভাবনা-অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাবেন কর্মশালায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে।
উৎসব পরিচালক জিসান মাহাদি বলেন, ‘সব আয়োজনই আসলে ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। যে কারণে আমরা এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঢাকার বাইরের তরুণদের উৎসাহিত করতে চাই। লক্ষ্মীপুরের মতো শহরেও যে আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন করা সম্ভব, সেটাই আমরা প্রমাণ করতে চাই এই আয়োজেরর মধ্য দিয়ে।’
এই উৎসবে জুরিবোর্ড সদস্যদের মাধ্যমে ছয়টি বিভাগে নির্বাচিত সেরা চলচ্চিত্রগুলো পুরস্কার পাবে। উৎসবের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি হবে ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যায়, টাউন হল মিলনায়তনে।
উৎসব সমন্বয়ক ইয়াসিন চৌধুরী তুষার বলেন, ‘আমরা সারাবিশ্ব থেকে কল্পনাতীত সাড়া পেয়েছি। বিশ্বের এত এত ছবি জমা পড়বে, আমরা সত্যিই আশা করিনি। এবার সফলভাবে উৎসবটি করতে চাই আমরা।’