সোমবার ২২ জানুয়ারী ২০১৮ || সময়- ১২:৪৫ pm
শাকিবের সাথে কাজ করতে গেলে বিনিময়ে কিছু দিতে হয়: ফারিয়া
শনিবার ১৩ জানুয়ারী ২০১৮ , ৭:৫০ pm
ফারিয়া

প্রহরনিউজ, বিনোদন: সম্প্রতি দেশের এক শীর্ষ স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার সাক্ষাতকারে ২০০৭ সালে ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ ফারিয়া শাহরিন এসব কথাই বলেন । পূর্বপশ্চিম বিডি নিউজের পাঠকদের জন্য প্রথম আলোতে দেওয়া সাক্ষাৎকারটি হুবুহু তুলে ধরা হল-

নতুন নাটকের কাজ করছেন?

জি। নাটকের নাম ‘আতঙ্ক’। ২১ ও ২২ জানুয়ারি শুটিং করব। এই নাটকে আমার সঙ্গে আছেন নাঈম। আমরা দুজন একসঙ্গে কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছি। তবে নাটকে এবারই প্রথম অভিনয় করব।

আপনি মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করছেন। বলেছিলেন, নাটকে কাজ করতে চান না। তাহলে এবার কাজ করছেন কেন?

এই নাটকের পরিচালকের সঙ্গে ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতার সময় থেকেই পরিচিতি। তিনি যোগাযোগ করেছেন। গল্পটা একটু ভিন্ন মনে হয়েছে। আমার ভালো লেগেছে, এই নাটকে আমাকে দুই ভাবে উপস্থাপন করা হবে। তারপরও বলব, নাটক করতে ইচ্ছা করছে না। ২৮ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় চলে যাব, তার আগে একটা কাজ করছি।

নাটকের কাজ না করার ক্ষেত্রে আর কোনো কারণ আছে?

নাটকের প্রতি আগ্রহ কখনোই ছিল না। কিন্তু দেশের বাইরে যাওয়ার পর অনেক বন্ধু জেনে গেছে, আমি বাংলাদেশে নাটক করতাম। তাঁরা ইউটিউবে আমার কয়েকটি নাটক দেখেছে। তারা এসব নাটকের সাবটাইটেল খুঁজছে। ভাবলাম, এত বছর শোবিজে আছি, অথচ কাজ কত কম! আফসোস হচ্ছে। মালয়েশিয়ায় দুটি কাজ করেছি। কিন্তু সেখানেও সম্মানী নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। আমার কাছে বিষয়টা খুব বিরক্ত লাগে।

আপনি কেমন পরিবেশ চান?

আমি কাজ করব। কাজের বাইরে কারও সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করার কোনো দরকার দেখি না। কাজ শেষ হবে, সম্মানী দিয়ে দেবে। কিন্তু প্রযোজক চান, কাজ শেষে তাঁর সঙ্গে ঘুরব, কফি খাব, একটু হাহা হিহি করব, সব সময় যোগাযোগ রাখব। এসব আমি পারি না।

এসব প্রস্তাব কাদের কাছ থেকে পান?

প্রযোজকের কাছ থেকে পাই। তাঁরা ভাবেন, তাঁরা টাকা দিচ্ছেন, নায়িকা কেন তাঁদের সঙ্গে ঘুরবে না! নায়িকাকে বলেন, চলো ক্লাবে যাই, চলো ঘুরি। আমার কথা হলো, কাজ করতে আসছি। কাজ শেষে সম্মানী দিয়ে দেবেন, শেষ। এখন দেখি, যোগাযোগ রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে। অনেকেই দেখি পরিচালক-প্রযোজকদের গিফট দেয়, খাওয়ায়। বাসায় দাওয়াত দেয়। আমি এসব করতে পারি না। আর এসব করি না বলেই হয়তো আমাকে ঘোরায়, সম্মানী ঠিকমতো দেয় না। তখন মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।

আপনি কারও নাম বলেননি। ঢালাওভাবে বলছেন। সবাই তো এমনটা না-ও হতে পারেন।

কারও নাম বলতে চাই না। সমস্যাগুলো বলেছি, এটাই যথেষ্ট। কাদের নিয়ে বলছি, যাঁরা সংশ্লিষ্ট, তাঁরা ঠিকই বুঝতে পারবেন। আর মিডিয়ায় আমার অনেক শত্রু। দেখা যাবে, কোনো দিন আমাকে মেরে চলে যাবে। কাউকে নিয়ে কথা বলা খুব বিরক্তিকর আর আতঙ্কের।

আপনার একটা সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল। এরপর চলচ্চিত্রে আর কাজ করেননি। কেন?

প্রস্তাব তো অনেক পেয়েছি। কিন্তু যখন পরিচালক বলেন, প্রযোজকের সঙ্গে বসতে হবে, তাঁর সঙ্গে ডিনার করতে হবে। নাটকের সেটে অনেক সিনেমার পরিচালক দিনের পর দিন এসে বসে থাকতেন। কেউ কেউ ফোন করেছেন। ‘এই তো প্রেম’ সিনেমার জন্য নির্মাতা সোহেল আরমান অনেক অনুরোধ করেছেন। ‘আমি তোমার মনের ভেতর একবার ঘুরে আসতে চাই’ গানটা কতবার যে আমাকে শুনিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত কাজটা করতে পারিনি। বিন্দু করেছে।

পরে আফসোস হয়েছে?

আমি শুনেছি এই ছবিতে শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করতে হবে। তখন আমাকে অনেকেই বলেছেন, শাকিব খানের সঙ্গে সিনেমায় কাজ করতে গেলে স্যাক্রিফাইস করতে হয়। তাই করিনি।

এটা বিশ্বাসযোগ্য?